‘মিশন ইম্পসিবল–ফাইনাল রেকনিং’ নিয়ে কানে ঝড় তুললেন টম ক্রুজ

‘মিশন ইম্পসিবল’ সিরিজের অষ্টম ছবি ‘ফাইনাল রেকনিং’—২০২৩ সালের ‘ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’-এর সিক্যুয়েল। কাহিনি ঘোরে বিশ্বব্যাপী ছড়ানো এআই দুর্যোগের আবর্তে, আর সেই চিরচেনা টম ক্রুজ স্টাইলে একের পর এক ‘অসম্ভব’কে সম্ভব করার গল্প।

তিন বছর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে 'টপ গান: ম্যাভেরিক' নিয়ে যেভাবে উড়াল দিয়েছিলেন, সেই একই কায়দায় আবারো আলোড়ন তুললেন টম ক্রুজ। এবার তিনি নিয়ে এসেছেন ক্রিস্টোফার ম্যাককোয়ারির পরিচালনায় ‘মিশন ইম্পসিবল: ফাইনাল রেকনিং’। সিনেমাটিকে এই বছরের কান উৎসবের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত হলিউড প্রিমিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর এপি।

বুধবার (১৪ মে) ‘গ্রাঁ থিয়েত্র লুমিয়ের’-এ ক্রুজের আগমন মুহূর্ত দেখানো হলে পুরো প্রেক্ষাগৃহ গুঞ্জনে ফেটে পড়ে। গাড়ি থেকে নামার মুহূর্তেই করতালি আর হর্ষধ্বনি। তারপর দীর্ঘক্ষণ তিনি হাসিমুখে ভক্তদের অটোগ্রাফ দিয়েছেন।

অনেকে আশা করেছিল, ২০২২ সালের মতো এবারও কোনো অভিনব আগমন ঘটবে এই হলিউড কিংবদন্তির। সেবার 'টপ গান: ম্যাভেরিক' প্রিমিয়ারে জেট প্লেন চালিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এবার সেটা না হলেও ‘ফাইনাল রেকনিং’-এর দল কানের বিখ্যাত লাল গালিচায় হাঁটল লালো শিফ্রিনের আইকনিক ‘মিশন: ইম্পসিবল’ থিমের লাইভ অর্কেস্ট্রা পরিবেশনার সঙ্গে। সিঁড়িতে উঠে দাঁড়িয়ে টম বললেন, ‘ব্রাভো!’

স্বাভাবিক নিয়মে কানে সেলফি তোলা নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু পরিচালক ম্যাককোয়ারি তো থামার পাত্র নন—হেলি অ্যাটওয়েল, সাইমন পেগ, অ্যাঞ্জেলা বাসেট, হান্নাহ ওয়াডিংহ্যামসহ গোটা দলের সঙ্গে তুলেছেন একের পর এক গ্রুপফটো।

‘মিশন ইম্পসিবল’ সিরিজের অষ্টম ছবি ‘ফাইনাল রেকনিং’—২০২৩ সালের ‘ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’-এর সিক্যুয়েল। কাহিনি ঘোরে বিশ্বব্যাপী ছড়ানো এআই দুর্যোগের আবর্তে, আর সেই চিরচেনা টম ক্রুজ স্টাইলে একের পর এক ‘অসম্ভব’কে সম্ভব করার গল্প।

ছবিটি স্ক্রিনিংয়ের পর কানে পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন দর্শকেরা। আবেগঘন ভাষণে টম বলেন, ‘ছোটবেলায় এমন কিছু কল্পনাও করিনি। আজ ৩০ বছর ধরে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে আপনাদের বিনোদন দিতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।‘

পরিচালক ম্যাককোয়ারি ও ক্রুজ ছিলেন একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ২০১৫ সালের 'রগ নেশন' থেকে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব নেয়া ম্যাককোয়ারিকে উদ্দেশ করে টম বলেন, ‘তোমার সঙ্গে আরো অনেক সিনেমা করতে চাই।‘

অন্যদিকে ম্যাককোয়ারির স্মৃতিচারণ, ‘আমি ছোটবেলায় ঠিকঠাক মানিয়ে নিতে পারতাম না, সব ছিল কল্পনার খেলা। এখন সেই কল্পনার খেলাই রূপ পেয়েছে এক জীবন্ত অ্যাকশন ফিগারে—টম ক্রুজে।‘

প্রেস কনফারেন্স না থাকলেও এক আলোচনায় হঠাৎই ঢুকে পড়েন ক্রুজ। সেখানে তিনি বললেন, ‘অজানা জিনিসের মুখোমুখি হতে আমার দারুণ লাগে। এটা আমার কাছে শুধু একটা অনুভূতি—যেটা আমাকে আটকায় না, উল্টো টানে।‘

‘ফাইনাল রেকনিং’-এর বাজেট প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। বিগত কিস্তি ‘ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’ ৫৭১ মিলিয়ন ডলার তুললেও প্রত্যাশা ছিল আরো বেশি। তাই এই কিস্তি ঘিরে উত্তেজনা এবং বক্স অফিসের চাপ দুটোই তুঙ্গে।

আরও