একটি টাইপরাইটার, কয়েকটি হীরার আংটি, ব্যালে ফ্ল্যাট জুতা—সাধারণ চোখে এগুলো নিছক ব্যক্তিগত সংগ্রহ। কিন্তু ফরাসি অভিনেত্রী ব্রিজিত বার্দোর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এসব সামগ্রী এবার হয়ে উঠেছে তার স্মৃতি ও উত্তরাধিকারের অংশ। সোমবার প্যারিসের হোটেল দ্রুওতে নিলামে তোলা হয় তার ব্যবহৃত প্রায় ৩০০টি সামগ্রী। নিলাম থেকে আয় হয়েছে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ইউরোর বেশি, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বেশি।
অভিনয়, সংগীত ও মডেলিংয়ে স্বাক্ষর রেখে ব্রিজিত বার্দো ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে হয়ে উঠেছিলেন পপ সংস্কৃতির এক অন্যতম আইকন। তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে দার্শনিক সিমন দ্য বোভোয়ারের ১৯৫৯ সালের প্রবন্ধ দ্য লোলিটা সিনড্রোমে বার্দোকে ‘নারী ইতিহাসের লোকোমোটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাকে ফ্রান্সের অন্যতম স্বাধীন নারী হিসেবে তুলে ধরেন। প্রায় ৪৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ৬০টির বেশি গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে রিল লাইফে বার্দোর উপস্থিতি ছিল সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে এক সাহসী বিপ্লব। জঁ-লুক গদারের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘কনটেম্পট’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে ওঠা এ অভিনেত্রী তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। সেন্সরশিপের কড়াকড়ির যুগেও তার অকপট যৌনতা ও শরীরী আবেদন আমেরিকান বক্স অফিসে ফরাসি সিনেমার নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল।
তবে খ্যাতির চূড়ায় থাকতেই সেলুলয়েডের জগৎকে বিদায় জানিয়ে জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেন বার্দো। নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করেন অবলা প্রাণীদের অধিকার রক্ষায় এবং নিজের নামেই গড়ে তুলেছিলেন একটি ফাউন্ডেশন। তার সে দীর্ঘ লড়াই থামে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
তার বর্ণাঢ্য জীবনের ব্যক্তিগত সংগ্রহ নিয়ে আয়োজিত নিলামের গল্প শুধু স্মৃতিচিহ্নের হাতবদল নয়। বিক্রি হওয়া সামগ্রীগুলোর পুরো অর্থই জমা হচ্ছে ‘ব্রিজিত বার্দো ফাউন্ডেশন’-এর তহবিলে। ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ঘিসলেন কালমেলসের ভাষায়, এসব সামগ্রী কেবল অতীতের স্মৃতিচিহ্ন নয়; এগুলো এমন এক নারীর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নির্বাক প্রাণীদের পক্ষে কথা বলে গেছেন।
সূত্র: সিএনএন