বাংলাদেশের থ্রিলারে নতুনত্ব এনেছিলেন মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। লিখেছেন কন্ট্রাক্ট, কনফেশন, করাচি, নেমেসিসের মতো মৌলিক থ্রিলার। তার জনপ্রিয় উপন্যাস থেকে সৃজিত মুখার্জি নির্মাণ করেছেন ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি’। এছাড়া নির্মিত হয়েছে কন্ট্রাক্ট, অগোচরা ও সম্প্রতি চরকিতে মুক্তি পেয়েছে তার গল্প থেকে নির্মিত সিরিজ ‘টিকিট’। পর্দায় নিজের গল্প আসা, ওটিটি ও লেখালেখি নিয়ে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান
‘টিকিট’ দিয়েই শুরু করি। টিকিট নিয়ে কিছু বলুন।
আমার একটি ছোটগল্প ‘লটারি’ থেকে ভিকি জাহেদ এটা নির্মাণ করেছেন। কদিন আগে চরকি থেকে রিলিজ হয়েছে। এর আগে উপন্যাস থেকে কিছু কাজ হলেও ভিকিই প্রথম আমার কোনো ছোটগল্প নিয়ে আগ্রহ দেখায়। ব্যাপারটা আমার কাছে ভালো লেগেছিল, কেননা আমাদের এখানে ছোটগল্প নিয়ে আগ্রহ কম। যদিও আমি মনে করি ছোটগল্প থেকে প্রচুর কাজ হওয়া উচিত। ভিকির পর হয়তো অনেকেই আগ্রহী হবে ছোটগল্প নিয়ে।
লেখালেখিতে আপনার যাত্রার গল্পটা খুব সংক্ষেপে শুনতে চাই।
লেখক হব সেটা কখনো ভাবিনি। শৈশবে চিত্রকর হতে চাইতাম, এরপর মিউজিশিয়ান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চলচ্চিত্রকার-সাংবাদিক। সেগুলোর কিছুই হয়নি। পরে আবিষ্কার করলাম লিখতে চাই। অস্বীকার করব না বই পড়তাম বলে লেখালেখি করার একটা সুপ্ত বাসনাও ছিল। সেটাই শেষ পর্যন্ত হয়েছে।
গল্প থেকে সিনেমা/সিরিজ হবে সেটা কি কখনো ভেবেছিলেন? যখন হলো তখন কেমন লাগল?
লেখালেখির শুরুতে এটা ঘুণাক্ষরেও মাথায় ছিল না। সৃজিত মুখার্জি যখন প্রথম জানাল আমার রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি নিয়ে কাজ করতে চান, তখন একটু অবাক হয়েছিলাম। আমার ধারণাই ছিল না কলকাতায়ও আমার বই অনেকে পড়ে। তবে আমি কখনো সিনেমা-ওয়েব সিরিজের কথা মাথায় রেখে গল্প-উপন্যাস লিখি না। ভবিষ্যতে ওটিটি কিংবা সিনেমার জন্য যদি লিখি সেটা আলাদা করেই লিখব।
লেখক একভাবে লেখেন, নির্মাতা সেটাকে একভাবে পর্দায় আনেন। এই যে ভিন্নতা, সেটা কীভাবে দেখেন?
এই ভিন্নতা একেবারেই স্বাভাবিক। দুজন মানুষ দুই রকমভাবেই ভাববে। না ভাবলে তো স্বকীয়তা বলে কিছু থাকবে না। আমি মনে করি যেকোনো গল্প-উপন্যাস পর্দায় আনতে গেলে ভিন্নভাবেই আনা উচিত। লেখা যেমনটা আছে তেমনভাবে আনার কী দরকার? সেই কাজ তো লেখক এরই মধ্যে করে ফেলেছেন।
আমাদের দেশে গল্প পর্দায় আনার ক্ষেত্রে লেখক আর নির্মাতার আলোচনা হয়?
খুব বেশি আলোচনা হয় না, আর হলেও সেটা কার্যকর আলাপ কিনা সন্দেহ আছে আমার। ভিজুয়াল মিডিয়া পুরোপুরি ডিরেক্টরনির্ভর, সেখানে লেখককে কীভাবে অ্যাকমোডেট করা যায় আমি নিজেও জানি না। কারণ লেখক আর নির্মাতার ‘দেখা’টা ভিন্ন হয়। সবচেয়ে ভালো হবে নির্মাতা যদি গল্পটি পুরোপুরি আত্মস্থ করে নেন, তাহলে হয়তো লেখকের সঙ্গে অত আলাপেরও দরকার পড়বে না।
সম্মানীর একটা বিষয় তো থাকে। সেটা কেমন দেখছেন?
আমার প্রথম দুটো কাজ যেহেতু বিদেশী ওটিটির সঙ্গে হয়েছে সেজন্যে সম্মানী নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। পরে যখন দেশের ওটিটিগুলোর সঙ্গে কাজ করেছি সেখানকার অভিজ্ঞতাও ভালো। এ কথা বলাই যায়, ওটিটি আসার পর লেখকের গুরুত্ব বেড়েছে, সেজন্যে সম্মানীও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে কাজ হয়েছে আপনার গল্প থেকে। দুই দেশের কাজের ধরনে পার্থক্য কেমন?
ওরা অনেক বেশি পেশাদার আচরণ করে, আমাদের এখানে সেই তুলনায় একটু কম। এটুকু পার্থক্য ছাড়া আর কিছু আলাদা করে চোখে পড়েনি।
সিনেমাও হচ্ছে আপনার লেখা থেকে। তা নিয়ে পাঠককে কিছু জানাবেন?
পাঠক তার পছন্দের গল্প-উপন্যাসকে পর্দায় দেখতে চায়—এটা কিন্তু সত্যি। তবে তারা পড়ার সময় যেভাবে কল্পনা করেছে ঠিক সেভাবেই চায়। সমস্যাটা সেখানেই। না মিললে খুব হতাশ হয় তারা। আমি বলব হতাশ না হতে। কেননা তাদের প্রিয় গল্পটি কিন্তু আছেই, ওটা তো কেউ নষ্ট করেনি! সুতরাং একটু উদারভাবে বিষয়টাকে দেখা ভালো।
বইমেলার পরিকল্পনা কিছু জানতে চাই।
এবারের বইমেলায় দুটি নতুন বই প্রকাশ হবে আমার। বেগ-বাস্টার্ড সিরিজের সপ্তম বই ‘কন্ট্রোল’ এবং নব্বই-পরবর্তী ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে লেখা ‘কালো অধ্যায়’। এছাড়া আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মেলার আগে-পরে বই বের করার। সেটাও অব্যাহত থাকবে আশা করি। মেলার পরও বই বের করব।