তারকাদের শারদীয় দুর্গোৎসব

ছোটবেলার পূজার অভ্যাসগুলো এখনো মোটামুটি একই আছে। গ্রামে যাওয়া, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আড্ডা দেয়া, পূজায় ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া ও নাড়ু খাওয়ার অভ্যাসগুলো রয়ে গেছে। এ সময় গ্রামের নদীর মাছ ভাজা খেতে খুব ভালো লাগে।

শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পাঁচদিনের এ উৎসব ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে নানা আয়োজন। উৎসবের এ আমেজ থেকে বাদ যাননি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। পূজা ঘিরে তাদের পরিকল্পনা, স্মৃতি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন অহিদুর রহমান

‘পূজার পরিবেশ রঙিন ও উৎসবমুখর মনে হয়’

—বাপ্পা মজুমদার, সংগীতশিল্পী

এবারের দুর্গা পূজা আমার ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই কাটবে। সামনে বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম আছে। এছাড়া এবারের পূজায় কিছু পরিবেশনার বিষয়েও কথাবার্তা চলছে। সব মিলিয়ে কাজের মধ্যেই থাকতে হবে। দুর্গা পূজার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর আয়োজন এবং সবাই মিলে উৎসবটি উদযাপন করা। এত মানুষ একসঙ্গে একটি উৎসবের আয়োজন করছে, আনন্দে অংশ নিচ্ছে—বিষয়টি আমার কাছে খুব ভালো লাগে। পূজার কোনো নির্দিষ্ট দিক নয়, বরং পুরো পরিবেশটাই আমার কাছে বেশ রঙিন ও উৎসবমুখর মনে হয়। সবাই মিলে একটি উৎসব ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠে। দুর্গা পূজার এ সম্মিলিত আয়োজন ও উদযাপনই আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর।

আমি চাই, সবার পূজা সুন্দরভাবে কাটুক। সব আয়োজন ঠিকঠাক হোক, সবাই যেন আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে পারেন। শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে আমার বার্তা, সবাই ভালো থাকুক, সুন্দর থাকুক।

‘আমার পছন্দ বিসর্জন’

—পূজা সেনগুপ্ত, নৃত্যশিল্পী

মণ্ডপে ঘুরব, পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হবে, আড্ডা হবে। অঞ্জলি দেব, মা দুর্গার কাছে শক্তি ও মঙ্গল প্রার্থনা করব। নিজের ভেতরের শক্তিকে নতুন করে অনুভব করব। এসব মিলিয়েই দুর্গা পূজা। দুর্গা পূজা মানেই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও মেলবন্ধনের সুযোগ তৈরি হওয়া।

পূজার নানা আয়োজনের মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দ বিসর্জন। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে জীবনের এক গভীর দর্শনের মুখোমুখি হই। কোনো কিছুর সমাপ্তি মানেই সেখান থেকে নতুন কিছু শুরু হওয়ার বা নতুনভাবে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া।

অনেকে বলেন, ছোটবেলাটাই সুন্দর ছিল। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এ দর্শনে বিশ্বাসী নই। আমার কাছে জীবনের প্রতিটি বয়সই সুন্দর। জীবন উদযাপনের বিষয়, তাই আমি প্রতিটি সময়, প্রতিটি বয়সকে উদযাপন করি। আমার প্রতিটি দুর্গা পূজাই বিশেষ ছিল। সামনের দিনগুলোয় যে পূজাগুলো আসবে, সেগুলোও মা দুর্গার আশীর্বাদে অনেক বেশি বিশেষ হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।

জীবনের এ আনন্দ ও সৌন্দর্য সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই আমার প্রত্যাশা। সবার জীবনে শান্তি আসুক। আমরা যেন একে অন্যকে শ্রদ্ধা করতে শিখি। আমাদের মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সে ভিন্নতাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করার মানসিকতা যেন সবার মধ্যে তৈরি হয়।

‘সবচেয়ে সুন্দর হলো পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া’

—প্রান্তর দস্তিদার, অভিনেতা

এবার পূজার শেষ তিনদিন পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চাই। মা-বাবা, কাকু-কাকিমাসহ পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে চাই, তাদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।

