মহাকাশ অভিযান ঘিরে প্রতিযোগিতার বিকল্প ইতিহাস, বিষণ্ন মধ্যবয়সে বন্ধুত্ব, মার্কিন অপরাধজগতে মুসলিম-আমেরিকান দুই ভাইয়ের হাস্যরস কিংবা নিউইয়র্কের অন্ধকার গলিতে এক ক্লান্ত স্পাইডার-ম্যান—এ সপ্তাহে প্রধান স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলো হাজির হয়েছে বৈচিত্র্যময় সব গল্প নিয়ে। নতুন মৌসুম, জীবনীভিত্তিক ডকুসিরিজ এবং স্টাইলিশ সুপারহিরো নয়ার মিলিয়ে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে জমজমাট এক সপ্তাহ। দেখে নেয়া যাক, কোন সাতটি সিরিজ সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
স্পাইডার-নয়ার
মার্ভেলের স্পাইডার-ম্যানকে এতটা অন্ধকার, ক্লান্ত এবং স্টাইলিশ রূপে আগে খুব কমই দেখা গেছে। এখানে বেন রাইলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিকোলাস কেজ। মহামন্দার সময়কার নিউইয়র্কের হতাশ এক প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর, যে কিনা অতীতের ব্যর্থতা ভুলে স্পাইডার পরিচয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শহরের অপরাধজগত তাকে আবারো টেনে আনে সংঘাতে।
ব্রেন্ডন গ্লিসনের সিলভারমেন চরিত্রটি সিরিজে বাড়তি তীব্রতা যোগ করেছে। পুরো সিরিজজুড়ে নয়ার আবহ দারুণ হলেও নির্মাতারা পুরোপুরি সাদা-কালো ফরম্যাটে না যাওয়ায় খানিক আক্ষেপ থেকেই যায়।
স্ট্রিমিং: প্রাইম ভিডিও, ২৭ মে
আনটোল্ড ইউকে: ভিনি জোনস
ফুটবল মাঠের ‘হার্ডম্যান’ থেকে হলিউড অভিনেতা—ভিনি জোনসের জীবন যেন এক অদ্ভুত রূপান্তরের গল্প। ডকুমেন্টারিটি দেখায়, ফুটবল প্রতিভায় ঘাটতি নিয়েও কীভাবে ব্যক্তিত্ব ও ইমেজকে পুঁজি করে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। নিজের জীবন নিয়ে অকপট ভিনি কখনো মজার, কখনো আত্মমুগ্ধ—আর সেখানেই সিরিজটির আকর্ষণ।
স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স, ২৬ মে
অ্যাবট এলিমেন্টারি
স্কুলভিত্তিক জনপ্রিয় কমেডি-ড্রামাটি নতুন পর্ব নিয়ে আবার ফিরছে। গ্রেগরি ও জেনিনের ধীরগতির সম্পর্ক এবারও গল্পের কেন্দ্রে থাকবে। তবে সিরিজটি একই সঙ্গে তুলে ধরছে পাবলিক স্কুলের অর্থসংকট ও প্রশাসনিক চাপের বাস্তবতা। হাস্যরসের আড়ালে সামাজিক বার্তা দেয়ার দক্ষতাই সিরিজটির বড় শক্তি।
স্ট্রিমিং: ডিজনি প্লাস, ২৭ মে
দ্য ফোর সিজনস
বন্ধুর মৃত্যু মানুষকে বদলে দেয়, কিন্তু এই সিরিজের চরিত্ররা খুব বেশি বদলায়নি। টিনা ফে, ল্যাং ফিশার ও ট্রেসি উইগফিল্ডের নির্মিত সিরিজটির দ্বিতীয় মৌসুমে বন্ধুত্ব, শোক, মধ্যবয়সের সংকট আর হাস্যরস একসঙ্গে মিশেছে। স্টিভ ক্যারেলের চরিত্র নিকের মৃত্যুর পর সবাই নিজেদের মতো করে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে, আর সেই পথেই তৈরি হচ্ছে আবেগময় ও মজার সব মুহূর্ত।
স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স, ২৮ মে
ডেলি বয়েজ
স্টেরিওটাইপ ভেঙে ফেলার মজাদার এক উদাহরণ এ সিরিজ। মুসলিম-আমেরিকান দুই ভাই মির ও রাজ বাবার মৃত্যুর পর জানতে পারে, তিনি গোপনে মাদক সাম্রাজ্য চালাতেন। এরপর তাদের জীবন জড়িয়ে পড়ে অপরাধজগতের নানা অদ্ভুত ঘটনায়। সিরিজটি একদিকে যেমন স্মার্ট কমেডি, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েও খেলা করে চমৎকারভাবে।
স্ট্রিমিং: ডিজনি প্লাস, ২৮ মে
স্টার সিটি
মহাকাশে প্রতিযোগিতার ইতিহাস যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের চোখ দিয়ে দেখা হয়, তাহলে কেমন হতো? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে এই সিরিজ। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, পার্টির আনুগত্য আর ব্যক্তিগত ত্যাগ সব মিলিয়ে এটি অনেকটা চেরনোবিলের আবহ তৈরি করে। রাইস ইফান্স, অ্যালিস ইংলার্ট ও আনা ম্যাক্সওয়েল মার্টিনের অভিনয় সিরিজটিকে আরো শক্তিশালী করেছে।
স্ট্রিমিং: অ্যাপল টিভি প্লাস, ২৯ মে
রাফা
রজার ফেদেরার, নোভাক জোকোভিচ ও অ্যান্ডি মারের যুগে রাফায়েল নাদাল ছিলেন এক অনন্য চরিত্র। এ ডকুসিরিজে ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে নাদাল কথা বলেছেন খেলার বাইরে জীবন, পিতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। টেনিসপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে আবেগঘন এক অভিজ্ঞতা।
স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স, ২৯ মে