সরকার (২০০৫)
রাম গোপাল ভার্মার ‘সরকার’কেও এ তালিকায় রাখতে হয়। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই, ক্যাটরিনা কাইফ, কে কে মেনন, প্রমুখ। কথিত আছে, সিনেমাটি মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত নেতা বাল ঠাকরের জীবন ও রাজনীতি অবলম্বনে নির্মিত। তবে এ নির্মাণ ও গল্প বলায় সিনেমাটি ‘গডফাদার’কে অনুসরণ করেছে। ভিটো করলিওনির পর মাইকেল যেভাবে তার ব্যবসাকে এগিয়ে নেয়, এই সিনেমায় সুভাষ নাগরের (সুভাষ) পর তার ছেলে শঙ্কর নাগরে (অভিষেক) তার রাজনীতিকে এগিয়ে নেয়। গডফাদারের মতোই তিন পর্ব এসেছে সিনেমাটির। ২০১৭ সালে মুক্তি পায় তৃতীয় পর্ব। এতে দেখা যায় সুভাষের নাতি এখন রাজনীতিতে। এ সিনেমায়ও রাজনীতির পাশাপাশি উঠে এসেছে নির্বাচন, নির্বাচনী প্রচারণা, কৌশল ইত্যাদি।
রাজনীতি (২০১০)
প্রকাশ ঝার পরিচালনায় ২০১০ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। এতে অভিনয় করেন নাসিরউদ্দিন শাহ, নানা পাটেকর, মনোজ বাজপেয়ী, অজয় দেবগন, অর্জুন রামপাল, রণবীর কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফ প্রমুখ। সিনেমাটি একদিকে মহাভারতের ‘এক পরিবারের দুই ভাগ’ ও অন্যদিকে ‘দ্য গডফাদার’কে (রাজনীতির গতিপথ) অনুসরণ করে। সিনেমাটির শুরু থেকে শেষ অবধি একটি বৃহৎ পরিবারের রাজনীতির গল্প বলা হয়েছে। সেখানে থাকে প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন ও পরাজিত করার কৌশল। কেউ সরাসরি রাজনীতি করেন তো কেউ আড়াল থেকে আঘাত। ভারতীয় রাজনীতির কুটিলতা ও পরিবারতন্ত্র সবই সিনেমায় উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে আছে নির্বাচনী কৌশল, প্রচার, ভোট ইত্যাদিও।
লুসিফার (২০১৯)
অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমার পরিচালিত সিনেমা লুসিফার। এ সিনেমাও একটি পরিবারের রাজনীতির উত্থান পতনের গল্প বলে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিকে রামদাসের মৃত্যুর পর তার পরিবারের মধ্যে চলমান টানাপড়েন ও কেরালার রাজনীতি নিয়ে এ সিনেমা। তবে স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি এখানে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক গুপ্ত মহলের প্রভাবের ইঙ্গিত। মোহনলাল অভিনীত স্টিফেন চরিত্রটি তা-ই ইঙ্গিত করে। পিকে রামদাসের পালিত পুত্র হলেও স্টিফেন কার জন্য কাজ করে বা তার ক্ষমতার উৎস প্রকাশ করা হয় না। তবে তার কাজকর্ম ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বুঝিয়ে দেয় যে ইলুমিনাতি বা আন্তর্জাতিক কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে সে যুক্ত। এই কারণেই সিনেমার নাম লুসিফার।
নির্বাচন মানে কেবল ব্যালট ও ভোটদান না। এর নেপথ্যে থাকে প্রচারণা, প্রার্থীর সুনাম-বদনাম যা চাইলে ইচ্ছানুসারে পরিবর্তন করা যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা গোষ্ঠী, গণমাধ্যম এমনকি রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারও। লুসিফার এসব গল্পই বলে।
নিউটন (২০১৭)
নির্বাচন বলতে যদি ভোট, ব্যালটের বিষয়কেই বোঝা হয় তাহলে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে বলিউডের সিনেমা ‘নিউটন’। ২০১৭ সালে মুক্তি পায় অমিত মসুরকার পরিচালিত ‘নিউটন’। সিনেমায় অভিনয় করেন রাজকুমার রাও। তিনি একটি ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব নিয়ে যান দুর্গম এক এলাকায়।
সিনেমার গল্পে দেখা যায় নিউটন কুমার এক আদর্শবাদী তরুণ। নিয়মকানুনে কঠোরভাবে বিশ্বাসী এক তরুণ সরকারি কর্মকর্তা। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা তার জন্য পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি আদর্শিকও। তাকে যেতে হয় ভারতের দুর্গম অঞ্চলে এক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কাছে। এরপর সিনেমা আমাদের দেখায় যে আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক অনেক বেশি। ভোট কী ও ভোট কেন জরুরী স্থানীয়দের তা বোঝাতেই নিউটনকে বেগ পেতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্মা আত্মা সিং (পঙ্কজ ত্রিপাঠী)। তিনি নিউটনকে বোঝাতে চান প্রকৃত অবস্থা কিন্তু নিউটন তার আদর্শে অটুট থাকতে চায়। এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই স্যাটায়ারের মাধ্যমে উঠে এসেছে ভারতের নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা।
আরো অনেক বলিউড সিনেমার নাম করা যায় যাতে নির্বাচনের প্রসঙ্গ এসেছে। এর মধ্যে সুভাষ কাপুরের ‘ম্যাডাম প্রাইম মিনিস্টার’ ও ‘থালাইভি’কে এগিয়ে রাখতে হবে। থালাইভি নির্মিত হয়েছে জয়াললিতার জীবন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে উপজীব্য করে। এছাড়া অ্যামাজন প্রাইমের সিরিজ ‘তাণ্ডব’ও সরাসরি নির্বাচনের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত।