সত্তরের দশক থেকে অভিনয় করে যাচ্ছেন শাবানা আজমী। ক্যারিয়ারে ৫০ পেরিয়েও এতটুকু শ্লথ হয়নি তার জয়রথ। পরিচালক ও দর্শকের কাছে এখনো তিনি সমান প্রাসঙ্গিক ও বরণীয়। ৭২ বছর বয়সে এসেও নিজেকে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন বর্ষীয়ান এ অভিনেত্রী। প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় দুই বছরে নতুন দুই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পরিচালকদ্বয় তার জন্য উন্মোচন করেছেন সম্ভাবনার নতুন দ্বার। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, রোলান্ড জোফে, গৌতম ঘোষ ও মহেশ ভাটের মতো অনেক বড় পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন আজমী। সে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ ও করণ জোহরের নাম।
স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘হ্যালো’ সিনেমায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাবানা আজমী। স্পিলবার্গের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭৬ বছর বয়সেও শিশুর মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নেয়ার উদ্যম, উৎসাহ ও আগ্রহ আছে স্টিভেন স্পিলবার্গের। সবসময়ই তিনি নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন করছেন। তার খ্যাতি নিয়ে তিনি জাবর কাটেন না।’
করণ জোহর প্রসঙ্গে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘করণ জোহরকে অনেকেই কেবল একজন পার্টি করে বেড়ানো চটকদার জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মনে করেন। সে যে এমন একজন প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতা, তা জেনে আমি সম্পূর্ণ বিস্মিত হয়েছি। এত বেশি অভিনেতাকে একটি ফ্রেমে পরিচালনা করা সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু “রকি আউর রানি কি প্রেম কাহানি’’ সিনেমায় প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে সে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার করেছে।’ এ সিনেমায় গ্ল্যামারের ব্যাপারটিও তার জন্য বাড়তি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করেছে। এ প্রসঙ্গে শাবানা বলেন, ‘কোনো সিনেমায় নিজেকে এতটা গ্ল্যামারাসভাবে উপস্থাপনের সুযোগ হয়নি। আমার মনে আছে, একবার আমরা দিল্লিতে সিনেমার কাজ করছিলাম। সেদিনের কাজ শেষ করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল আমার। অভিনয়ের জন্য যে শাড়ি ও অলংকার পরা ছিল, তা নিয়েই আমি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের ডিজাইনার মনীষ মালহোত্রা বিস্মিত হলো। সে বলল, “আপনি কস্টিউম অলংকার পরে কীভাবে যাবেন? অন্তত কিছু সত্যিকার অলংকার আপনাকে দেয়ার অনুমতি দিন।” কিন্তু আমি যেভাবে ছিলাম, সেভাবেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আর সন্ধ্যাজুড়ে আমি আমার সৌন্দর্যের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলাম।’
সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা