বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, টাইগারের আগে আমির খান ও সালমান খানের বাড়িতে নজরদারি চালিয়েছিল হামলাকারীরা। এমনকি ইমরান হাশমির বাড়িতেও রেইকি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তাদের।
তবে ‘মার্ডার’ তারকার বাড়িটি খুঁজে না পাওয়ায় সেখানে নজরদারি চালাতে পারেনি শুটাররা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘সালমান বরাবরই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের লক্ষ্য ছিলেন। এবার আমির খানের বাড়িতেও রেইকি করতে বলা হয়েছিল। তবে আমির যে দক্ষিণ মুম্বাইয়ে চলে গেছেন, তা শুটাররা জানত না। এ কারণে তারা তাকে খুঁজে পায়নি।’
তদন্তকারীদের দাবি, ইমরান হাশমির বাড়িতেও নজরদারি চালানোর নির্দেশ পেয়েছিল অভিযুক্তরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খোঁজখবর নিয়েও অভিনেতার বাড়ি খুঁজে পায়নি তারা। পরে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাইগারের একটি রিল দেখে হামলাকারীরা জানতে পারে, প্রতি রোববার জুহুতে ফুটবল খেলতে যান অভিনেতা। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এ ঘটনায় হরিয়ানার সোনিপত থেকে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন রাধা বর্মা, ববীত রাও, কুণাল জমিন সিং ও সুমিত সরোলিয়া।
পুলিশ আদালতে দাবি করেছে, গ্রেফতার চারজন হামলাকারীদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অভিযুক্ত কুণাল জমিন সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অনিল পণ্ডিতের। নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে অনিলই হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, কুণাল একটি পিস্তল দিয়েছিলেন রাধা বর্মাকে। পরে ১৭ অক্টোবর রাধা ও ববীত শুটার রেহান আনসারির সঙ্গে দেখা করে তার হাতে পিস্তলটি তুলে দেন। টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর অস্ত্রটি ফেরতের নির্দেশও দেয়া হয়েছিল।
হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান টাইগার। তবে গুলিবিদ্ধ হন তার গাড়িচালক ও এক ভ্লগার। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।