মোদির দফতর থেকে আসে ‘ধুরন্ধর’-এর ভাবনা, এমন অভিযোগে পরিচালক চুপ থাকলেও সরব অভিনেতা

অনুষ্ঠানে পরে ওঠে আসে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন— ‘ধুরন্ধর’-এর চিত্রনাট্য কি সত্যিই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এসেছে? জবাবে রাকেশ বেদী সেই দাবি উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, এমন সংলাপ কেউ লিখতে পারবে না। ছবিটি সফল হওয়ার পর কিছু মানুষ বলতে শুরু করল যে চিত্রনাট্য নাকি পিএমও থেকে লেখা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের সংলাপ কে লিখতে পারে? কেউ এমন ভাবতেও পারবে না

বলিউড সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ ও ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে তুমুল সাফল্য পেয়েছে। তবে শুরু থেকেই সিনেমা দুটি ঘিরে ‘প্রোপাগান্ডা’ তৈরির অভিযোগও রয়েছে। এমনকি একটি মহলে দাবি করা হয়, ‘ধুরন্ধর’-এর চিত্রনাট্যের ভাবনা নাকি এসেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দফতর থেকেই। এই বিতর্কে পরিচালক আদিত্য ধর চুপ থাকলেও মুখ খুললেন অভিনেতা রাকেশ বেদি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাকেশ জানান, চিত্রনাট্য পড়েই তিনি বুঝেছিলেন ছবিটি কেবল উত্তেজনাপূর্ণ নয়, এর মধ্যে রয়েছে গভীর গল্পও। তার কথায়, ‘আমি যখন দু-তিনবার চিত্রনাট্য পড়েছিলাম, তখনই বুঝেছিলাম, এতে শুধু টানটান উত্তেজনা নয়, একটি শক্তিশালী গল্পও রয়েছে।’

হাস্যরসাত্মক চরিত্রে জনপ্রিয় রাকেশ জানান, ছবিতে কয়েকটি জায়গায় হাসির মুহূর্ত যোগ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। সে প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি আদিত্যকে বলেছিলাম, কিছু জায়গায় হাসির মুহূর্ত যোগ করা যায়। প্রথমে ও একটু দ্বিধায় ছিল। পরে কাজ এগোতে থাকলে বিষয়টি ওরও ভাল লাগতে শুরু করে।’

অনুষ্ঠানে পরে ওঠে আসে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন— ‘ধুরন্ধর’-এর চিত্রনাট্য কি সত্যিই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এসেছে? জবাবে রাকেশ বেদী সেই দাবি উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এমন সংলাপ কেউ লিখতে পারবে না। ছবিটি সফল হওয়ার পর কিছু মানুষ বলতে শুরু করল যে চিত্রনাট্য নাকি পিএমও থেকে লেখা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের সংলাপ কে লিখতে পারে? কেউ এমন ভাবতেও পারবে না।’

রাকেশের বক্তব্য স্পষ্ট— প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ছবির চিত্রনাট্য লেখা হয়নি। তবে এই অভিযোগের উৎস কী, সে বিষয়ে তিনি বা অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কেউই বিস্তারিত কিছু জানাননি। অন্যদিকে, বিতর্ক নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি পরিচালক আদিত্য ধর।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির পর প্রোপাগান্ডার অভিযোগ আরো জোরালো হয়। সমালোচকদের দাবি, ছবিতে নোটবাতিলসহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন বক্তৃতার অংশ ব্যবহার করে পাকিস্তানবিরোধী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও ছবিটি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক কম হয়নি। এমনকি কেরালার বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ছবিটির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদের সমালোচনা করেছিলেন।

আরও