সবাই মিলে সাম্যের দেশ গড়তে চাই

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। তাদের সমর্থনে মাঠে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ করেছেন এ অভিনেত্রী।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন তাদের সমর্থনে মাঠে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ করেছেন অভিনেত্রী। শিক্ষার্থীদের দেখানো রূপরেখা দিকনির্দেশনা মেনে দেশটাকে একটি গণতান্ত্রিক দেশে রূপান্তর করবেন এমন আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ, তাদের বিজয় ও নিজের বর্তমান কাজ নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু থেকেই আপনি ছিলেন। বিজয় পেয়েছেন, কেমন লাগছে?

সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনায় তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, বিজয় আমাদের সবার। এটা ভীষণ আনন্দের গৌরবের। আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকব। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার সহমর্মিতা। আন্দোলনে যারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন, তাদের প্রতিও থাকছে সহমর্মিতা। তাদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করছি। যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

তাদের আন্দোলনে আপনাকে নাড়া দেয়ার কারণ কী ছিল?

কারো মধ্যে যদি মনুষ্যত্ববোধ থেকে থাকে তাহলে গত সরকারের নৈরাজ্য, সহিংসতা ভয়ংকর দুর্নীতি দেখে চুপ থাকা একটা সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়। যেভাবে রাষ্ট্র মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, সেটা দেখার পর বাসায় বসে বসে চুপ থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমার একটা সন্তান আছে, আমি নিজে বাংলাদেশের নাগরিক। আমার মনে হয়েছে আমি নিরাপদ নই। যখন আবু সাঈদ তার বুক পেতে দাঁড়িয়ে গেছে তার অধিকারের জন্য, তখন মনে হয়েছে সে পারলে আমরা কেন পারব না। কাজেই ছাত্ররা আমাদের পথ দেখিয়েছে। সে পথ ধরেই তাদের সঙ্গে আমার রাস্তায় নামা।

গত কয়েক দিনে দেশে যে সহিংসতা দেখা গেছে, এটা নিয়ে আপনি কী বলবেন?

গত তিন-চারদিন আমরা একেবারেই অভিভাবকশূন্য ছিলাম। পুরো দেশকে বিপদে রেখে আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেছেন। তার তৈরি করা প্রশাসন আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি। বাড়িতে উপাসনালয়ে আক্রমণ হয়েছে, এটা অবশ্যই লজ্জার এবং আমি ধিক্কার জানাই। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমরা সবাই একই দেশের। সবাই মিলে সাম্যের একটা দেশ গড়তে চাই। কাজেই আমি আশাবাদী, শিক্ষার্থীরা যে রূপরেখা দিয়েছে সে অনুযায়ী আমরা যদি এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে একটি গণতান্ত্রিক দেশ খুব তাড়াতাড়িই পেতে যাচ্ছি।

আগামীতে দেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের কী ভূমিকা থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

শিক্ষার্থীরাই বেশি ভূমিকা রেখেছে। তারা আমাদের স্বাধীন করেছে। তারাই আমাদের পথনির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী যদি সরকার কাজ করে এবং একটি গণতান্ত্রিক দেশ আমাদের উপহার দিতে পারে, সেটাই আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় সফলতা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপে আমি গর্ববোধ করি এবং আমি আশাবাদী, তারা আমাদের দেশটাকে সুন্দর করে ঢেলে সাজাবে। আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবকিছুতেই একমত এবং তাদের সঙ্গে আছি। প্রথম থেকেই ছিলাম, পরবর্তী সময়ও থাকব। তাদের দেখানো রূপরেখা দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলব। আমাদের দেশটাকে একটি গণতান্ত্রিক দেশে রূপান্তর করব।

শোবিজ অঙ্গনে কী কী সংস্কার করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

এখানে প্রচুর সংস্কার প্রয়োজন। আমি প্রথমেই বলতে চাই, জায়গা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে, আমাদের মিডিয়ায় কিছু প্রডাকশন হাউজপ্রযোজক, পরিচালক কিছু অভিনয়শিল্পী আছেন যাদের আচরণ খুবই স্বৈরাচারী। তারা ভীষণভাবে মিডিয়াকে প্রভাবিত কলুষিত করেছে। তাদের হাত থেকে মিডিয়াকে রক্ষা করতে হবে। শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি নেই। রাষ্ট্র থেকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। আমাদের ইনস্টিটিউশন লাগবে। এছাড়া আরো অনেক ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

বর্তমানে আপনার কাজের কী খবর?

কাজ নিয়ে এতদিন ভাবতেই পারিনি। বেঁচে থাকব কিনা সেটা নিয়ে এক ধরনের প্রশ্ন ছিল। কারণ আমাকে নানা রকম জীবননাশের হুমকি দেয়া হয়েছিল। অ্যাসিড ছুড়বে বলা হয়েছিল। এতদিন আমার কাজ নিয়ে একেবারেই মাথায় কিছু ছিল না। সামনে একটি সিনেমার কাজ আছে। আগস্টে শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়তো হবে না। আগামী সেপ্টেম্বরে কাজটা শুরু করব আশা করছি।

এশা মার্ডার কর্মফল সিনেমার কী খবর?

এশা মার্ডার কর্মফল নামে একটি সিনেমায় কাজ করছি। সিনেমায় সংশ্লিষ্ট যারা, তারা নিয়ম মেনে কাজ করেন না। আমি অনেক কিছুর জন্য টিমের ওপর বিরক্ত। তাদের মধ্যে অনেক ধরনের অনিয়ম আছে। যেটা আমার পছন্দ নয়। সিনেমাটির কিছু কাজ এখনো বাকি। খুব শিগগির তারা কাজ শেষ করবে। আমি নিশ্চিত নই যে তারা পারবে কিনা। সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে সেটাও আমি জানি না।

সিনেমাটিতে পুলিশ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, নতুন চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা কেন হলো?

আমি সবসময় যেকোনো নতুন চরিত্রে কাজ করতে পছন্দ করি। আমার পুরো ক্যারিয়ারে পুলিশ চরিত্রে অভিনয় করিনি। আমার ইচ্ছা ছিল রকম একটা চরিত্র, যেখানে আমি মূল চরিত্রটি করব। চরিত্র আমার কাছে এসেছে, তাই করেছি। আমার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি সেরাটা দেয়ার।

ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারেন?

ভিন্ন চরিত্র আমাকে সবসময় আকর্ষণ করে। আমার কাছে মনে হয়, ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করতে আমি আকর্ষণ বোধ করি। এটা এক ধরনের ভালো লাগা। ভালো লাগাটাকেই কাজে লাগাতে চাই। এত বছর আমি বুঝতে পেরেছি যে আমি আসলে অভিনয়টাকে ভালোবাসি, অভিনয়টাই করে যেতে চাই। দেখা যাক, কতটুকু পারি।

বাঁধন এখনো চির তরুণী, কীভাবে সম্ভব?

আমার যে বয়স, এটাকে উদযাপন করি। আমার যত ত্রুটি আছে সেটাকেও উদযাপন করি। যার জন্য আপনার কাছে মনে হয়েছে আমি চির তরুণী। আসলে এমন কিছু নয়। আমার ৪১ বছর বয়স হবে আগামী অক্টোবরে। কিন্তু আমি মনের দিক থেকে তরুণী।

আরও