মার্ভেলের ভিন্ন চরিত্রে থাকতেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র

২০১৯ সালে যখন ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তি পেল, নির্মাতারা প্রত্যাশা করেছিলেন সফলতার। কিন্তু বিশ্বজোড়া প্রতিক্রিয়া চোখ কপালে তুলে দিল চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের।

২০১৯ সালে যখন ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তি পেল, নির্মাতারা প্রত্যাশা করেছিলেন সফলতার। কিন্তু বিশ্বজোড়া প্রতিক্রিয়া চোখ কপালে তুলে দিল চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের। ৩৫-৪০ কোটি ডলার বাজেট নিয়ে বক্স অফিসে সর্বকালের ব্যবসাসফল সিনেমায় ঠাঁই করে নেয় এটি। সিনেমার এ মহাকাব্যিক সফলতার পেছনে অন্যতম অনুঘটক ছিলেন আয়রনম্যান চরিত্রে থাকা রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। ২০০৮ সালে নির্মিত আয়রনম্যানের চরিত্রের মধ্য দিয়ে মার্ভেল দুনিয়ায় হাতেখড়ি ঘটে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের। আয়রনম্যান তথা টনি স্টার্ক হিসেবে পরবর্তী সময়ে নিয়মিতভাবেই তাকে দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি পরিচালক জন ফ্যাভরো তুলে ধরলেন চমকপ্রদ এক তথ্য। আয়রনম্যানে কাজ করার আগে ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’-এর জন্য ২০০৫ সালে অডিশন দিয়েছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। জন বলেন, ‘রবার্টের সঙ্গে আয়রনম্যান করার আগেই আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল। ফ্যান্টাস্টিক ফোরের ডক্টর ডুম কিংবা তেমন কোনো চরিত্রের জন্য সে অডিশন দিয়েছিল।’ 

জন ফ্যাভরো মনে করেন, রবার্ট ডাউনি জুনিয়রই ধাঁধার সে বিন্দু, যার জন্য আয়রনম্যান ঠিকঠাক কাজ করেছে। প্রথম থেকেই তার চোখে-মুখে বারুদ ছিল। ফ্যাভরো বলেন, ‘তাকে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার সব কাজ সহজ হয়ে গেল। কারণ চরিত্রের জন্য যা দরকার, তা তার মধ্যে ছিল। সে-ই সিনেমার মূল আকর্ষণ। তারপর এক-এক করে অন্যরাও স্বাক্ষর করতে থাকল। ক্রমে বিষয়টি আরো সহজ ও চমকপ্রদ হয়ে উঠল।’  

এদিকে আয়রনম্যানের বিপুল সফলতা ও বহুমাত্রিকতার জন্য মার্ভেলের প্রেসিডেন্ট কেভিন ফিজ আয়রনম্যানের পরিচালক ফ্যাভরো ও অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়রকে কৃতিত্ব দেন। ফিজ বলেন, ‘জন ও রবার্ট সিনেমাটিতে যেন একটি দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। সত্যি বলতে মার্ভেল এখন যতদূর এসেছে, তার পেছনে এ দুজনের বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা কৃতিত্বের দাবিদার। পরবর্তী সিনেমাগুলোয় আমি বারবার মনে করেছি।’

টনি স্টার্ক ও আয়রনম্যান শুরুর পর ২০১১ সালে ক্যাপ্টেন আমেরিকা মুক্তি পায়। সেখানে দেখা যায় ক্রিস ইভানসকে। ক্রিস ইভানস ফ্যান্টাস্টিক ফোরে অভিনয় করেছেন হিউম্যান টর্চ হিসেবে। যদি রবার্ট ডাউনি এ সিনেমায় কাজ শুরু করে দিতেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আয়রনম্যান চরিত্রে তার প্রভাব পড়ত। হয়তো তখন তিনি আয়রনম্যান হিসেবেই থাকতেন না। অথচ মার্ভেল দুনিয়ার ১০টি সিনেমায় আয়রনম্যান হিসেবে দেখা যায় তাকে। ২০১৯ সালে অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেমে তার মহাকাব্যিক আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মার্ভেল যাত্রা। ফলে টনি স্টার্ক চরিত্রটিকে মার্ভেলে ফিরিয়ে আনার কোনো আশা নেই। ভ্যানিটি ফেয়ারের সঙ্গে দেয়া সাক্ষাৎকারে কেভিন ফিজ বলেন, ‘আমরা সে মুহূর্তকে জিইয়ে রাখতে চাই। চাই না সেখানে হাত দিতে। মুহূর্তটুকুর জন্য সবাই প্রচুর পরিশ্রম করেছে। হুট করে তা বদলানোর সিদ্ধান্ত নিতে চাই না কোনোভাবেই।’ 

সূত্র: ডেডলাইন

আরও