‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বার্তা দেয়ায় র্যাপার ম্যাকলমোরকে বাদ দেয়ায় এড শিরানের সফর থেকে সরে দাঁড়ালেন বিলি আইলিশের ভাই ও সংগীত সহযোগী ফিনিয়াস। ম্যাকলমোরকে বাদ দেয়ার ঘটনায় এড শিরানের সফর থেকে সরে দাঁড়ানো কয়েকজন শিল্পীর মধ্যে সর্বশেষ ফিনিয়াস। খবর দ্য হিল।
ফিনিয়াসের আগে ডেনমার্কের ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম, আয়ারল্যান্ডের ব্যান্ড বিওগা এবং অ্যারন রো জানিয়েছেন, তারা শিরানের ‘লুপ’ সফরে ম্যাসাচুসেটসের উদ্বোধনী পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছে না। তাদের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত শিরান বলেছেন, তার নিজের সিদ্ধান্ত নয়। ফলে তাদের ছাড়াই সফর শুরু হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিনিয়াস লিখেছেন, ‘শিল্পীরা নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বললে তাদের চুপ করিয়ে দেয়া উচিত নয়। এড শিরানের সঙ্গে আমার আসন্ন সফরের তারিখগুলো থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ফিলিস্তিন ও এর জনগণের পাশে আছি।’
চলতি বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আমেরিকায় শিরানের ছয়টি অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী পরিবেশনা করার কথা ছিল ফিনিয়াসের।
গত মাসে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের উদ্বোধনী পরিবেশনায় ফিলিস্তিনের পক্ষে বার্তা দেন ম্যাকলমোর। এ নিয়ে ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠন সমালোচনা শুরু করে বলে জানিয়েছে হলিউড রিপোর্টার।
গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ম্যাকলমোর বলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে যে জিলেট স্টেডিয়ামে তাদের পরিবেশনের কথা ছিল, সেটির মালিক রবার্ট ক্রাফট তাকে অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেয়ার জন্য ফোন করেছিলেন বলে শিরান তাকে জানিয়েছেন।
সিয়াটলের এ র্যাপার বলেন, ‘এড আমাকে বলেছেন, ক্রাফট বলেছেন যে তার স্টেডিয়ামে আমাকে পরিবেশনের অনুমতি দেয়া হবে না। এড আরো বলেছেন, ক্রাফট আরো কয়েকটি স্টেডিয়ামের মালিককে নিজের পক্ষে নিয়েছেন এবং তারা সম্মিলিতভাবে তাকে শর্ত দিয়েছেন—ম্যাকলমোর যদি সফরে থাকেন, তাহলে আপনাকে আমাদের ভেন্যুগুলোয় পরিবেশন করতে দেয়া হবে না।’
ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনের দিকে ফিরিয়ে নেয়া’ যদি তাকে সফর থেকে বাদ দেয়ার কারণ হয়ে থাকে, তাহলে ‘এটাই ছিল আমার অংশ নেয়া সবচেয়ে সফল সফর।’
লুকাস গ্রাহাম গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে তাদের সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ব্যান্ডটি বলেছে, ‘যুদ্ধ নিয়ে, বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়া নিয়ে, বেড়ে ওঠার অধিকার থাকা শিশুদের নিয়ে আমাদের কথা বলতে পারা উচিত। তারা যেখানেই বাস করুক না কেন। তাদের ওপর যে পতাকাই উড়ুক না কেন।’
গতকাল অ্যারন রো ও বিওগাও একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তারা বলেছে, ম্যাকলমোর ও ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা সফর থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।