বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র অনেক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। অভিনয় করেছেন থিয়েটারেও। দুই হাঁটুতে সমস্যার কারণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভীষণ অসুস্থ তিনি। বড় ছেলে মিঠুন ও মেজ ছেলে নিপুণের সঙ্গে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকেন তিনি।
তার বড় ছেলে মিঠুন গণমাধ্যমকে জানান, বাবার ঘুমের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যখন ইচ্ছে তখন ঘুমান। আর একটি নির্দিষ্ট রুমের বাইরে তিনি সাধারণত বের হন না। একটি ঘরেই সময় কাটে প্রবীর মিত্রের। তাকে মিঠুন, নিপুণ ও তাদের স্ত্রীরা যথেষ্ট সময় দেয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ চার বছর ধরে এ বাসায়ই আছেন প্রবীর মিত্র। একদমই কোনো খোঁজখবর রাখেন না তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থলের প্রিয়জনরা। প্রবীর মিত্রের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। তার সঙ্গে শেষবার আড্ডাও দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষমেশ তা আর হলো না। এখন আর কাউকে দেখার ইচ্ছেও নেই তার।
মিথুন বলেন, ‘বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। আমাদের মাথার ওপর বাবা ছায়া হয়ে এখনো আছেন, এটাই তো আসলে অনেক বড় কিছু।’ ১৯৮২ সালে প্রবীর মিত্র মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর পর থেকে ৪০০-এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি ২০০৮ সালে ‘আজীবন সম্মাননা’য়ও ভূষিত হয়েছেন।
তবে একুশে পদক কিংবা স্বাধীনতা পদক পাননি তিনি। পেয়েছেন ‘দর্শক ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’, ‘ঢাকা কালচারাল রিপোর্টার্স ইউনিটি অ্যাওয়ার্ড’সহ বহু সম্মাননা। নায়ক হিসেবে প্রবীর মিত্রের প্রথম চলচ্চিত্র ছিল জহির রায়হানের শেষ সহকারী শেখ নজরুল ও ইলতুতমিস পরিচালিত ‘চাবুক’। এতে তার নায়িকা ছিলেন কবরী। সর্বশেষ প্রবীর মিত্র এসডি রুবেল পরিচালিত ‘বৃদ্ধাশ্রম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর আর কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি তিনি। রাজধানীর তাঁতীবাজারের ‘মিত্র ভবন’-এর মালিক প্রবীর মিত্রের পরিবার। তার ভাই সুবীর মিত্র কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ার সময় দিল্লি থেকে তার বোন শুনু ও কলকাতা থেকে তার বোন সরস্বতী এসেছিলেন। গতকাল ৮৪ বছরে পা রেখেছেন গুণী এ অভিনেতা। ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।