চেহারা ‘সুন্দর নয়’ বলে নানাকে ভিন্ন পেশা খুঁজতে বলেছিলেন থিয়েটারের বন্ধু

এমনকি থিয়েটারে শুরুর দিনগুলোতে এক বন্ধু নানা পাটেকরকে অন্য পেশা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ সেই বন্ধুর মতে, নানা যথেষ্ট ‘আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী’ ছিলেন না।

নানা পাটেকর ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম বহুমুখী ও সফল অভিনেতা। অথচ নিজের চেহারা নিয়ে তার মনে যে অনিশ্চয়তা ছিল, সে কথা তিনি বহুবার অকপটে বলেছেন। এমনকি থিয়েটারে শুরুর দিনগুলোতে এক বন্ধু তাকে অন্য পেশা বেছে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কারণ সেই বন্ধুর মতে, নানা যথেষ্ট ‘আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী’ ছিলেন না। তবে নানার কাছে অভিনয় শুধু ভালোবাসার বিষয় ছিল না। এটি ছিল বাবা-মায়ের মনোযোগ পাওয়ার এবং নিজেকে প্রমাণ করার একটি উপায়। সময়ের সঙ্গে নিজের সেই অনিশ্চয়তা ও সংকটের কথা তিনি খোলাখুলি বলেছেন, পাশাপাশি জানিয়েছেন কীভাবে শেষ পর্যন্ত তা কাটিয়ে উঠেছিলেন।

‘আপ কি আদালত’-এ কথা বলার সময় নিজের সময়ের নায়কেদের মধ্যে নিজেকে কতটা বেমানান মনে হতো, তা স্মরণ করেছিলেন নানা। তিনি বলেন, ‘আমার সময়ে সব নায়কই দেখতে সুন্দর ছিলেন, তাদের ছিল ‘চকোলেট-বয়’ ধারার চেহারা। আর আমি এই চেহারা নিয়ে এসে ভাবতাম, আমাকে আবার কে দেখতে চাইবে?’

এমনকি তার মনে হতো যে তার বাবা-মাও তাকে পছন্দ করেন না। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইদের মতো আমি দেখতে সুন্দর নই। মনে হতো, বাবা-মায়ের ভালোবাসা আমার প্রতি অন্য রকম। একবার আমি একটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। সেটা দেখতে আমার বাবা মুম্বাই থেকে এসেছিলেন। সেটা দেখে আমার মনে হলো, বাবা-মায়ের মনোযোগ পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অভিনয়। এরপরই আমি থিয়েটারে যোগ দিই।’

থিয়েটারের শুরুর দিনগুলোর একটি ঘটনা স্মরণ করে নানা পাটেকর বলেন, মারাঠি থিয়েটারের এক বন্ধু তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, পূর্ণকালীন কোনো চাকরি খুঁজে নিতে এবং থিয়েটারকে অবসরের শখ হিসেবে চালিয়ে যেতে।

‘নটসম্রাট’-সিনেমার দৃশ্যে নানা। ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এক সাক্ষাৎকারে নানা বলেন, ‘সে আমার চেহারা নিয়ে ঠাট্টা করত। বলেছিল, ‘‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছ? তোমাকে আবার কে দেখতে চাইবে?’’ সে নিজে দেখতে বেশ সুদর্শন ছিল।’

তবে সেই সমালোচনা নানাকে বেশিদিন তাড়া করেনি। অভিনয় দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। নানা বলেন, ‘থিয়েটারে যোগ দেওয়ার পর দেখলাম, দেখতে সুন্দর সুন্দর মানুষও আমাকে দেখতে এসেছেন এবং দূরে বসে আছেন। সেটা আমার আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়িয়েছিল, তেমনি কিছুটা অহংবোধও তৈরি করেছিল। ফলে নিজের চেহারা নিয়ে যে হীনম্মন্যতা ছিল, সেটাও চলে গেল।’

রূপ মানুষকে বেশিদিন মুগ্ধ করে রাখে না এমনটাই বিশ্বাস ছিল নানার। আবার নিজের চেহারা নিয়ে রসিকতাও করতেন। জি মিউজিক কোম্পানির জন্য আমির খানের সঙ্গে আরেক আলাপচারিতায় চলচ্চিত্রজগতে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়েও নিজের চেহারা নিয়ে রসিকতা করেছিলেন নানা পাটেকর। আমিরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি দেখতে আমার চেয়ে অনেক ভালো। আমার চেহারাটা দেখো। এই চেহারা নিয়ে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে ৫০ বছর টিকে আছি।’

সূত্র: ল্যালানটপ

আরও