দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জনা নায়াগান’ সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। এর আগে ছবিটিতে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)।
সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ‘এ’ বা প্রাপ্তবয়স্কদের সনদ দিয়েছে। ৯ জুলাই সনদ পাওয়া ছবিটির দৈর্ঘ্য ৩ ঘণ্টা ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড।
সনদ অনুযায়ী, মুক্তির আগে ছবিতে মোট ১২টি পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক ও দেশটির সংবিধানের খসড়া কমিটির প্রধান ড. বি আর আম্বেদকরের নাম থাকা একটি সংলাপ ও দৃশ্যে সংশোধন। একটি বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা আম্বেদকরের ছবি পরিবর্তন করা হয়েছে।
সিনেমায় ‘আম্বেদকর... টু... টিভিকে সাট্টাম’ সংলাপটি বদলে দেয়া হয়েছে এবং অডিও ও ভিডিও—উভয় ক্ষেত্রেই ‘টিভিকে’ শব্দটি মিউট ও সংশোধন করা হয়েছে। টিভিকে হলো বিজয়ের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সংক্ষিপ্ত নাম।
এছাড়া একটি দৃশ্যে ভারতের জাতীয় পতাকা দেখানো অংশ বাদ দিতে বলেছে সিবিএফসি। সঙ্গে একাধিক শব্দও মিউট করা হয়েছে।
আরেকটি পরিবর্তনে ‘অপারেশন মেলুহা’-সংক্রান্ত সংলাপে ব্যবহৃত ‘ওম’ শব্দটি সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। একই দৃশ্যে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি নিয়ে থাকা সংলাপও মিউট বা পরিবর্তন করা হয়েছে।
সেন্সর বোর্ড আরো নির্দেশ দিয়েছে, জেলা প্রশাসকের (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর) কার্যালয়ের একটি ব্যাজকে অসম্মানজনকভাবে নিচে নামানোর দৃশ্যটি সরিয়ে নতুন দৃশ্য ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া কিছু সংলাপ মিউট করতে বলা হয়েছে। একটি শিশুকে আগুনে পোড়ানোর দৃশ্য বাদ দিয়ে অন্য দৃশ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
সবশেষে ছবিতে যেখানে যেখানে ‘শীলা রানি’ নামটি রয়েছে, সেগুলো পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ছবি থেকে ২০ সেকেন্ডের দৃশ্য বাদ এবং ১০ সেকেন্ডের দৃশ্য প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের পরও ছবিটির মোট দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘জনা নায়াগান’ গত ৯ জানুয়ারি মুক্তির কথা ছিল। তবে ছাড়পত্র না পাওয়ায় মুক্তি পিছিয়ে যায়। নির্মাতারা মুক্তির নতুন তারিখ ঘোষণা না করলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিনেমাটিতে বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল ও মমিথা বাইজু। ‘জনা নায়াগান’কে অভিনেতা বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এ সিনেমার পর তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেছেন। আর রূপালি পর্দার গল্পের মতোই এখন তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।