‘ভারত দেখিয়ে দিচ্ছে, সিনেমা হলই ভবিষ্যৎ’

স্বপ্ন, সময়, স্মৃতি ও মহাকাশকে ঘিরে একের পর এক আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন লেখক-পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান।

তবে তার নতুন সিনেমা দি ওডিসি নিয়ে নোলানের দাবি, এটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মহাকাব্যিক ও উচ্চাভিলাষী চলচ্চিত্রযাত্রা। সিনেমার প্রচারে ভারতে গেছেন নোলান। সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ও সিনেমার টিম।

শনিবার মুম্বাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী ও প্রযোজক এমা থমাস, অভিনেতা ম্যাট ড্যামন ও টম হল্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে নোলান জানান, গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত দি ওডিসি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন প্রযোজনা। একই সঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেন বহুদিন ধরেই তিনি তার একটি চলচ্চিত্র ভারতে উন্মোচন করতে চেয়েছিলেন।

নোলান জানান, আগের ভারত সফরগুলোয় তিনি দেশটির মানুষের সিনেমাপ্রীতি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। ২০২০ সালের ‘টেনেট’ সিনেমাটি নিয়ে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। সিনেমাটির কিছু অংশ মুম্বাইয়ে ধারণও করা হয়েছিল। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

তিনি বলেন, ‘‌এবার ভারতে আসতে পারা আমাদের বহু বছরের ইচ্ছা পূরণ হওয়ার মতো।’

নোলানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এমা থমাসও। তিনি বলেন, ‘মানুষ আর সিনেমা হলে যাচ্ছে না, এ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ভারত আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, সিনেমার ভবিষ্যৎ এখনো প্রেক্ষাগৃহেই।’ গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীর একদিন পর তিনি বলেন, ‘‌আমাদের প্রতিটি সিনেমারই নিজস্ব চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু এ সিনেমায় যেন একসঙ্গে অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।’

বিভিন্ন দেশে ধারণ করা এ সিনেমায় রয়েছে অসংখ্য বিশালাকৃতির সেট-পিস, যার প্রতিটির প্রস্তুতিতে লেগেছে কয়েক মাস। এমা থমাস বলেন, ‘নোলানের আগের অনেক সিনেমায় হয়তো একটি জটিল দৃশ্যকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নিতে হতো, কিন্তু দি ওডিসিতে এমন দৃশ্য এসেছে একের পর এক। একটি দৃশ্য শেষ করে যখন মনে হতো বড় একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তখনই বুঝতে পারতাম পরের সপ্তাহে আরো বড় একটি দৃশ্য আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’

শুধু নির্মাণের জটিলতাই নয়, সিনেমাটির আরেকটি বড় শক্তি ছিল আন্তর্জাতিক কলাকুশলীদের নিবেদন। মরক্কো, গ্রিস, ইতালি, আইসল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বিশাল ইউনিটকে নোলান বারবার ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন। সিনেমায় টেলিম্যাকাস চরিত্রে অভিনয় করা টম হল্যান্ড জানান, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগেই তিনি সিনেমাটির বিশালতা অনুভব করেছিলেন। সিনেমার ওডিসিয়াস চরিত্রে অভিনয় করা ম্যাট ড্যামন জানান, হলিউডে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও এ প্রযোজনা তাকে বিস্মিত করেছে। ট্রয় নগরীর পতন নিয়ে একটি দৃশ্যের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, চারপাশে জ্বলন্ত ভবন, হাজারো এক্সট্রা শিল্পী এবং আগুনের মধ্য দিয়ে ছুটে চলা অভিনেতাদের মাঝে দাঁড়িয়ে তাকে অভিনয় করতে হয়েছে। দৃশ্যটি শেষ হওয়ার পর সিনেমার অস্কারজয়ী চিত্রগ্রাহক হয়টে ভ্যান হয়টেমা হেসে তাকে মনে করিয়ে দেন, এত পরিশ্রম করে ধারণ করা দৃশ্যটি আসলে সিনেমার একটি ফ্ল্যাশব্যাক মাত্র।

তবে সিনেমাটির বিশাল আয়োজনের চেয়েও গল্পের আবেগী গভীরতাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ড্যামন।

দি ওডিসি নোলানের ক্যারিয়ারে প্রযুক্তিগত দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটিই তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা সম্পূর্ণভাবে আইম্যাক্স ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। নোলান বলেন, ‘‌ক্যামেরা প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন পুরো চলচ্চিত্র আইম্যাক্সে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে, অথচ অভিনয়ের সূক্ষ্মতাও অক্ষুণ্ন রাখা গেছে। আমরা দর্শককে যতটা সম্ভব নিমগ্ন ও বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা দিতে চাই।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও