রবীন্দ্রসংগীতের জন্য চড়া পারিশ্রমিক চাইলেন অরিজিৎ সিং

রবীন্দ্রনাথের গান বলেই শিল্পীরা এর ব্যবসায়িক দিক বাদ দিয়েছেন। এখানে মূল লক্ষ্য হিন্দিতে নতুন করে রবীন্দ্রসংগীত প্রকাশ করা। কিন্তু অরিজিৎ সে বিষয়টি বিবেচনায় আনেননি। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মুম্বাইয়ের সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে হিন্দিতে অনুবাদ করা হচ্ছে ছয়টি রবীন্দ্রসংগীত। এ কাজে যুক্ত আছেন বাবুল সুপ্রিয়। গান অনুবাদের দায়িত্ব পেয়েছেন গীতিকার অমিতাভ ভট্টাচার্য। বিশেষ এ অ্যালবামে রবীন্দ্রনাথের লেখা গানগুলোর পটভূমি বর্ণনা করবেন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। গান গাইবেন শান, বাবুল সুপ্রিয়, শ্রেয়া ঘোষাল ও মধুমন্তী বাগচি। তবে অ্যালবামের দুটি গানের জন্য চড়া পারিশ্রমিক চেয়েছেন অরিজিৎ সিং।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, অরিজিৎকে একটি একক ও একটি দ্বৈত গানের প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর তার মুখপাত্র জানান, প্রতি গানের জন্য দেড় কোটি রুপি পারিশ্রমিক লাগবে। এ অংক শুনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হন বাবুল সুপ্রিয়। প্রথমত, অরিজিৎ অনেক বেশি পারিশ্রমিক চেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, অন্য শিল্পীরা ন্যায্য পারিশ্রমিকের চেয়ে অনেক কম টাকায় গান গেয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথের গান বলেই শিল্পীরা এর ব্যবসায়িক দিক বাদ দিয়েছেন। এখানে মূল লক্ষ্য হিন্দিতে নতুন করে রবীন্দ্রসংগীত প্রকাশ করা। কিন্তু অরিজিৎ সে বিষয়টি বিবেচনায় আনেননি। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গানগুলো সফল হলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিল্পীদের রয়্যালটি দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অরিজিতের চাওয়া পারিশ্রমিক নিয়ে সংগীত মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বাবুল সুপ্রিয়

ছবি: শিল্পীর ফেসবুক

ভারতীয় গণমাধ্যমকে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘এটা কোনো বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়। রবীন্দ্রসংগীতের ঐতিহ্য বজায় রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য। প্রতিটি গানের জন্য দেড় কোটির পারিশ্রমিক চাওয়াটা আমার কাছে অন্যায় মনে হয়েছে। আমরা নিজেরাও কম পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। অরিজিৎ খুব সাদামাটা জীবনযাপন করে, তাই এত বড় অংকের পারিশ্রমিক চাওয়াটা মেলাতে পারছি না। বিশেষ করে, যখন গান গাওয়ার ব্যাপারে ওর সঙ্গে ফোনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল!’

তিনি আরো বলেন, ‘মুম্বাইয়ের যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এটি রেকর্ড করছে, তার কর্ণধার অরিজিতের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। রয়্যালটি দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে রাজি করানো যায়নি।’

অ্যালবাম প্রসঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘আমরা খুবই আশাহত। গত সপ্তাহে মুম্বাই গিয়ে শ্রেয়ার দুটি গান, শান ও মধুমন্তীর গান ডাব করেছি। সব বাঙালি শিল্পীকেই এ প্রকল্পে চেয়েছিলাম। তাই অমিতাভ ভট্টাচার্যকে দিয়ে গানগুলো লিখিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি, যাতে রবীন্দ্রসংগীতের হিন্দি সংস্করণ করলেও মূল ভাব পরিবর্তন না হয়।’

তিনি অরিজিতের প্রসঙ্গে বলেন, ‘অরিজিৎ খুবই সাধারণ জীবনযাপন করে, স্কুটারে ঘুরে বেড়ায়, এমন ছবি-ভিডিও দেখি। তাহলে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে এত বড় পারিশ্রমিক চাওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না। আমাদের কাছে রবীন্দ্রসংগীত সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার জায়গায় রয়েছে। তাই এ গানগুলো অরিজিৎ ছাড়া কল্পনা করতেও কষ্ট হচ্ছে।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আরও