অনুসন্ধানের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিলেন মামুত্তি

মূলধারার সিনেমায় তদন্ত দেখানোর নির্দিষ্ট কিছু ধারা আছে। সচরাচর দেখানো গোয়েন্দা সিনেমার বাইরেও পুলিশি তদন্ত নিয়ে এখন তৈরি হয় আরো অনেক সিনেমা।

মূলধারার সিনেমায় তদন্ত দেখানোর নির্দিষ্ট কিছু ধারা আছে। সচরাচর দেখানো গোয়েন্দা সিনেমার বাইরেও পুলিশি তদন্ত নিয়ে এখন তৈরি হয় আরো অনেক সিনেমা। সেখানে ধাপ মেনে তদন্ত দেখানো হয়। আর এখন লোকেশন ট্র্যাক করা থেকে শুরু করে সিস্টেম হ্যাক করে তথ্য বের করা হয়। কিন্তু সব ক্ষেত্রে পুলিশের এ সুযোগ থাকে না। তারা পুরনো ধারা মেনেই তদন্ত করেন। আসে নানা রকম বাধা। ভারত বা উপমহাদেশের পুলিশের ক্ষেত্রে এ ঘটনা খুব পরিচিতি। যদিও গ্ল্যামার না থাকার কারণে সিনেমায় তা আসে না। কিন্তু কিছুদিন ধরে ভারতের সিনেমায় এসব বিষয় আনা হচ্ছে। মামুত্তি অভিনীত ‘কান্নুর স্কোয়াড’ এ ধারারই সিনেমা।

কান্নুর স্কোয়াড আমাদের দেখায় কয়েকজন পুলিশ অফিসারের একটি টিমকে। তারা পুলিশের বড় কোনো পদে নেই। সোজা কথায় মধ্যবিত্ত পুলিশ বলা চলে। ডিপার্টমেন্ট থেকে অনেক সুযোগ তারা পায় না। নিজেদের গরজেই করতে হয় তদন্ত। একটা কেস পাওয়া গেলে তার ওপর আসে নানা চাপ। এসব গল্প নিয়েই এগোতে থাকে সিনেমা। দেখা যায়, তারা তদন্তের জন্য ভারতের এক মাথা থেকে অন্য মাথায়ও চলে যায়। এদের পুরো টিমের নামেই তৈরি হয়েছে কান্নুর স্কোয়াড। 

সিনেমায় অভিনয় করেছেন মামুত্তি। তিনিই বলা চলে এ সিনেমার প্রাণ। তবে খুবই ‘ডাউন টু আর্থ’ চরিত্র ছিল মামুত্তির। চরিত্রের নাম এএসআই জর্জ মার্টিন। সে কান্নুর স্কোয়াডের প্রধান। স্কোয়াডে তার সঙ্গে আছেন আরো চারজন পুলিশ। মজার ব্যাপার, এদের নিজেদের মধ্যে আছে মতাদর্শগত নানা সমস্যা। কিন্তু তার মধ্য দিয়েই এরা নিজেদের কাজ এগিয়ে নেয়। সিনেমার শুরুতে দেখি একজন প্রতিবেদকের সঙ্গে তিনি কথা বলছিলেন। দেখা যায়, অনেক সময়ই তারা ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে সাহায্য পায় না।

কান্নুর স্কোয়াডের গল্পটা একটা কেসকে কেন্দ্র করে। সিনেমায় দেখা যায়, একটি হত্যাকান্ডের তদন্ত করছে টিম। কিন্তু সেখানে হত্যার পাশাপাশি ছিল ডাকাতি করার উদ্দেশ্য। প্রশ্ন হলো ডাকাতিই মূল নাকি হত্যা। গল্প উন্মোচন করতে গিয়ে দেখা যায় ক্রাইমের মধ্যে আরো অনেক ঘটনা আছে। ক্রিমিনালদের উদ্দেশ্য এক রকম, কিন্তু তারা অপরাধ করেছে অন্য রকম। সে কারণেই তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। 

রবি ভার্গিস রাজ পরিচালিত কান্নুর স্কোয়াডে অভিনয় করেছেন কিশোর, বিজয়রাঘব, রনি ডেভিড, শাহবারিশ বর্মা, সানি ওয়েন প্রমুখ। মূলধারার সিনেমায় মামুত্তি ও কিশোর কুমার ছাড়া এদের তেমন দেখা যায় না। তাই ভার্গিসের এ সিনেমায় প্রথমেই একটা নতুন স্বাদ পাওয়া যায়। পরিচিত চেহারার বাইরের মানুষ সিনেমায় দেখতে পাওয়া দুষ্কর। সে জিনিসই ভার্গিস করেছেন এবং মনে হচ্ছিল এ মানুষগুলো আসলেই পুলিশে কাজ করে। এদের কারো আছে অর্থনৈতিক সমস্যা, কারো আছে আদর্শগত। কিন্তু এর মধ্যেই কাজের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। এ আদর্শ মূলত জর্জ মার্টিনের। সে পুরো কাজটা সুন্দর করে শেষ করতে চায়। এজন্য টিমকে এক করে রাখাও তার অন্যতম দায়িত্ব।

তদন্তের জন্য কান্নুর স্কোয়াডকে যেতে হয় ভারতের অন্য এক প্রান্তে। কিন্তু তারা চাইলেও ডিপার্টমেন্টের সাহায্য পায় না। জর্জের দাবি ছিল তাদের প্লেনে করে নেপালের সীমান্তে পাঠানো। কিন্তু খরচের কারণে পিছিয়ে যায় ডিপার্টমেন্ট। এমনকি তাদের তদন্ত ছেড়ে চলে আসতেও বলা হয়। কিন্তু কান্নুর স্কোয়াড তা করে না। তারা এগিয়ে যায় নিজেদের মতো এবং শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, দুর্ধর্ষ এ সন্ত্রাসীদের ধরা না গেলে বেশ ক্ষতিই হতো।

কান্নুর স্কোয়াড একটি সাদামাটা সিনেমা। এখানে প্রথমত দেখা যায় সাধারণ একটি গল্প। সে সাদামাটা গল্পে পুলিশরাও সাদামাটা। তাদের মধ্যে দক্ষিণী সিনেমার হিরোইজম দেখা যায় না। কিন্তু তাদের নায়কোচিত আচরণ আসলে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করে নেয়ার মধ্যে। অবশ্য ভার্গিস এর মধ্যেও একটি বা দুটি সিকোয়েন্স রেখেছেন। এক গ্রামে মানুষের বিরুদ্ধে কান্নুর স্কোয়াড ও শেষ অংশের অ্যাকশন—যেখানে জর্জ মার্টিনকে দক্ষিণী নায়কদের মতো অ্যাকশনে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে দেখা গেছে। এর বাইরে পুরো সিনেমা সহজ ও সাধারণ। কিন্তু তার মধ্যেই পুলিশি তদন্তের বাস্তব অভিজ্ঞতা দর্শককে দিলেন মামুত্তি।

আরও