সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন বিজয়

অল ইন্ডিয়া বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড করেছে লিও। প্রথমদিনে ভারতে এত বড় ওপেনিং আর কোনো সিনেমা পায়নি।

অল ইন্ডিয়া বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড করেছে লিও। প্রথমদিনে ভারতে এত বড় ওপেনিং আর কোনো সিনেমা পায়নি। অবশ্য ৫০০ কোটির ক্লাব পার করে কতটা দূরে যাবে এটি তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কেননা ফুটফলস কমছে সিনেমাটির। লোকেশের এ সিনেমা সব দর্শকের পছন্দ হয়নি। তবে তাতে বিজয়ের প্রশংসা কমেনি। সিনেমায় তার অভিনয় সবারই নজর কেড়েছে। সিনেমা মুক্তির আগেই ‘‌থালাপতি’র গুণ গাইতে শুরু করেছিল তার ভক্তরা। ‘‌লিও’র পর এখন অনেকে বিজয়কে ‘‌থালাপতি’র বদলে ‘‌লিও’ই বলছে। সিনেমা ততটা ভালো না করলেও বিজয়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ল বৈ কমল না।

বিজয় অবশ্য সম্প্রতি ব্র্যান্ড হননি। ১৯৯২ সালে বাবা এসএ চন্দ্রশেখরের সিনেমা ‘‌নালাইয়া থিরপু’ দিয়ে অভিষেকের সময়ই জানান দিয়েছিলেন নতুন এক তারকা আসছে। ধীরে ধীরে তিনি তামিল সিনেমার ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন আর নিজেকে তৈরি করেছেন রজনীকান্ত-পরবর্তী কলিউড সিনেমার ব্র্যান্ড হিসেবে। ৩১ বছরের ক্যারিয়ারে এখন বিজয়কে সবাই ‘‌ইলায়া থালাপতি’ বলেই ডাকেন।

কিন্তু বিজয় কেমন করে নিজেকে এ উচ্চতায় তুললেন? সহজ উত্তর তার অভিনয় দক্ষতা আর ৩০ বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রম, উদ্যম। কিন্তু দর্শক কেন তাকে এত পছন্দ করেন? মজার ব্যাপার, এ প্রশ্নের সদুত্তর তার একনিষ্ঠ ভক্তরাও স্পষ্ট করে দিতে পারেনি। কেউ পছন্দ করে বিজয়ের নাচ, কারো পছন্দ তার কমিক টাইমিং আর কারো পছন্দ বিজয়ের ‘‌মাস অ্যাপিল’। মূলত অভিনয়, নাচ, কমিক টাইমিংয়ের সঙ্গে অ্যাকশন, রোমান্স সব মিলিয়ে বিজয় একটা প্যাকেজের মতো কাজ করে সিনেমাপ্রেমীদের জন্য।

কিন্তু শুরুতেই যে তার এত গুণ ছিল এমন নয়। বিজয় এ জায়গায় পৌঁছতে রাত-দিন এক করে কাজ করেছেন। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নিয়েছেন। তার পুরনো সিনেমায় অভিনয় বা লুক দেখলে বোঝা যাবে তখনো এতটা ‘‌শার্প’ ছিলেন না বিজয়। স্বাস্থ্যবান ছিলেন, চেহারায় ছিল বালকসুলভ পেলবতা। লিও দাস বা পার্থিভানের মধ্যে তা নেই। বিজয় একের পর এক অ্যাকশন সিনেমা করেছেন গত কয়েক বছর। মাস্টার, বিগিল, বিস্ট বা তার আগে থেরি থেকে সাম্প্রতিক লিও; প্রতিটি সিনেমায় বিজয় যেন অক্লান্ত এক চিতাবাঘ। ৪৯ বছর বয়সে তিনি অ্যাকশন করেন তরুণের মতো। দর্শক তাই মেতে থাকে। এসব বিজয়ের নিজের কল্যাণে। তিনি স্ক্রিপ্ট বেছে নিয়েছেন সতর্ক হয়ে। বুঝতে চেয়েছেন দর্শক কী চায়। এর মধ্যে ব্যর্থও হয়েছেন (যেমন নেলসনের বিস্ট) কিন্তু থামেননি। ব্যর্থতায় প্রভাবিত না হয়ে নতুন করে এগিয়েছেন।

বিজয়ের আজকের অবস্থানে আসতে তাকে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে বহু প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার সঙ্গে। এ তালিকায় প্রথমেই ছিলেন রজনীকান্ত। এরপর কমল হাসান, বিজয়কান্ত ও সত্যরাজের নাম করতে হয়। প্রতিযোগিতার কথা এল, কারণ এরা সবাই বিজয়ের সিনিয়র অভিনেতা হলেও তারা ছিলেন তামিল সিনেমার প্রতিষ্ঠিত নাম। দর্শকের মনে-মগজে তারাই ছিলেন। তরুণরাও তাদেরই ‘‌নায়ক’ মনে করত। এরপর বিজয় দিনে দিনে তাদের ‘‌নায়ক’ হয়ে ওঠে। তিনি এক্ষেত্রে অনুসরণ করেছিলেন রজনীকান্তকে। অবশ্য রজনীকান্তের মতো অতিমানুষিক অভিনয় তিনি সবসময় করেননি। তবে বিজয়ের অভিনয় মনোযোগ দিয়ে দেখলে বোঝা যায় তার অভিব্যক্তি, অ্যাকশন ও সংলাপ বলার ঢঙে রজনীকান্তের প্রভাব আছে। 

বিজয় প্রথমে ছিলেন রোমান্টিক হিরো। রাসিগান (১৯৯৪), দেবা (১৯৯৫), নেরুকু নের (১৯৯৭), মিনসারা কানা (১৯৯৯), খুশি (২০০০), শাহজাহান (২০০১) সিনেমাগুলোর মধ্য দিয়ে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। এর সঙ্গেই ছিল অ্যাংরি ইয়ং ম্যানের কিছুটা ছাপ। কিন্তু রোমান্টিক সিনেমার দিন চলে যাচ্ছিল। বিজয় এরপরই লার্জার দ্যান লাইফ তামিল নায়কদের পুরনো ফর্মুলায় চলে আসেন। অভিনয় করেন থিরুমালাই (২০০৩), ঘিল্লি (২০০৪), মাধুরেলাই (২০০৪), থিরুপাচি (২০০৫) প্রভৃতি সিনেমায়। এসব সিনেমাই তাকে থালাপতি করে তুলেছে।

এরপর বিজয়ের অভিনয়ের একটা নিজস্ব ধারাই তৈরি হয়ে গেছে। ওদিকে তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও পেয়ে গেছে তাদের নতুন সুপারস্টারকে। সব মিলিয়ে ২০১০-এর পর শুরু হয় বিজয়ের নতুন যাত্রা। এর মধ্যে ছিল থেরি, বিগিল, মাস্টার, কাথ্‌থি, থালাইভা ও ভৈরবের মতো সিনেমা। অ্যাকশন, রোমান্স, কমেডি, ফ্যামিলি ড্রামার মিশ্রণে একেকটি সিনেমা হয়ে উঠেছে দর্শকের শিস বাজানোর কারণ। তারা বিজয়কে করে নিয়েছে আরো আপন। পাশাপাশি নেলসন, অ্যাটলি কুমারের মতো পরিচালকরা পেয়েছেন বিজয়ের পৃষ্ঠপোষকতা। বিজয় তাই এখন তামিল ইন্ডাস্ট্রির ভরসার স্থান।

আরও