অঙ্কুশ শেষ করতে বন্ধক রেখেছিলেন নিজের বাড়ি

অসুস্থতা নিয়ে ‘ক্রান্তিবীর’-এর ক্লাইম্যাক্সে অভিনয় করেছিলেন নানা

সিনেমার প্রতি তার দায়বদ্ধতা শুধু নিজের অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নির্মাতা এন. চন্দ্রকে ‘অঙ্কুশ’ সিনেমাটি শেষ করতে সাহায্য করার জন্য নিজের বাড়ি পর্যন্ত বন্ধক রেখেছিলেন নানা।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সততার সঙ্গে অভিনয় করেছেন নানা পাটেকর। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝেছিলেন, একজন অভিনেতাকে খুব বেশি দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিতে পারে শুধু চেহারা নয়। দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিনয় করার ক্ষমতা। এই উপলব্ধি থেকেই নিজের কাজের প্রতি তার গভীর দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। সেই দায়বদ্ধতা এতটাই প্রবল ছিল যে, একবার বেঁচে ফিরবেন কি না সেই আশঙ্কার মধ্যেও হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে ‘ক্রান্তিবীর’-এর ক্লাইম্যাক্সের শুটিং শেষ করেছিলেন তিনি। ‘অঙ্কুশ’ নির্মাতা এন. চন্দ্রকে সাহায্য করতে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন নানা পাটেকর।

‘দ্য ল্যালানটপ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নানা বলেন, ‘ক্রান্তিবীরের ক্লাইম্যাক্সের শুটিংয়ের ঠিক আগে আমি হাসপাতালে ছিলাম। ভীষণ অসুস্থ ছিলাম। মনে হচ্ছিল, আজ যদি আমি মারা যাই, তাহলে আগামীকাল আমার পরিচালক ও প্রযোজকও মারা যাবেন। তাই ডাক্তারদের অনুরোধ করলাম, আমাকে কাজটি শেষ করতে দিতে হবে। নিজের ডাক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সেটে গেলাম। পরিচালককে বললাম, পাঁচটি ক্যামেরা প্রস্তুত রাখতে। ডাক্তার বলেছিলেন, আমাকে বিশ্রাম নিতে হবে। ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্যটি সাত দিনে শুট করার কথা ছিল। কিন্তু আমি এক টেকেই আড়াই ঘণ্টায় সেটি শেষ করে ফেলি।’

সিনেমার প্রতি তার দায়বদ্ধতা শুধু নিজের অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নির্মাতা এন. চন্দ্রকে ‘অঙ্কুশ’ সিনেমাটি শেষ করতে সাহায্য করার জন্য নিজের বাড়ি পর্যন্ত বন্ধক রেখেছিলেন নানা।

ঘটনাটি স্মরণ করে নানা বলেন, ‘তিনি গুলজারের সহকারী ছিলেন। ‘‘মেরে আপনে’’ পরিচালনা করেছিলেন। পরে তপন সিংহ বাংলায় ‘‘আপনজন’’ নামে সিনেমাটি তৈরি করেন। এরপর চন্দু ওই সিনেমাগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ‘অঙ্কুশ’ বানানোর কথা ভাবলেন।’

‘অঙ্কুশ’-এর পোস্টার। ছবি: আইএমডিবি

সিনেমাটির জন্য অভিনেতাদের পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট ছিল। ১০ হাজার টাকা তাদের জন্য। ৩ হাজার টাকা অগ্রিম পেয়েছিলেন নানা ও তার সহঅভিনেতারা। বাকি ৭ হাজার টাকা সিনেমা মুক্তির পর দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিনেমা নির্মাণের মধ্যবর্তী সময়েই সব অর্থ খরচ হয়ে গিয়েছিল। নানা বলেন, ‘চন্দ্রকে সাহায্য করার জন্য আন্ধেরির আমার বাড়িটি বন্ধক রেখে তাকে আড়াই লাখ রুপি দিয়েছিলাম। সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো করেছিল। চন্দ্র আমার টাকা ফেরত দেয়ার পাশাপাশি একটা স্কুটারও উপহার দিয়েছিল। ওটা আমার জীবনের প্রথম ব্যক্তিগত বাহন ছিল।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আরও