সিনেমাটির অভিনয়শিল্পীদের ‘আনঅফিশিয়াল ফার্স্ট লুক’ ধাপে ধাপে প্রকাশ করছেন নির্মাতা। নাজিফা তুষি, আফসানা মিমি, ফররুখ আহমেদ রেহান ও চঞ্চল চৌধুরীর পর এবার প্রকাশ করা হয়েছে সিয়াম আহমেদের লুক।
সিনেমায় সিয়াম চরিত্রের নাম দেলোয়ার। পেশায় তিনি একজন ডিটেকটিভ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিয়ামের ফার্স্ট লুক প্রকাশ করে চরিত্রটি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান রায়হান রাফী।
নির্মাতা লিখেছেন, আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার সিনেমার নায়কদের আলাদা মানুষ হিসেবে দাঁড় করাতে। ‘পোড়ামন ২’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’, ‘তাণ্ডব’-এর একটা নায়কের সঙ্গে আরেকটার কোনো মিল পাবেন না। কিন্তু এত দিনেও একেবারে ক্ল্যাসিক হিরো চরিত্র নিয়ে কাজ করা হয়নি। ‘আন্ধার’ আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছে।
রাফী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন একজন নায়ক—যে শারলক হোমস বা ব্যাটম্যানের মতো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যে মানুষের পাশে দাঁড়ায় শুধু এ কারণে যে মানুষটা বিপদে। এর পেছনে তার কোনো ব্যক্তিগত লাভ নেই, কোনো প্রতিশোধ নেই। এ ধরনের চরিত্র আমাদের গল্পে খুব একটা দেখা যায় না। আন্ধার করতে গিয়ে মনে হয়েছে, আমাদের এমন নায়ক খুব দরকার। আর সেই চরিত্রের খোঁজ করতে গিয়েই আমরা পেয়েছি সিয়াম আহমেদকে।’
সিয়ামের অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘সিয়াম তার সবটুকু দিয়ে ডিটেকটিভ দেলোয়ারকে জীবন্ত করে তুলেছে। শুটিংয়ের আগে এ চরিত্রে অনেককেই ভেবেছি। কিন্তু শুটিং শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে—দেলোয়ার মানেই সিয়াম। এখন এ চরিত্রে অন্য কাউকে কল্পনাই করতে পারি না।’
নিজের ফার্স্ট লুক শেয়ার করে সিয়াম লিখেছেন, একজন অভিনেতার জীবনে মাঝে মাঝে এমন কিছু চরিত্র আসে যেগুলো একই সঙ্গে খুব ডিমান্ডিং অ্যান্ড ডেলিশাস হয়। যে চরিত্রে সুযোগ থাকে নিজেকে বহুরূপী বানানোর। যেখানে চাইলেই সিয়াম আহমেদ হয়ে যেতে পারে ডিটেকটিভ দেলোয়ার। রায়হান রাফী, সাকিব ভাই, আদনান ভাইরা যেভাবে দেলোয়ারকে পর্দায় দেখতে চেয়েছেন সেভাবে আমি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি কিনা জানি না। কিন্তু আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি—এটা আমি জানি। আমার চরিত্র পেশায় ডিটেকটিভ কিন্তু রহস্যের এ মায়াজগতে আমার নিজেরও একটা ‘আন্ধার’ জগৎ আছে। ‘আন্ধার’ আসছে, আসছে ডিটেকটিভ দেলোয়ার।
এদিকে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ এখনো জানানো হয়নি। মুক্তির আগে পোস্টার, টিজার ও ট্রেলার পর্যায়ক্রমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর সিনেমাটি সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন নির্মাতা।
গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে ‘আন্ধার’-এর বেশির ভাগ শুটিং হয়েছে। ভৌতিক লোককাহিনী ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রতি আগ্রহ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে গল্প সংগ্রহ করেছেন অর্থহীনের সাইদুস সালেহীন সুমন ও ক্রিপটিক ফেইটের শাকিব চৌধুরী। তাদের সংগ্রহ করা গল্প ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।