বলিউডের প্রচলিত ধারায় আটকে থাকেননি আনুশকা শর্মা

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকাদের একটা প্রচলিত পরিচিতি আছে। তারা সৌন্দর্য তুলে ধরবেন স্ক্রিনে।

তাদের ক্যারিয়ারের সময়ও কম এবং তুলনামূলক একই ধারায় অভিনয়ই করে যান। তবে এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। বলিউডে আনুশকা শর্মা এ ব্যতিক্রমের উদাহরণ। তার অভিষেক হয়েছিল শাহরুখ খানের বিপরীতে। কাজ করেছেন তিন খানের সঙ্গে। প্রতিটি সিনেমাই সফল হয়েছে, কিন্তু খানদের মধ্যেই আটকে থাকেননি। ভিন্ন ধারার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার প্রযোজনায় এসেছে দারুণ সব সিনেমা ও সিরিজ। কিন্তু সে তুলনায় আনুশকাকে নিয়ে আলোচনা কমই বলা চলে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবসময় ভিন্ন ধারার ও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবশালী চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনুশকা। ‘তানি’ (রব নে বাদা দি জোড়ি), ‘মীরা’ (এনএইচ ১০), ‘শশী’ (ফিল্লাউরি), ‘আরফা’ (সুলতান) প্রতিটি চরিত্রই শক্তিশালী। কিন্তু খুব বেশি আলাপে থাকেননি। এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। আনুশকা তার সিনেমা নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি কখনো। নিজেকে মিডিয়া সেনসেশন হিসেবেও প্রচার করেননি।

অভিষেকে শাহরুখ খানের বিপরীতে ছিলেন। মনে হতে পারে একজন বড় তারকার আড়ালে পড়ে গেছেন। কিন্তু তানি চরিত্রটি দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিল। আনুশকাও প্রতিষ্ঠা পান এ চরিত্র দিয়েই। পরের সিনেমা ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’। সিনেমাটিতে শ্রুতি চরিত্রে এক ভিন্ন আনুশকাকে পায় দর্শক। উচ্চকণ্ঠ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, তীক্ষ্ণ, দিল্লির মাটিতে গড়া এবং শক্তিতে ভরপুর। শ্রুতি কারো মুখাপেক্ষী নয়। অনেক দিক থেকেই এ চরিত্র সময়ের সঙ্গে আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু অনুশকার ক্যারিয়ারকে নতুনভাবে দেখার আসল মোড় আসে এনএইচ ১০ দিয়ে। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমাটি প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি। বলিউডে তখনো নারীকেন্দ্রিক থ্রিলার খুব বেশি হয়নি। সে সময় কেবল সৌন্দর্যে আটকে না থেকে আনুশকা এসেছিলেন সিনেমাকে নতুন এক পথ দেখাতে। এ সিনেমাও খুব বেশি মনোযোগ পায়নি দর্শকের। কিন্তু পাঁড় সিনেমাভক্ত ও সমালোচকরা মনে রেখেছেন।

আনুশকা কখনো এক ধারায় আটকে থাকেননি। পিকে তাকে মূলধারার জনপ্রিয়তা দেয়। ‘সুলতান’ সিনেমায় তিনি একজন কুস্তিগিরে পরিণত করেন নিজেকে। ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এর এলিজে কিংবা ‘জাব তাক হ্যায় জান’-এর আকিরা স্বাধীন নারীর প্রতীক। ‘সুই ধাগা’য় আবারো হাজির হন সাধারণ চরিত্রে।

বলিউডের নায়িকারা সাধারণত প্রতিষ্ঠিত নায়কের বিপরীতেই অভিনয় করতে চান বা ইন্ডাস্ট্রির সংস্কৃতিই অনেকটা এ রকম। কিন্তু আনুশকার সিদ্ধান্তগুলো সেই প্রচলিত বলিউডি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়েছে। তিনি মূলধারার সিনেমা থেকে পাওয়া দৃশ্যমানতাকে ব্যবহার করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি শুধু বড় সিনেমায় অভিনয় করেননি, ধীরে ধীরে নিজেকে এমন একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আনুশকা রোমান্স, কমেডি, ড্রামা, স্যাটায়ার, থ্রিলার সব ধারায় অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনায়ও দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।

যেমনটা এ লেখায় আগেও উল্লেখ করা হয়েছে, আনুশকা নিজেকে আলোচনায় রাখার জন্য মরিয়া ছিলেন না। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে ‘আউটসাইডার’ই ছিলেন। তারপর নিজের জায়গা তৈরি করেছেন অভিনয় প্রতিভা ও সাহসী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে। এর মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছেন, আবার সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছেন। তিনি বলিউডের অভিনেত্রীদের জন্য দৃষ্টান্তই তৈরি করেছেন।

আনুশকা প্রচলিত পথে হাঁটেননি। তিনি কখনো শক্তিশালী চরিত্র বা ব্যবসাসফল হতে পারে, এমন সিনেমার অপেক্ষায় থাকেননি। কখনো নিজেই তা তৈরি করেছেন। সে কারণেই এসেছে ‘ফিল্লাউরি’র মতো লোকগল্পের সিনেমা, ‘এনএইচ ১০’-এর মতো থ্রিলার ও পাতাল লোকের মতো সিরিজ।

আরও