বাংলাদেশ ও ইরানি চলচ্চিত্রের সেতুবন্ধে মুমিত আল রশিদ

২০ জানুয়ারি পর্দা উঠছে ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে উৎসব।

২০ জানুয়ারি পর্দা উঠছে ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় এবারের উৎসবেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে ইরানি চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হবে। অস্কারজয়ী পরিচালক মাজিদ মাজিদির উপস্থিতি এ উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করবে, যা বাংলাদেশ ও ইরানের চলচ্চিত্রে নবদিগন্তের দ্বার উন্মোচন করবে। 

বর্তমানে বাংলাদেশে ইরানি সিনেমা ও টিভি সিরিয়াল নিয়ে আলোচনা করলে যে ব্যক্তির নাম আলোচনায় জায়গা করে নেয়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ সহযোগী অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশিদ। ২০১৯ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। 

ড. মুমিত আল রশিদ ১৯৮১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার নশাসন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০২ সালে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও ২০০৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

তিনি ইরানের তারবিয়্যাত মোদাররেস (শিক্ষক প্রশিক্ষণ) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘‌গুলদাস্তে গুলশান মানি গ্রন্থের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও শুদ্ধিকরণ’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে স্যারের কাছ থেকে জানতে ও বুঝতে পেরেছি এবং সেখান থেকেই লক্ষ্য করি, তিনি পাণ্ডুলিপি বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করলেও তার অসীম আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও ইরানের চলচ্চিত্র। তিনি এরই মধ্যে এ বিষয়ে অনেক কাজই খুব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। তার কাজের মধ্যে আছে ইরানি চলচ্চিত্র ও সিরিয়ালের অনুবাদ এবং বিভিন্ন সিনেমার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন।

ড. মুমিত আল রশিদ এ পর্যন্ত ৩৩টি ইরানি চলচ্চিত্র বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। পাশাপাশি ইরানের ছয়টি বিখ্যাত টিভি সিরিয়াল হজরত ইউসুফ পয়গম্বর (বাংলায় ইউসুফ নবী), মারদানে অ্যাঞ্জেলস (আসহাবে কাহাফ), মুখতারনামে (কারবালার কাহিনী), হজরত মরিয়াম মুকাদ্দাস (বিবি মরিয়ম), বাশারাতে মোনজি (ঈসা নবী), শাহরজাদ (শেহেরজাদ-ফরহাদ) ইত্যাদি অনুবাদ করেন এবং সবগুলোই ধারাবাহিকভাবে এসএ টিভি থেকে প্রচার হয়েছে।

ড. মুমিত আল রশিদের হাত ধরেই ২০১৮ সালে ইরানি নারী চলচ্চিত্র পরিচালক নার্গিস অবইয়ার তার চলচ্চিত্র ‘‌শাবি কে মহ কমেল শোদ’ (যে রাতে চাঁদ পূর্ণতা পেয়েছিল) সিনেমা শুটিং করতে বাংলাদেশে আসেন ও ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘‌দিন দ্য ডে’ সিনেমার উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন ড. রশিদ। সিনেমার কিছু অংশের শুটিংও বাংলাদেশে করা হয়। বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘‌ ফেরেস্তে’র উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি ছিলেন। এ সিনেমার চিত্রানাট্যও লিখেছেন তিনি।

চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল অনুবাদের পাশাপাশি তিনি ফারসি, ইরানবিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থাবলি রচনার কাজও করছেন। ড. রশিদের গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘‌ইরানের পথে-প্রান্তরে’ ২০১৬ সালে প্রথম প্রকাশ হয়। নাম দেখে এটি শুধু ভ্রমণ কাহিনী হিসেবে মনে হলেও গ্রন্থটিতে ইরানের পরিচিত, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি সবই রয়েছে। 

‘‌পারস্যের লোকজ সংস্কৃতি ও উৎসব’ গ্রন্থটিতে ইরানের লোকজ কৃষ্টি, কালচার ও উৎসব সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে। এছাড়া ‘‌বাঙালির নেতৃত্ব, পারস্য কথন ও সংগঠন’ ২০২৩ সালে প্রকাশ হয়। এ বইয়ে পারস্যের কবি সাহিত্যিক ও দার্শনিকদের বিষয় এনেছেন লেখক। আরো লিখেছেন ‘‌ফারসি ব্যাকরণের সহজ পাঠ’।

এছাড়া তার অনুবাদকৃত ছয়টি সিনেমা যথাক্রমে মাজিদ মাজিদির ‘‌কালোবাজারি’, মহসিন মখমলবফের ‘‌দ্য সাইক্লিস্ট’, আলি ভাযিরিয়ানের ‘‌গড ইজ ক্লোজ’, ইব্রাহিম হাতামিকিয়ার ‘‌ইমিগ্র্যান্ট’, আব্দুল হাসান বারাজিদেহের ‘‌মাজার শরীফ-এর আর্তনাদ’, শাহরিয়ার বাহরানির ‘‌কিংডম অব সোলায়মান’ বই আকারে প্রকাশিত।

আরও