ডলি পার্টন ছিলেন পপ কালচারের স্বতন্ত্র স্বর

কান্ট্রি সংগীতের জগতে ডলি পার্টন কেবল একজন শিল্পী নন, বরং এক অনন্য অধ্যায়। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু গায়িকা ও গীতিকার হিসেবেই নয়, অভিনয়, ব্যবসা, লেখালেখি ও সমাজসেবায়ও রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি নিজের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ ধরে রেখেছেন তিনি। বহুমাত্রিক এ সাফল্যই ডলি পার্টনকে মার্কিন জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী প্রতীকে পরিণত করেছে।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সেভিয়ারভিলের কাছে জন্ম ডলি রেবেকা পার্টনের। ১২ ভাইবোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা তার শৈশব কেটেছে আর্থিক সংকটের মধ্যে। তবে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই সংগীতের হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে স্থানীয় রেডিও ও টেলিভিশনে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৩ বছর বয়সেই প্রকাশ হয় তার প্রথম রেকর্ড।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ পথচলা। ষাটের দশকে কান্ট্রি সংগীতে পরিচিতি তৈরি হলেও সত্তরের দশকে এসে ডলি পার্টনের নাম ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কণ্ঠের পাশাপাশি গীতিকার হিসেবেও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন তিনি। তার লেখা ও গাওয়া ‘জোলিন’, ‘কোট অব মেনি কালার্স’, ‘নাইন টু ফাইভ’ ও ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ গানগুলো তাকে সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ী আসন গড়ে দেয়। বিশেষ করে আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ গানটি তার নিজের কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়ার পর হুইটনি হিউস্টনের গাওয়া সংস্করণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও সাফল্য পেয়েছেন পার্টন। ‘নাইন টু ফাইভ’, ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউজ ইন টেক্সাস’ ও ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কখনো কোনো ট্রেন্ড অনুসরণ করেননি বরং স্বতন্ত্র পোশাক, সাজসজ্জা, রসবোধ ও প্রকাশভঙ্গিও ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তার নিজস্ব ব্র্যান্ডের অংশ।

তবে ডলি পার্টনের সাফল্য কেবল বিনোদনজগতের অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেখিয়েছেন, একজন শিল্পীর সাফল্য শুধু তার জনপ্রিয়তা কিংবা বিক্রি হওয়া গানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না; মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারলেন, সেটিও সাফল্যের বড় মাপকাঠি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও