‘থ্রি ইডিয়টস’ ফিরছে ২০ বছর পর, কলেজ নয় এবার সংসার ও পেশাজীবনের গল্প

হিরানি জানান, এটি মূলত ‘২০ বছর পরের থ্রি ইডিয়টস’। সময়ের সঙ্গে চরিত্রগুলো বড় হয়েছে, বদলেছে তাদের জীবনও। তারা আর কলেজে নেই; প্রত্যেকে নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত। কেউ বিবাহিত, কারো সন্তানও রয়েছে। নতুন ছবিতে সেই চরিত্রগুলোর বর্তমান জীবন ও তাদের সামনে আসা নতুন চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হবে

বলিউড চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সম্ভাব্য সিক্যুয়েল নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন নির্মাতা রাজকুমার হিরানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন ছবিতে প্রায় দুই দশক পরের বাস্তবতায় আগের চলচ্চিত্রের পরিচিত চরিত্রগুলোকেই দেখা যাবে।

ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হিরানিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সিক্যুয়েলটি কি প্রথম ছবির গল্প থেকে অনেকটা এগিয়ে যাবে, নাকি নতুন চরিত্র যুক্ত হবে? জবাবে তিনি বলেন, ‘সব একই চরিত্র। এটি সময়ের একটি বড় লাফের মতো। আমরা দেখব, তারা এখন কী করছে।’

হিরানি জানান, এটি মূলত ‘২০ বছর পরের থ্রি ইডিয়টস’। সময়ের সঙ্গে চরিত্রগুলো বড় হয়েছে, বদলেছে তাদের জীবনও। তারা আর কলেজে নেই; প্রত্যেকে নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত। কেউ বিবাহিত, কারো সন্তানও রয়েছে। নতুন ছবিতে সেই চরিত্রগুলোর বর্তমান জীবন ও তাদের সামনে আসা নতুন চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হবে।

সিক্যুয়েলের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হিরানি বলেন, চিত্রনাট্য এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমির খান গল্পের খসড়া শুনেছেন এবং পছন্দও করেছেন। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। গল্প চূড়ান্ত করতে তিনি ও চিত্রনাট্যকার অভিজাত জোশি বর্তমানে মুম্বাইয়ের বাইরে অবস্থান করছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে ভারতীয় চলচ্চিত্রে তরুণ নির্মাতাদের উত্থান নিয়েও কথা বলেন হিরানি। হলিউডে ইউটিউবার ও তরুণ পরিচালকদের চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রবণতার প্রসঙ্গ টেনে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ভারতে কি একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে? জবাবে তিনি বলেন, এখন চলচ্চিত্র নির্মাণ শেখা আগের চেয়ে অনেক সহজ। স্মার্টফোন দিয়েই শুটিং, সম্পাদনা ও সংগীত সংযোজন করা সম্ভব। ফলে নতুন প্রজন্ম নিজেদের উদ্যোগেই চলচ্চিত্র নির্মাণ শিখছে এবং অনেক সৃজনশীল কাজও করছে।

হিরানি জানান, কেউ তার সহকারী হিসেবে কাজ করতে এলে তিনি প্রথমেই জানতে চান— কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন কিনা। তার মতে, বর্তমান সময়ে একটি ছোট দুই মিনিটের চলচ্চিত্র বানানোরও সুযোগ রয়েছে। তাই কোনো কাজ না করে শুধু আগ্রহের কথা বলার সুযোগ খুব কম।

সাক্ষাৎকারে তাকে হরর-কমেডি নির্মাণের সম্ভাবনা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার চলচ্চিত্র বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন না। তবে যদি এমন কোনো গল্প পাওয়া যায়, যা একই সঙ্গে খুব মজার এবং দর্শকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম, তাহলে হরর-কমেডিসহ যেকোনো ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে তিনি আগ্রহী।

হিরানি আরো বলেন, অনেকেই মনে করেন তিনি সব সময় নিজের গল্প নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। বাস্তবে তিনি নিয়মিত নতুন চিত্রনাট্য, বই এবং গল্পের খোঁজ করেন। ভালো কোনো থ্রিলার, আবেগঘন গল্প বা হরর-কমেডি পেলে সেটি নিয়েও কাজ করতে প্রস্তুত তিনি।

২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘থ্রি ইডিয়টস’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক চাপ এবং সাফল্যের প্রচলিত ধারণাকে ব্যঙ্গাত্মক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরা ছবিটি এখনো দর্শকদের মধ্যে সমানভাবে জনপ্রিয়। ফলে দুই দশক পর সেই পরিচিত চরিত্রদের নতুন জীবনের গল্প বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা এরই মধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

আরও