সংগীতের সব শাখায় বিচরণ করতে চাই

সংগীত নিয়ে নিজের ভাবনা, কোক স্টুডিওতে কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এ সংগীতশিল্পী।

কভার গান দিয়ে পরিচিতি পান সংগীতশিল্পী মাহতিম সাকিব। সাফল্য পেয়েছেন প্লেব্যাকেও। গজল, কাওয়ালি ও ভিন্ন ধারার সংগীতের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে তার। সংগীত নিয়ে নিজের ভাবনা, কোক স্টুডিওতে কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এ সংগীতশিল্পী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা চৌধুরী প্রিয়ন্তী

কভার গান দিয়ে আপনার পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। এখনো কি অন্যের গান গাওয়ার সে ভালোবাসা আছে?

অবশ্যই। কোনো গান বা সংগীতধারার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলে সেটা আমার মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে যায়। এখনো কোনো গজল শুনতে বসলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনতে পারি। একটা গান টানা কয়েক দিন শুনেছি, এমন ঘটনাও ঘটে। গানটির প্রতি ভালোবাসাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রোতারা আপনাকে মেলোডিনির্ভর গানের জন্য চেনেন। অন্য ধারার গান করলে শ্রোতারা গ্রহণ করবেন বলে মনে হয়?

কখনো কখনো শ্রোতারা নতুন কিছু গ্রহণ করেন, আবার কখনো করেন না। কিন্তু সে ভয়ে নিজেকে আটকে রাখতে চাই না। আমার জীবনে যেমন রবীন্দ্রসংগীত আছে, তেমনি গজল কিংবা হেভি মেটালও আছে। সবসময় একই ধরনের সংগীতের মধ্যে থাকতে চাই না। আমি এরই মধ্যে আগের কাজের চেয়ে একেবারে ভিন্ন ধরনের একটি অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছি।

আপনার শ্রোতারা অনেক আগে থেকেই আপনাকে কোক স্টুডিওতে দেখতে চেয়েছেন, কোক স্টুডিওতে কাজ করতে এত দেরি হলো কেন? আর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

কোক স্টুডিও থেকে যোগাযোগ করার পরই কাজের সুযোগ হয়েছে। এর আগে সুযোগ না এলে তো কাজ করা সম্ভব নয়। তবে কাজটির সময় আমি অসুস্থ ছিলাম, শারীরিকভাবেও ভালো অবস্থায় ছিলাম না। ফলে নিজেকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি আরো ভালো হতে পারত বলে মনে হয়। তার পরও আন্তর্জাতিক মানের একটি প্লাটফর্মে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ।

‘বুকের বাঁ পাশে’র মতো জনপ্রিয় গানসহ আপনি বেশ কয়েকটি প্লেব্যাক করেছেন। প্লেব্যাকের ক্ষেত্রে পর্দার অভিনেতার চরিত্রটি নিজের মধ্যে ধারণ করা কতটা জরুরি? সে চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নেন?

‘বুকের বাঁ পাশে’ গানে আফরান নিশো ভাই পর্দায় যে চরিত্রটি তুলে ধরছেন, তিনি নিজেও সে চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। আমিও গান গাওয়ার সময় সে চরিত্রটিকে নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করি। ফলে পর্দায় চরিত্রের অভিব্যক্তি আর গানের মধ্যে একটা সংযোগ তৈরি হয়, যা শ্রোতা-দর্শকের ভালো লাগার অন্যতম কারণ। প্লেব্যাক আসলে বেশ কঠিন একটি কাজ, কারণ এখানে অন্য একজন মানুষকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হয়। তবে অভিনেতার চরিত্রটি বুঝতে পারলে কাজটা কিছুটা সহজ হয়। একই চরিত্রকে দুজন মানুষ তাদের নিজস্ব কল্পনা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দুভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। তাই চরিত্রটি বোঝা এবং তার অনুভূতি নিজের কণ্ঠে প্রকাশ করাটা খুবই সূক্ষ্ম ও চ্যালেঞ্জিং একটি প্রক্রিয়া।

আপনাকে প্রায়ই বাংলাদেশের অরিজিৎ সিং বলা হয়। এ তুলনা কেমন লাগে?

এতে খুব একটা খারাপ লাগে না, আবার খুব ভালোও লাগে না। একটা সময় অরিজিৎ সিংয়ের গান প্রচুর শুনেছি। তার গায়কির প্রভাব আমার মধ্যে পড়েছিল, সেটি অস্বীকার করব না। কিন্তু আমি মাহতিম সাকিব হিসেবেই পরিচিত হতে চাই। কয়েক বছর ধরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরিতে সচেতনভাবে কাজ করছি। শ্রোতারা যদি পাঁচ, সাত বা ১০ বছর পরও আমাকে আমার নিজের পরিচয়ে চিনতে পারেন, সেটাই হবে সাফল্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা এখন শিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি সেখানে নিজেকে পিছিয়ে রাখছেন?

এখানে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত—দুটি দিক আছে। শিল্পী হিসেবে নিজের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া দায়িত্বের অংশ। তাই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু শিল্পী মাহতিম আর ব্যক্তি মাহতিম এক নয়। কাজের প্রচার করতে চাই, তবে ব্যক্তিগত জীবন সবসময় প্রকাশ্যে আনতে চাই না। আমি ঘরে থাকতে, নিজের মতো কাজ করতে, রেওয়াজ করতে ও ছবি আঁকতে পছন্দ করি।

বর্তমানে সবকিছুতে প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট, সংগীতও তার ব্যতিক্রম নয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি একসময় সংগীতশিল্পীদের জায়গা দখল করে নেবে?

আমার তা মনে হয় না। এআই একটি প্রযুক্তিগত হাতিয়ার। অটোটিউন আসার সময়ও অনেকে বিরোধিতা করেছিলেন, অথচ এখন সংগীত উৎপাদনে এর ব্যবহার ব্যাপক। এআই হয়তো আবেগ প্রকাশে শিল্পীকে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু শিল্পী ও শ্রোতা দুজনই রক্ত-মাংসের মানুষ। তাদের অনুভূতির সংযোগ আলাদা। প্রযুক্তি সহযোগী হতে পারে, কিন্তু শিল্পীকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে বলে মনে করি না।

আরও