বক্স অফিসে প্রাথমিক ব্যর্থতার পর

দর্শকরাই ফিরিয়ে আনলেন ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’, বললেন ইমতিয়াজ আলী

১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ ইন্ডিয়া ভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত রোমান্টিক চলচ্চিত্রটি ১২ জুন মুক্তি পায়। রোটেন টমেটোসে সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়া ছবিটির ৯২ শতাংশ রিভিউ ইতিবাচক ছিল। তবে মুক্তির প্রথম দিনের আয় ছিল মাত্র ১ কোটি ১৫ লাখ রুপি নেট

মাত্র ১ কোটি ১৫ লাখ রুপি আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ইমতিয়াজ আলীর নতুন চলচ্চিত্র ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। মুক্তির প্রথম দিনে এমন আয় দেখে অনেকেই বলিউড ছবিটিকে বক্স অফিসে ব্যর্থ বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু সপ্তাহ গড়াতেই দর্শকদের মুখে মুখে প্রচার ছবিটিকে বছরের অন্যতম আলোচিত সাফল্যের গল্পে পরিণত করেছে।

১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ ইন্ডিয়া ভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত রোমান্টিক চলচ্চিত্রটি ১২ জুন মুক্তি পায়। রোটেন টমেটোসে সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়া ছবিটির ৯২ শতাংশ রিভিউ ইতিবাচক ছিল। তবে মুক্তির প্রথম দিনের আয় ছিল মাত্র ১ কোটি ১৫ লাখ রুপি নেট।

প্রথম সপ্তাহ শেষে ছবিটির দেশীয় নেট আয় দাঁড়ায় ১২ কোটি ২৫ লাখ রুপি। তখনো ছবিটি গতি পাচ্ছে বলে মনে হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। দ্বিতীয় শনিবার ছবিটি আয় করে ৪ কোটি ৩৫ লাখ রুপি, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১২৯ শতাংশ বেশি। পরদিন আয় হয় আরো ৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। মুক্তির ১১তম দিনে ছবিটির মোট ভারতীয় নেট আয় পৌঁছে যায় প্রায় ২৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে।

ছবিটির প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহের কারণে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অতিরিক্ত শোও যুক্ত করা হয়েছে।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত ইমতিয়াজ

পরিচালক ইমতিয়াজ আলী নিজেও বিভিন্ন শহরের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, “ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গার প্রতি দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় আমি অভিভূত। আমি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি এবং তাদের চোখ দিয়ে ছবিটিকে দেখার চেষ্টা করি। ইতোমধ্যে ছয়টি শহরে গিয়েছি, আরো কয়েকটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।’

ছবিটির সাফল্য নিয়ে বৃহত্তর একটি বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

‘শেষ পর্যন্ত জনতাই আসল শক্তি। আমরা সব সময় মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণি ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীতে ভাগ করে তাদের প্রতিক্রিয়া অনুমান করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার মনে হয় মানুষ সিনেমা খুব ভালোভাবেই বোঝে। কীভাবে সিনেমা বানাতে হয় এবং কীভাবে বাজারজাত করতে হয়, তা আমাদের দর্শকদের কাছ থেকেই শেখা উচিত।’

ইমতিয়াজ আলী

পাশে দাঁড়িয়েছে প্রদর্শক ও পরিবেশক

ইমতিয়াজ আলীর মতে, শুধু দর্শকই নয়, প্রদর্শক ও পরিবেশকরাও ছবিটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘এই যাত্রায় আমি দর্শক, প্রদর্শক, প্রেক্ষাগৃহ ও পরিবেশকদের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক দেখেছি। ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গার ক্ষেত্রে এটি যেন এক অনন্য সংযোগ হয়ে উঠেছে। প্রদর্শক, হলমালিক ও পরিবেশকরা নিজেদের ছবির মতো করেই সমর্থন দিয়েছেন।’

তার ভাষায়, দর্শকদের চাহিদার কারণে অনেক প্রেক্ষাগৃহে সাধারণত পাওয়ার কথা না এমন সময়েও অতিরিক্ত শো চালু করা হয়েছে।

দুর্বল সূচনার পর দর্শকদের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়ানো ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ এখন বলিউডে ‘ওয়ার্ড-অব-মাউথ’ সাফল্যের এক বিরল উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

দ্য স্টেটসম্যান অবলম্বনে

আরও