নানা পাটেকরকে চেনে না এমন মানুষ কমই আছে। সিনেমাপ্রেমী না হলেও তাকে চেনেন অনেকে। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন নানা। পর্দায় বিচিত্র চরিত্রে, বিচিত্র লুকে হাজির হয়েছেন তিনি দর্শকের সামনে। মনে হয় কত বৈচিত্র্যময়, আনন্দময় জীবন তার। সেই নানা পাটেকরই একবার বলেছিলেন, তিনি কখনোই নিজের জন্য বাঁচার সময় বের করতে পারেননি। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমরা তো ধার করা জীবন যাপন করে যাই।’
মাত্র দুই বছর আগে একথা বলেছিলেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা ক্যারেক্টার আর্টিস্ট। নানার বয়ানে, ‘আমাদের জীবন তো অন্যদেরই, তাই না? আমরা কখন নিজেদের জীবনটা বাঁচার সুযোগ পাই? নিজের জন্য বাঁচার সময় আমরা কখনোই করে উঠতে পারিনি। আজ আমরা একটি চরিত্রের জীবন বাঁচছি, কাল আরেকটি চরিত্রের। হয়তো যেদিন শেষ পর্যন্ত থামব, একটু বিরতি নেব, সেদিন বিষয়টি বুঝতে পারব। নিজেদের কথা ভাবব। কিন্তু সেই দিন আর আসে না। একসময় সেটাই অভ্যাস হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আপনি যখন মঞ্চে অভিনয় করেন, সামনে তো অন্ধকার, তাই না? আমরা মঞ্চে থাকি। আর সম্ভবত একজন শিল্পীর জীবনই এমন। সেই অন্ধকারের মধ্যেই তাকে নিজের আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। আর দর্শকের হাততালির প্রতিধ্বনি একসময় নেশায় পরিণত হয়। তখন আর আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না।’
শেষে নানা বলেছিলেন, ‘এটাই আমাদের জীবন। যেদিন সেই কণ্ঠস্বর, হাততালির শব্দ থেমে যাবে, সেদিনই আমাদের মৃত্যু হবে। তারপর আর কেউ আমাদের ছবিতে নেবে না। এমনকি আমাদের ডাকবেও না।’
অনেক অভিনেতাই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসেন। কিন্তু নানার ক্ষেত্রে যাত্রাটা শুরু হয়েছিল আরও ব্যক্তিগত এক তাগিদ থেকে। তিনি শুধু বাবাকে মুগ্ধ করতে চেয়েছিলেন।
একবার স্কুলের একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তাকে অভিনয় করতে দেখার জন্য তাঁর বাবা শহর থেকে তাঁদের গ্রামে ছুটে এসেছিলেন।
নানা বলেছিলেন, ‘আমি দেখতে খুব একটা ভালো ছিলাম না। আমার ধারণা ছিল, বাবা আমাকে ভাইদের মতো ভালোবাসতেন না। কিন্তু বাল্মীকিকে নিয়ে সেই নাটকে অভিনয় করার পর অনেক কিছু বদলে যায়। যদিও আমি একজন অনুচরের চরিত্রে ছিলাম কিন্তু বাবা আমার অভিনয় করতে দেখতে শহর থেকে আমাদের গ্রামে এসেছিলেন। তখন আমার মনে হয়েছিল, বাবার মনোযোগ আমার দিকে টেনে আনার এটাই দারুণ একটা উপায়।’
অর্থাৎ অভিনয়টাও করেছিলেন অন্যের কথা ভেবে। তারপর এক দীর্ঘ যাত্রা। সেই যাত্রা শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ বছরগুলো পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
সূত্র: ল্যালানটপ