চট্টগ্রামে যে পাড়ায় বড় হয়েছি, সেখানে বড় একটি পূজামণ্ডপ ছিল। পরিবার, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে পূজা কাটত। দশমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপের বন্ধ গেট আর চারপাশের নীরবতায় এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করতাম। সে স্মৃতি এখনো মনে আছে। এখন ঢাকায় থাকি, তাই ছোটবেলার মতো পূজা উদযাপন করা হয় না। তবে পূজা এলে এখনো মনে বিশেষ অনুভূতি তৈরি হয়।

পূজায় নির্দিষ্ট কোনো প্রিয় খাবার নেই। বিভিন্ন জায়গায় খাওয়াদাওয়া হয়, তখন ডায়েটের কথা মাথায় থাকে না। এখন ভোগ খেতে বেশি ভালো লাগে।

আমার কাছে পূজার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো মানুষের একসঙ্গে হওয়া, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং নতুন স্মৃতি তৈরি করা। দুর্গা পূজার মূল বার্তা অশুভের বিনাশ ও শুভের জয়। শেষ পর্যন্ত ভালোর জয় হবে, এ বিশ্বাস রাখতে চাই।

আমি চাই, সবাই মিলেমিশে আনন্দ করুক এবং একে অন্যের ধর্মের প্রতি সম্মান রেখে উৎসব উদযাপন করুক। সবার প্রতি সম্মান রেখে উৎসব পালিত হোক, সবার ভালো হোক—এটাই আমার প্রত্যাশা।

‘‌এবার গ্রামের বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না’

—মনোজ প্রামাণিক, অভিনেতা

বরাবরই দুর্গা পূজায় গ্রামে যাওয়া হয়, কিন্তু এবার আর যাওয়া হচ্ছে না। এবারের দুর্গা পূজা শুটিং করেই কাটবে, তাই ঢাকায়ই থাকতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকায় এসে কাজ শুরু করার পরও সবসময় গ্রামেই পূজা কাটিয়েছি। ছোটবেলার পূজার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে গ্রামের সঙ্গে। দশমীর দিন ঠাকুরমার ২ টাকা দেয়া, মাটির হাঁড়িতে জিলাপি কেনা, নৌকায় শিবনদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া—এমন অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে।

ছোটবেলার পূজার অভ্যাসগুলো এখনো মোটামুটি একই আছে। গ্রামে যাওয়া, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আড্ডা দেয়া, পূজায় ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া ও নাড়ু খাওয়ার অভ্যাসগুলো রয়ে গেছে। এ সময় গ্রামের নদীর মাছ ভাজা খেতে খুব ভালো লাগে।

ছোটবেলা থেকেই দুর্গা পূজার সর্বজনীনতা দেখে আসছি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রা ও বারোয়ারি পূজার আয়োজনেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ দেখেছি। সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা।

‘পূজামণ্ডপে খিচুড়ি, লাবড়া ও লুচি খেতে ভালো লাগে’

—সুষমা সরকার, অভিনেত্রী

এবার পূজায় বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। ঢাকায়ই থাকব, মণ্ডপে ঘুরব। ১৯ তারিখ পর্যন্ত শুটিং আছে। শুটিং শেষে রাতে একটু বের হতে পারি। আপাতত এটুকুই পরিকল্পনা।

শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও পূজার কিছু বিষয় উপভোগ করতে চাই। সন্ধ্যা ও রাতে মণ্ডপে যে আরতি হয়, তা আমার খুব ভালো লাগে। দশমীর সিঁদুর খেলাও পছন্দের। আগে যখন গ্রামে থাকতাম, তখন দশমীর আনন্দ আরো বেশি উপভোগ করতাম। সবাইকে প্রণাম করা, মিষ্টি বিলানো আর ছোটবেলায় বড়দের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। পূজার এসব স্মৃতির পাশাপাশি মণ্ডপের খাবারের প্রতিও আলাদা ভালো লাগা আছে। খিচুড়ি, লাবড়া ও লুচি খেতে আমার খুব ভালো লাগে।

পূজার এ আনন্দের সঙ্গে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরা বাঙালি, উৎসবপ্রিয় মানুষ। ছোটবেলা থেকেই সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি দেখে বড় হয়েছি। ঈদেও আমরা আনন্দ করে উৎসব উদযাপন করেছি। ছোটবেলায় ঈদের জন্য নতুন কাপড়ও কিনতাম। আমি বারবার বলতে চাই, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।

আরও