বেবি শার্ক: ৯০ সেকেন্ডের ভিডিও যেভাবে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করল

২০১৬ সালের জুনে ভিডিওটি প্রকাশের অনুমতি দেন পিংকফংয়ের প্রধান নির্বাহী কিম মিন-সিওক। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাবিনি এটি অন্য কনটেন্ট থেকে আলাদা হবে। পরে বুঝেছি, এটি আমাদের বৈশ্বিক যাত্রার টার্নিং পয়েন্ট।‘

‘বেবি শার্ক’ নামের ৯০ সেকেন্ডের একটি শিশুতোষ গানের ভিডিও দুনিয়াজোড়া ঠিক কেমন আলোড়ন তুলবে, সেটা নিশ্চিতভাবেই কেউ ভাবেননি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান পিংকফংয়ের সেই ভিডিওই এখন ইউটিউবের সর্বাধিক দেখা কনটেন্ট, ভিউ ছাড়িয়েছে ১৬ বিলিয়ন। আর এই জনপ্রিয়তাই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে গেছে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের কোম্পানিতে। খবর বিবিসি।

২০১৬ সালের জুনে ভিডিওটি প্রকাশের অনুমতি দেন পিংকফংয়ের প্রধান নির্বাহী কিম মিন-সিওক। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাবিনি এটি অন্য কনটেন্ট থেকে আলাদা হবে। পরে বুঝেছি, এটি আমাদের বৈশ্বিক যাত্রার টার্নিং পয়েন্ট।‘

মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে পিংকফংয়ের সূচনা হয়, প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মূল্যায়ন ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

২০১০ সালে স্মার্টস্টাডি নামে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি মূলত ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করত। মাত্র তিনজন কর্মচারী নিয়ে শুরু করে সংস্থাটি পরবর্তীতে ছোট শিশুদের দিকে মনোযোগ দিয়ে কন্টেন্টে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। কর্মচারী সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছানোর পর তারা সহজ, শিক্ষা-ভিত্তিক গেম এবং কন্টেন্টকে অগ্রাধিকার দেয়— ‘এবং তখনই বেবি শার্ক-এর উত্থান,’ বলেন কিম।

মিডিয়া বিশ্লেষক কেভিন চিউ-এর মতে, বেবি শার্ক গানটি ‘শিশুদের কাছে আকর্ষণীয়, যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সম্ভবত বিরক্তিকর।‘ তবে কিম মিন-সিওকও এর আসক্তি ধরানো ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত। তিনি বলেন, ‘এটি কে-পপ গানের মতো। খুব দ্রুত, ছন্দময় এবং আসক্তি তৈরি করে।‘

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শিশুদের মাঝে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং অনলাইনে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ২০২০ সালের নভেম্বরে, বেবি শার্ক ক্লিপটি ইউটিউবের সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর খেতাব অর্জন করে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথম বছরগুলোতে কোম্পানির আয়ের প্রায় অর্ধেক এনে দেয় বেবি শার্ক এবং নতুন কন্টেন্টের ভিত্তি তৈরি করে।

২০২২ সাল থেকে পিংকফং নামে পরিচিত সংস্থাটির অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি যেমন বেবেফিন এবং সীলুকও দ্রুত বাড়ছে। তবে, কোরিয়া ইউনিভার্সিটির ব্যবসায়িক প্রভাষক মিন জাং কিম বলেছেন, সংস্থাটিকে প্রমাণ করতে হবে যে, এর সাফল্য শুধু বেবি শার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়। কিম মিন-সিওক জোর দিয়ে বলেন, তাদের ব্যবসা বেবি শার্কের বাইরেও বাড়তে পারে, যা বর্তমানে পিংকফং-এর আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অন্যদিকে, বেবেফিন এখন সংস্থার আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ এনে বেবি শার্ককে ছাড়িয়ে গেছে।

স্টক মার্কেটে অভিষেক থেকে প্রায় ৫২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে পিংকফং। কিম জানান, এই অর্থ চলচ্চিত্র ও চরিত্রের লাইনআপ সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। কোম্পানিটি ডেটা ব্যবহার করে নতুন প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে প্রযুক্তি-চালিত কন্টেন্ট নির্মাতা হতে চায়। কিম বলেন, পিংকফং এরইমধ্যে ‘অনেক নির্মাতার চিরকাল ধরে দেখা স্বপ্ন’ অর্জন করে ফেলেছে। কিন্তু এখন তাদের বিনিয়োগকারীদের দেখাতে হবে যে, তারা কেবল একটি 'ওয়ান-হিট ওয়ান্ডার' নয়।

আরও