হলিউড নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তির আগেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে ভারতের বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, নোলানের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তার চলচ্চিত্রগুলো সাধারণত ‘অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘স্পাইডার-ম্যান’, ‘অ্যাভাটার’ বা ‘দ্য জঙ্গল বুক’–এর মতো দেশটির সর্বস্তরের দর্শকের কাছে পৌঁছায় না। এ কারণে ‘দ্য ওডিসি’র গ্রহণযোগ্যতাও তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোলানের চলচ্চিত্রগুলো মূলত ভারতের প্রধান প্রধান শহরের মাল্টিপ্লেক্স দর্শকদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু টায়ার-২ ও টায়ার-৩ শহরগুলোয় তার সিনেমার আবেদন তুলনামূলক কম।
ভারতে শহরগুলোকে সাধারণভাবে অর্থনীতি, জনসংখ্যা ও অবকাঠামোর ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। টায়ার-১ শহর হলো দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় মহানগর। টায়ার-২ শহরগুলো তুলনামূলক ছোট হলেও দ্রুত উন্নয়নশীল, যেমন জয়পুর, লখনউ, কোয়েম্বাটুর বা ভোপাল। আর টায়ার-৩ শহর বলতে আরো ছোট শহর ও জেলা সদরগুলোকে বোঝানো হয়, যেখানে সিঙ্গেল স্ক্রিন ও স্থানীয় ভাষার সিনেমার দর্শকসংখ্যা বেশি।
ভ্যারাইটির বিশ্লেষণে বলা হয়, নোলানের চলচ্চিত্রের আঞ্চলিক ভাষার ডাব সংস্করণও খুব বেশি ব্যবসা করতে পারে না। বিপরীতে ‘অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘অ্যাভাটার’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান’–এর মতো চলচ্চিত্রে আঞ্চলিক ভাষার ডাব সংস্করণ থেকেই মোট আয়ের ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি এসেছে।
ভারতে ডাব সংস্করণসহ উল্লেখযোগ্য আয় করা কয়েকটি হলিউড সিনেমা— অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার (৩৯১ কোটি ৪০ লাখ রুপি), অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (৩৭৩ কোটি ৫ লাখ), অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার (২২৭ কোটি ৪৩ লাখ), স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম (২১৭ কোটি ১০ লাখ), দ্য জঙ্গল বুক (১৮৮ কোটি) এবং দ্য লায়ন কিং (১৫১ কোটি রুপি)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জটিল কাহিনি, বৈজ্ঞানিক ধারণার ব্যবহার এবং ইংরেজি সংলাপের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা সাধারণ দর্শকের কাছে নোলানের চলচ্চিত্রগুলোকে তুলনামূলক কম গ্রহণযোগ্য করে তোলে। পাশাপাশি তার সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রগুলোয় সুপারহিরো ঘরানার মতো ব্যাপক ‘মাস’ আবেদন, নায়কোচিত মুহূর্ত বা দর্শক-উত্তেজক উপাদান কম থাকায় টায়ার-২ ও টায়ার-৩ শহরের অনেক দর্শকের সঙ্গে সেগুলোর সংযোগ তৈরি হয় না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব সীমাবদ্ধতা থাকলেও ক্রিস্টোফার নোলানের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং আইম্যাক্সসহ বড় পর্দায় তার চলচ্চিত্র দেখার আগ্রহের কারণে ‘দ্য ওডিসি’ ভারতের বড় শহরগুলোর মাল্টিপ্লেক্সে শক্তিশালী ব্যবসা করতে পারে। এরই মধ্যে ১০০ কোটি রুপির কাছাকাছি চলে গেছে আয়।