ছয় মাসে বলিউডের ভালো-মন্দ সিনেমা

এগিয়ে বিদ্যা বালান ব্যর্থ ভাইজান

বছরের প্রথম ছয় মাস শেষ হয়েছে। মহামারীতে দুনিয়ার বিনোদন জগৎ এমনিতেই খারাপ সময় পার করছে। যদিও বছরের শুরুতে করোনা পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল দুনিয়ার বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিগুলোয়।

বছরের প্রথম ছয় মাস শেষ হয়েছে। মহামারীতে দুনিয়ার বিনোদন জগৎ এমনিতেই খারাপ সময় পার করছে। যদিও বছরের শুরুতে করোনা পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল দুনিয়ার বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিগুলোয়। বলিউডও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু বলতেই হয় খুব একটা সফল হতে পারেননি মুম্বাইয়ের তারকারা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলিউডের প্রথম ছয় মাসের একটি খতিয়ান প্রকাশ করেছে, যেখানে সময়ে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে। দেখে নেয়া যাক সমালোচকদের দৃষ্টিতে ২০২১-এর প্রথম ভাগে বলিউডের ভালো-মন্দ ছবির তালিকাটি

সেরা ছবি

. শেরনি: বিদ্যা বালানের শেরনি মুক্তির পর থেকেই ইতিবাচক রিভিউ পেয়েছে। গ্ল্যামারের চেয়ে অভিনয় দক্ষতাই যে বড় শক্তি, সেটা আরেকবার প্রমাণ করেছেন বিদ্যা বালান। বন বিভাগের কর্মকর্তা বিদ্যা ভিনসেন্টের চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। বন, মানুষের লোভ আর সেই জটিলতায় সৃষ্ট এক পরিস্থিতিতে বিদ্যার লড়াই থ্রিলারের সঙ্গে সঙ্গে দিয়েছে ভাবনা খোরাক। নিউটনের পর পরিচালক অমিত মাসারকার আবারো আলোচনায় ফিরেছেন ছবি দিয়ে।

. সন্দীপ অর পিংকি ফারার: দিবাকর ব্যানার্জির পরিচালনায় ডার্ক কমেডিতে অভিনয় করেছেন পরিণীতি চোপড়া অর্জুন কাপুর। ছবির শুরুতে আততায়ীর হাত থেকে পরিণীতি বা সন্দীপকে উদ্ধার করে পিংকি। ছবির পিংকির চরিত্রে দেখা যায় অর্জুন কাপুরকে। এরপর গল্পের অনেকগুলো স্তর উন্মোচিত হতে থাকে; শ্রেণীবৈষম্য, করপোরেট লোভ, নারীবিদ্বেষের মতো বিষয় নিয়ে এগোতে থাকে কাহিনী। ছবির শুরুর দৃশ্যতেই ছিল নাটকীয়তা এবং তারপর কাহিনী এগোতে থাকে অপ্রত্যাশিতভাবে, যা দর্শককে বারবার চমকে দেয়।

. নেইল পলিশ: অর্জুন রামপাল মানব কউল অভিনীত থ্রিলার দর্শক অনেক দিন মনে রাখবে। ছবির শেষ দৃশ্য পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখতে পারা ছবির সার্থকতা। মানবমনের অজানা স্তরের এমন উপস্থাপনা বলিউডে সহসা দেখা যায় না। মার্ডার মিস্ট্রি কাহিনীতে একের পর এক চমক দিয়ে দর্শককে টেনে রাখে। মানব কউলের অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়া ত্রিভঙ্গ রামপ্রসাদ কি থেরভি দুটোকেও সেরা ছবির তালিকায় রেখেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

বাজে ছবি

. রাধে: সালমান খানের সিক্স-প্যাক সবসময়ই ছবিকে উদ্ধার করতে পারবে, তেমনটা যে হওয়ার নয় তা স্পষ্ট হলো রাধে ছবিতে। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া রাধে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আইএমডিবি ছবিটিকে দিয়েছে মাত্র এক স্টার। ফলে ছবিটি সালমান খানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে ছবিগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বলিউডের ভাইজানের দাবাং আর ওয়ান্টেডের রিমিক্স এবার আর কাজ করেনি।

. দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেইন: একই নামে হলিউডের আলোচিত থ্রিলারের হিন্দি রিমেক সফল হয়নি। এমিলি ব্লান্টের চরিত্রে সফল হননি পরিণীতি চোপড়া।

. সর্দার কি গ্রান্ডসন: ছবির ট্রেলার বেশ আগ্রহ জাগালেও মুক্তির পর পর্দায় সন্তুষ্ট করতে পারেনি। দুর্বল চিত্রনাট্য, কাহিনীতে অবেগের সমন্বয় না থাকা ছবির ব্যর্থতার কারণ বিবেচনা করছেন সমালোচকরা।

. দ্য বিগ বুল: অভিষেক বচ্চন আবারো ব্যর্থ হলেন। ১৯৯২ সালে একই রকম গল্প নিয়ে ছবি হয়েছিল। সেটিকেই এগিয়ে রাখছেন সমালোচকরা। অভিষেকের ছবির শেষ হয়েছে মেলোড্রামা দিয়ে, যা একেবারেই পছন্দ হয়নি কারো।

বক্সঅফিসে কিছুটা ভালো করলেও জাহ্নবী কাপুর, রাজকুমার রায়ের রুহি ছবিটিকে বাজে ছবির তালিকাতেই রাখছেন সমালোচকরা।

 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও