একসময় নাইজেরিয়ায় সিনেমা বানাতে প্রয়োজন হতো প্রায় সবকিছুই, যা দেশটির পক্ষে সহজে জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। দামি ফিল্ম স্টক, আমদানি করা যন্ত্রপাতি, প্রেক্ষাগৃহ, পেশাদার স্টুডিও এবং বিপুল অর্থ। প্রচলিত চলচ্চিত্রশিল্প তাই যখন অর্থনৈতিক সংকটে ভেঙে পড়ছিল, তখন যেন সিনেমারও মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু একটি জিনিসের মৃত্যু হয়নি, সেটি দর্শকের গল্পের ক্ষুধা।
সেখানকার মানুষ তখনও প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, পরিবার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ধর্ম, কুসংস্কার, অর্থ, দারিদ্র্য ও আধুনিক জীবনের দ্বন্দ্ব দেখতে চাইছিল পর্দায়। প্রচলিত চলচ্চিত্রব্যবস্থা যখন সেই গল্প দিতে পারল না, নাইজেরিয়ানরা খুঁজে নিল অন্য পথ। তারা হাতে তুলে নিল একটি সাধারণ ‘ভিডিও ক্যামেরা’।
সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল নলিউড-বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চলচ্চিত্রশিল্প, এবং একই সঙ্গে এমন এক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। এটি প্রমাণ করে দিয়েছে- হলিউডের মতো বিশাল স্টুডিও, বিপুল পুঁজি কিংবা সুসংগঠিত অবকাঠামো ছাড়াও একটি দেশ নিজের চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তুলতে পারে। ইউনেস্কোর হিসাবে, নাইজেরিয়ায় বছরে প্রায় আড়াই হাজার চলচ্চিত্র তৈরি হয়। তবে উৎপাদনের সংখ্যা আর আয় বা লাভ- দুটিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
নলিউডের আগে ছিল নাইজেরিয়ার নিজস্ব সিনেমা
নলিউডের ইতিহাসকে ১৯৯২ সালে গিয়ে দেখলে ঘটনার গভীরে প্রবেশ করা যায়। কারণ ওই বছর মুক্তি পাওয়া ‘Living in Bondage’ যা আধুনিক নলিউডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোর একটি। কিন্তু নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্রের ইতিহাস আরো পুরনো।
উপনিবেশিক আমল থেকেই সেখানে চলচ্চিত্রের উপস্থিতি ছিল। স্বাধীনতার পর স্থানীয় নির্মাতারা নিজেদের গল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন। ষাট ও সত্তরের দশকে ওলা বালোগুন , এডি উগবোমাহ , আদে লাভ -এর মতো নির্মাতারা নাইজেরিয়ান জীবনধারাকে চলচ্চিত্রে তুলে আনছিলেন। অন্যদিকে, বিশেষ করে ‘ইয়োরুবা ট্রাভেলিং থিয়েটার’ চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি করে দিচ্ছিল এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ভিত্তি-লোককথা, সংগীত, পৌরাণিকতা, সামাজিক ব্যঙ্গ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও নৈতিকতার গল্প নিয়ে তারা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াত।
পরবর্তীতে টেলিভিশন হয়ে ওঠে অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র। ১৯৭৯ সালে নাইজেরিয়ান চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশে নাইজেরিয়ান ফিল্ম করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ, ১৯৯২ সালে নলিউডের জন্ম হয়নি, বরং বহু বছরের থিয়েটার, টেলিভিশন ও স্থানীয় চলচ্চিত্রচর্চা এসে ১৯৯০-এর দশকের ভিডিও-বিপ্লবে বিস্ফোরিত হয়েছিল।
যখন পুরোনো চলচ্চিত্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ল
সত্তরের দশকে তেলের অর্থনীতির উত্থান নাইজেরিয়ায় চলচ্চিত্র ও প্রেক্ষাগৃহ সংস্কৃতিকে কিছুটা শক্তিশালী করেছিল। কিন্তু আশির দশকের অর্থনৈতিক সংকট সেই কাঠামোকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। সেলুলয়েডে সিনেমা বানানো ব্যয়বহুল ছিল, আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও ফিল্ম স্টক জোগাড় করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল। একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ দুর্বল হয়ে পড়ছিল। মানুষ সিনেমা দেখতে চায়। কিন্তু সিনেমা বানানোর প্রচলিত পদ্ধতিটিই আর টেকসই নয়।এমন সময় প্রযুক্তি হয়ে উঠল বিকল্প পথ। ভিএইচএস (VHS) ও ভিডিও ক্যামেরা চলচ্চিত্র নির্মাণের খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিল। বড় স্টুডিও, ব্যয়বহুল ফিল্ম স্টক কিংবা দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি-সবকিছুর প্রয়োজন আর আগের মতো রইল না। একটি ক্যামেরা, কিছু অভিনেতা, কয়েকটি লোকেশন আর একটি গল্প দিয়েই সিনেমা বানানো সম্ভব হলো। প্রযুক্তি হয়তো নিখুঁত ছিল না। অর্থও ছিল না। কিন্তু গল্প ছিল। আর ছিল দর্শক।
ক্যামেরার চেয়েও শক্তিশালী ছিল বাজার
নলিউডের সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন সম্ভবত সিনেমা বানানো নয়—সিনেমা পৌঁছে দেয়া। হলিউডের প্রচলিত কাঠামো ছিল- স্টুডিও → পরিবেশক → প্রেক্ষাগৃহ → দর্শক। নলিউড তৈরি করল অনানুষ্ঠানিক কিন্তু কার্যকর একটি পথ— প্রযোজক → মার্কেটার → ভিডিও মার্কেট → দর্শক। লাগোসের ‘Idumota’-র মতো বাজারগুলো হয়ে উঠেছিল চলচ্চিত্র বিতরণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহের অনুমতির অপেক্ষা না করেও পৌঁছে যেতে পারত হাজার হাজার মানুষের হাতে। এখানেই নলিউডের বিপ্লব। শিল্পটি দর্শকের কাছে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেনি; দর্শক যেখানে ছিল, শিল্প সেখানেই পৌঁছে গেছে।
গল্পগুলো ছিল নিজেদের জীবনের মতো
প্রথম দিকের নলিউডের সিনেমাগুলো হয়তো প্রযুক্তিগতভাবে নিখুঁত ছিল না। সেট সাধারণ, বাজেট সীমিত, অভিনয় কখনো অতিনাটকীয়, গল্প কখনো প্রবল মেলোড্রামাটিক। কিন্তু গল্পগুলো ছিল পরিচিত। অতি দ্রুত ধনী হয়ে যাওয়া এক যুবক। পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব। প্রেমে বিশ্বাসঘাতকতা। বিবাহ ও সামাজিক মর্যাদা। ধর্ম ও কুসংস্কার। জাদুবিদ্যা, ভূত ও অলৌকিক শক্তি।
অর্থের জন্য নৈতিকতার সঙ্গে আপস। অতিপ্রাকৃত গল্পগুলোও আসলে অনেক সময় বাস্তব জীবনের ভয়কে প্রকাশ করত। আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের সংঘর্ষ হলে কী হয়? অর্থের আকাঙ্ক্ষা মানুষকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে? ক্ষমতা ও সম্পদ কি সত্যিই সুখ এনে দেয়? এই প্রশ্নগুলোই নলিউডকে তার নিজস্ব ভাষা দিয়েছিল।
একটি নাইজেরিয়া নয়, বহু নাইজেরিয়ার সিনেমা
নলিউডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-নাইজেরিয়া নিজেই বহু ভাষা, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক পরিচয়ের দেশ। ইয়োরুবা চলচ্চিত্রের শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত ট্রাভেলিং থিয়েটারে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইগবো-ভাষী ভিডিও-ফিল্ম আন্দোলন আধুনিক নলিউডের বিস্ফোরণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আর উত্তরাঞ্চলে ‘Kannywood’ গড়ে উঠেছে মূলত হাউসা ভাষার চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে। তাই নলিউডের ইতিহাসকে একটি সিনেমা দিয়ে শুরু করার চেয়ে বলা ভালো- বিভিন্ন নাইজেরিয়ান চলচ্চিত্রধারা একই সময়ে বেড়ে উঠেছিল; ‘Living in Bondage’ তাদের মধ্যে আধুনিক ভিডিও-ফিল্ম বিপ্লবের সবচেয়ে প্রতীকী মাইলফলক।
নিজের সীমাবদ্ধতাই একসময় হয়ে উঠল সংকট
তবে নলিউডের সবচেয়ে বড় শক্তিই তার দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়। কম বাজেটে দ্রুত সিনেমা বানানোর মডেলটি বিপুল সংখ্যক চলচ্চিত্র তৈরি করতে পেরেছিল, কিন্তু সবসময় উচ্চমানের নির্মাণ নিশ্চিত করতে পারেনি। দুর্বল চিত্রগ্রহণ, তাড়াহুড়ো করে লেখা চিত্রনাট্য, অতিরিক্ত মেলোড্রামা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার জন্য পুরোনো নলিউড প্রায়ই সমালোচিত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পাইরেসি। যে ভিডিও প্রযুক্তি শিল্পটিকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল, সেটিই আবার চলচ্চিত্র অননুমোদিতভাবে কপি ও ছড়িয়ে দেওয়ার পথও সহজ করে দিয়েছিল। ফলে নলিউড ছিল এক অদ্ভুত বৈপরীত্য-অবিশ্বাস্য উৎপাদনশীল, কিন্তু দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে কম অর্থায়িত।
নতুন নলিউড- এবার গল্পের সঙ্গে বদলাল নির্মাণভাষাও
২০০০-এর দশকে নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা চাইলেন নলিউড শুধু বেশি সিনেমা তৈরি করুক না, আরও ভালো সিনেমা তৈরি করুক। ‘Irapada (2006)’ এবং বিশেষ করে Kunle Afolayan-এর ‘The Figurine: Araromire (2009)’ সেই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। ‘The Figurine’-এ দুই বন্ধু আবিষ্কার করে একটি রহস্যময় কাঠের মূর্তি, যা সাত বছরের সৌভাগ্য এনে দেয়-তারপর শুরু হয় সাত বছরের দুর্ভাগ্য। ইয়োরুবা পুরাণ, অতিপ্রাকৃত রহস্য এবং আধুনিক জীবনের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি দেখিয়ে দেয়, নাইজেরিয়ান গল্পকে বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক সিনেমার ভাষাতেও বলা সম্ভব। নলিউড তখন আর শুধু ভিডিও ক্যাসেটের বাজারে বিক্রি হওয়া সিনেমা নয়। সে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে।
নতুন নলিউড শুধু বিনোদনের ভাষা বদলায়নি, বদলেছে তার বিষয়ও। ‘Half of a Yellow Sun (2013)’ Chimamanda Ngozi Adichie-র উপন্যাস অবলম্বনে নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে প্রেম, পরিবার, রাজনীতি ও সহিংসতার গল্প বলেছে। আর ‘October 1 (2014)’ স্বাধীনতার প্রাক্কালে একাধিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে কেন্দ্র করে ঔপনিবেশিকতা, জাতিগত পরিচয় ও নাইজেরিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে থ্রিলারের কাঠামোয় এনেছে।
তারপর নেটফ্লিক্স
২০১৮ সালে জেনিভিভ নাজি পরিচালিত ও অভিনীত ‘Lionheart’ নেটফ্লিক্স এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নলিউডের ইতিহাসে আরেকটি নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। এটি নেটফ্লিক্সের প্রথম নাইজেরিয়ান অরিজিনাল সিনেমা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গল্পে বাবার অসুস্থতার পর এ্যডাইজ নামে চরিত্রটি পরিবারের পরিবহন ব্যবসা সামলানোর চেষ্টা করে-পুরুষতান্ত্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ, অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে তাকে প্রমাণ করতে হয় নিজের সক্ষমতা। এর প্রতীকী অর্থও ছিল গভীর। পুরোনো ভিডিও ক্যামেরা যুগের নলিউডের তারকা জেনিভিভ নাজি এবার সেই নলিউডকে নিয়ে গেলেন স্ট্রিমিং যুগে। একসময় যে সিনেমা ‘ভিএইচএস’ ক্যাসেটের বাজারে বিক্রি হতো, সেটিই এবার নেটফ্লিক্স এর পর্দায় বিশ্বজুড়ে পৌঁছে গেল।
নলিউডের সবচেয়ে বড় শক্তি-তার অভিযোজন ক্ষমতা
হলিউডের ছিল স্টুডিও।নলিউডের ছিল ভিডিও ক্যামেরা।হলিউডের ছিল বিশাল বিতরণব্যবস্থা।নলিউড তৈরি করেছিল বাজারকেন্দ্রিক অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক।হলিউডের ছিল বিপুল পুঁজি।নলিউডের ছিল দর্শকের ক্ষুধা।আর প্রতিবার প্রযুক্তি বদলেছে, নলিউডও বদলেছে।সেলুলয়েড ব্যয়বহুল হলে-ভিডিও।ভিডিওর বাজার বদলালে-ডিজিটাল।ডিভিডি-পাইরেসি সংকট তৈরি করলে-স্ট্রিমিং।স্ট্রিমিংয়ের অর্থনীতি বদলালে ইউটিউবসহ নতুন প্ল্যাটফর্ম। এ কারণেই নলিউডকে কেবল একটি চলচ্চিত্রশিল্প হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি একটি অভিযোজনের গল্প।
আর তাই নলিউড শুধু সিনেমা বানায়নি, নিজেদেরও পর্দায় ফিরিয়ে দিয়েছে। হলিউড যেখানে পৃথিবীকে অসংখ্য আমেরিকান স্বপ্ন দেখিয়েছে। নলিউড নাইজেরিয়াকে দেখিয়েছে নিজেদের গল্প। আর সেই গল্পগুলোই সীমান্ত পেরিয়ে গেছে। একসময় আফ্রিকাকে আন্তর্জাতিক পর্দায় প্রায়ই যুদ্ধ, দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ কিংবা বন্যপ্রাণীর ফ্রেমে দেখা হতো। নলিউড সেই একমাত্রিক ছবিকে বদলে দিয়েছে। সেখানে আফ্রিকান মানুষ শুধু বেঁচে নেই, সে প্রেমে পড়ছে, ব্যবসা করছে, স্বপ্ন দেখছে, প্রতারণা করছে, ভুল করছে, ক্ষমতার জন্য লড়ছে, পরিবার গড়ছে।
নলিউডের গল্প এখনও শেষ হয়নি।
২০২৫ সালে আকিনোলা ডেভিস জুনিয়র-এর ‘My Father's Shadow’ কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল নির্বাচনে জায়গা পাওয়া প্রথম নাইজেরিয়ান চলচ্চিত্র হয়ে নতুন একটি মাইলফলক তৈরি করে। ১৯৯৩ সালের লেগোসকে পটভূমি করে নির্মিত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক এই গল্প যেন নলিউডের যাত্রারই এক প্রতীকী প্রতিফলন-ভিডিও ক্যাসেটের বাজার থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচা পর্যন্ত।
এই দীর্ঘ যাত্রার দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। নলিউডের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো বছরে হাজার হাজার সিনেমা তৈরি করা নয়। তার চেয়েও বড় অর্জন হলো-অভাবকে সে কখনো থামার কারণ হতে দেয়নি।