টম ক্রুজের নতুন লুক

‘ডিগার’-এ ভেঙে যাচ্ছে অ্যাকশন হিরোর চিরচেনা মুখ

ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই টম ক্রুজের এই রূপান্তরকে ২০০৮ সালের ট্রপিক থান্ডার-এ তার স্মরণীয় উপস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে ডিগার কেবল একটি ভিন্ন মেকআপের প্রদর্শনী নয়। সিনেমাটি টমের নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা

টম ক্রুজ। নামটি সামনে এলেই চোখে ভাসে সুদর্শন এক অভিনেতার মুখ। সেই সঙ্গে আছে অসম্ভব সব স্টান্ট, দুর্বার গতি আর ‘মিশন: ইম্পসিবল’-এর ইথান হান্ট। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন এমন এক তারকায়, যিনি বয়সকে অগ্রাহ্য করে অ্যাকশন সিনেমার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন। কিন্তু এবার সেই পরিচিতি ভেঙে নতুন লুকে হাজির হলেন। নতুন সিনেমা ডিগার-এর ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকদের সবচেয়ে বড় বিস্ময় গল্প নয়, বরং অভিনেতার অবিশ্বাস্য রূপান্তর।

অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতু পরিচালনা করেছেন ডিগার। টম ক্রুজ অভিনয় করছেন ডিগার রকওয়েল নামে এক বিতর্কিত জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে। ট্রেলারে তাকে দেখা যায় ধূসর-সাদা চুল, কৃত্রিম ভুঁড়ি, ভারি প্রস্থেটিক মেকআপ, বলিরেখায় ভরা মুখ এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন শরীরী ভাষায়। প্রথম দেখায় তাকে চেনাই কঠিন। দর্শকদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, এটি টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাহসী লুক পরিবর্তন।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ক্রুজ নিজের অভিনয়ের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাকে ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন। অধিকাংশ সিনেমাতেই তাকে দেখা গেছে নিজেই বিপজ্জনক স্টান্ট করতে। কিন্তু ডিগার-এ সেই শারীরিক দাপটের জায়গা নিয়েছে চরিত্রের মনস্তত্ত্ব, ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা এবং অভিনয়ের সূক্ষ্মতা। ইনারিতুর এই ব্ল্যাক কমেডিতে তিনি এমন এক ক্ষমতাবান তেল ব্যবসায়ীর ভূমিকায়। তার কর্মকাণ্ড পৃথিবীকে ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। পরে নিজেকেই মানবজাতির ত্রাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মরিয়া প্রচেষ্টায় নামতে হয় তাকে।

সিনেমাটি নিয়ে আলোচনার বড় কারণ শুধু মেকআপ নয়, বরং টম ক্রুজের দীর্ঘদিনের তারকাসুলভ ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা। টপ গান কিংবা মিশন: ইম্পসিবল সিরিজে দর্শক যে সুদর্শন, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রায় অদম্য নায়ককে দেখেছেন, ডিগার-এ তার ঠিক উল্টো এক মানুষকে হাজির করা হয়েছে। বয়সের ছাপ, অদ্ভুত আচরণ, দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চারণ এবং ব্যঙ্গাত্মক ব্যক্তিত্ব, সব মিলিয়ে নতুন এক মানুষে উপস্থাপন করেছে। এমন এক চরিত্র, যা দর্শকদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।

সিনেমার পোস্টার। ছবি: আইএমডিবি

টম ক্রুজ নিজেও জানিয়েছেন, চরিত্রটি তৈরি করতে তিনি পোশাক, মেকআপ, দাঁতের গঠন, হাঁটার ধরন, এমনকি সঙ্গীতের ছন্দ পর্যন্ত নিয়ে নির্মাতার সঙ্গে বিস্তারিত কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন, একটি চরিত্র শুধু সংলাপ দিয়ে তৈরি হয় না। চরিত্রের প্রতিটি দৃশ্যমান উপাদান গল্প বলার অংশ হয়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, চার দশকের অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে এই চরিত্রে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

ইনারিতুও টম ক্রুজের এই রূপান্তরের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, দর্শক ক্রুজকে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যে বহুবার দেখেছেন, কিন্তু ডিগার-এ তিনি যে অভিনয় করেছেন, সেটি সম্পূর্ণ অন্য ধরনের নির্ভীকতা। পরিচালক দীর্ঘ সময় ধরে এই সিনেমার পরিকল্পনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটি গল্প নির্মাণ করেছেন, যেখানে হাস্যরস, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, পরিবেশ সংকট এবং মানবিক দ্বন্দ্ব একসঙ্গে মিশেছে।

ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই টম ক্রুজের এই রূপান্তরকে ২০০৮ সালের ট্রপিক থান্ডার-এ তার স্মরণীয় উপস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে ডিগার কেবল একটি ভিন্ন মেকআপের প্রদর্শনী নয়। সিনেমাটি টমের নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। এখানে একজন প্রতিষ্ঠিত সুপারস্টার নিজের দীর্ঘদিনের ইমেজকে ঝুঁকির মুখে ফেলে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অভিনয়ের পরীক্ষা দিচ্ছেন।

টম ক্রুজ। ছবি: ওয়ার্নার ব্রাদার্স

তবে, হলিউডে তারকাদের লুক পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। গ্যারি ওল্ডম্যান, ক্রিশ্চিয়ান বেল, কলিন ফ্যারেল কিংবা ব্রেন্ডন ফ্রেজারের মতো অভিনেতারা চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেদের আমূল বদলে ফেলেছেন। তবে টম ক্রুজের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই ধরনের অ্যাকশন নায়কের পরিচয়ের মধ্যেই থেকেছেন। সেই জায়গা থেকে ডিগার তার ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

আগামী ২ অক্টোবর মুক্তি পাবে ডিগার। সিনেমাটি বক্স অফিসে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে ট্রেলার প্রকাশের পর একটি বিষয় স্পষ্ট—এবার দর্শক শুধু টম ক্রুজের দুঃসাহসিক স্টান্ট নয়, বরং একজন অভিনেতা হিসেবে তার নতুন রূপটিও দেখতে মুখিয়ে আছেন।

আরও