দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেও উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানের এপিকধর্মী চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’। এসময় ৩ হাজার ৯৪৩টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে আয় করেছে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা হলিউডের অনেক বড় বাজাটের ছবির উদ্বোধনী সপ্তাহের আয়ের চেয়েও বেশি। খবর ভ্যারাইটি।
প্রথম সপ্তাহে ১২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার আয় করা চলচ্চিত্রটির আয় দ্বিতীয় সপ্তাহে কমেছে মাত্র ৩০ শতাংশ। সাধারণত ১০ কোটি ডলারের বেশি উদ্বোধনী আয়ের ছবিগুলোর দ্বিতীয় সপ্তাহে আয় ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমে যায়। কিন্তু ‘দ্য ওডিসি’ সেই ধারা ভেঙে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
আর-রেটেড হওয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সী অধিকাংশ দর্শকের জন্য ‘দ্য ওডিসি’র সীমিত হওয়া সত্ত্বেও এমন সাফল্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এ ধরনের ছবির ইতিহাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি আয়ের তালিকায় এটি এখন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে রয়েছে ডিজনির ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’, যা দ্বিতীয় সপ্তাহে ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছিল। সুপারহিরো ছবিটি প্রথম সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় রেকর্ড ২২ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছিল।
দুই সপ্তাহান্ত শেষে হোমারের মহাকাব্যের ওপর নির্মিত ‘দ্য ওডিসি’ উত্তর আমেরিকায় ২৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৬৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার আয় করেছে। ছবিতে গ্রিক রাজা ওডিসিউসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন।
তবে আগামী সপ্তাহে ‘দ্য অডিসি’র সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তখন মুক্তি পাচ্ছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। টম হল্যান্ড ও জেনডায়া অভিনীত মার্ভেলের নতুন এই ছবি কিছু দর্শক টেনে নিতে পারে। হলিউডে বক্স অফিস সাধারণত আগস্টে মন্থর থাকে। প্রদর্শকরা মনে করছেন, দুটি জনপ্রিয় ছবির একসঙ্গে চললে টিকিট কাউন্টারগুলো চাঙা হয়ে উঠতে পারে।
আইম্যাক্সেও রীতিমতো ইতিহাস গড়ছে ‘দ্য ওডিসি’। এটি আইম্যাক্সের উচ্চপ্রযুক্তির ক্যামেরায় সম্পূর্ণ ধারণ করা প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এখন পর্যন্ত আইম্যাক্স ফরম্যাটে ছবিটির বৈশ্বিক আয় ১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকা থেকে এসেছে ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
মাত্র ১০ দিনে আইম্যাক্সে ১০ কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে এটি কোম্পানিটির দ্বিতীয় দ্রুততম আয়ের ছবি হয়েছে। নোলানের আগের ছবি ‘ওপেনহাইমার’ লাইফ টাইমে আইম্যাক্স থেকে আয় করেছিল ১৮ কোটি ডলার।
বিশ্বে থাকা মাত্র ৪১টি আইম্যাক্স ৭০ মিলিমিটার পর্দা থেকে সপ্তাহান্তে ‘দ্য ওডিসি’ আয় করেছে ৫২ লাখ ডলার। এ পর্যন্ত এই ফরম্যাটে ছবিটির মোট আয় ১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা মোট আইম্যাক্স আয়ের ১২ দশমিক ১ শতাংশ। নোলানের পছন্দের ফরম্যাট হওয়ায় এসব প্রদর্শনীর অধিকাংশ টিকিট সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
এদিকে গ্রিক পুরাণভিত্তিক আরেকটি ছবি ‘হেডসটাউন: দ্য মিউজিক্যাল’ ১ হাজার ৯৪৯টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে উদ্বোধনী সপ্তাহে ৯৬ লাখ ডলার আয় করে চমক দেখিয়েছে। ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় নির্ধারিত পাঁচ দিনের বদলে ছবিটির প্রদর্শনী আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সপ্তাহান্তের আয় অনুযায়ী দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডিজনির ‘মোয়ানা’ ও ‘টয় স্টোরি ৫’। মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহে ‘মোয়ানা’ ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে। তিন সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় ছবিটির মোট আয় ১০ কোটি ২৫ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী ২২ কোটি ৮২ লাখ ডলার। প্রায় ২৫ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত ছবিটির জন্য মুনাফায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে ষষ্ঠ সপ্তাহে ১ কোটি ডলার আয় করে ‘টয় স্টোরি ৫’-এর বৈশ্বিক আয় পৌঁছেছে ১০২ কোটি ২০ লাখ ডলারে। এটি এরই মধ্যে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে এবং শিগগিরই ‘টয় স্টোরি ৪’-এর ১০৭ কোটি ডলারের বৈশ্বিক আয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে সিরিজটির সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হওয়ার পথে রয়েছে।
এদিকে ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টার্স’ সপ্তাহান্তে ৯৬ লাখ ডলার আয় করে ‘হেডসটাউন: দ্য মিউজিক্যাল’-এর সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। চার সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার। নির্মাণ ব্যয় ছিল ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে ‘ডেসপিকেবল মি’ সিরিজের আগের ছবিগুলোর তুলনায় এর আয় কম হওয়ায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে ইউনিভার্সাল ও ইলুমিনেশন।
সব মিলিয়ে গত সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস আয় ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। রেন্ট্রাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের একই সময়ের তুলনায় মোট আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। তাই প্রদর্শকরা আশা করছেন, মহামারীর পর প্রথমবারের মতো বছরের মোট বক্স অফিস আয় ১ হাজার কোটি ডলার স্পর্শ করতে পারে।