বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদল, হল-রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তরুণদের জড়িয়ে পড়ার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। হাস্যরসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাজনীতির নানা অন্ধকার ও বাস্তব দিক তুলে ধরেছে সিনেমাটি। স্বাধীন চলচ্চিত্র হিসেবে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসিত হয়েছে সিনেমাটি।
এতে দেখানো হয়েছে, ছাত্ররাজনীতিতে ক্ষমতা কীভাবে এক হাত থেকে অন্য হাতে যায়, ক্ষমতার পালাবদলে কী ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, কোথায় টাকা ওড়ে এবং কার টাকা কার পকেটে যায়। পাশাপাশি ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে কিংবা কোনো নেতার আস্থাভাজন হতে কর্মীদের নানা কৌশলও উঠে এসেছে গল্পে।
নির্মাতা আকাশ হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরুর সময় গণরুমের তিক্ত অভিজ্ঞতাসহ নিজের চারপাশের নানা ঘটনা থেকে সিনেমাটির গল্পের অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিকে তিনি শুধু ছাত্ররাজনীতির গল্প হিসেবে দেখেননি, বরং বাংলাদেশের বৃহত্তর ক্ষমতার কাঠামোর একটি ছোট সংস্করণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এ প্রসঙ্গে আকাশ হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি আমার কাছে শুধু ছাত্ররাজনীতির গল্প নয়; এটা বাংলাদেশের বৃহত্তর ক্ষমতার কাঠামোর একটা ছোট সংস্করণ। এখানকার ক্ষমতার খেলা, পদ পাওয়ার জন্য যে প্রতিযোগিতা, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক, গ্রুপিং— এগুলো শুধু ক্যাম্পাসের বিষয় না। এগুলো আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রেরও প্রতিচ্ছবি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে সিনেমা করতে গিয়ে রাজনীতিকে এড়িয়ে যাওয়াটা আমার কাছে বরং অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
রাজনীতির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে হাস্যরসের সিনেমা নির্মাণে কিছুটা ভয় কাজ করেছিল বলেও জানান নির্মাতা। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে লক্ষ্য করে সিনেমাটি তৈরি করেননি তিনি। আকাশ হক বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে টার্গেট করিনি। আমি একটা কালচার, একটা সিস্টেম এবং একটা মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাস্তবতার সঙ্গে দায়িত্বশীল থাকা যতটুকু সম্ভব। সেন্সর বোর্ড আমাদের হতাশ করেনি, রীতিমতো প্রশংসাই করল বলে মনে হলো।
বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব ও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার পর দর্শকের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক ছিল বলে জানান আকাশ হক। তার ভাষায়, আমার মনে হয় মানুষ সিনেমাটার হিউমার খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই আমাকে বলেছে— ভাই, এই চরিত্রটা তো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অমুক ভাইয়ের মতো। অনেকেই বলেছেন— এটি একটা সাহসী কাজ। কিন্তু আমার কাছে সাহসী হওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ দর্শকের মনে হওয়া যে— হ্যাঁ, এই কথাটা বলা দরকার ছিল।
সিনেমাটিতে ‘সহমত ভাই’ গানটিও আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। র্যাপধর্মী গানটি যেন পুরো সিনেমার বক্তব্যকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছে। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, র্যাপ ঢংয়ে অনেক জটিল কথা সরাসরি বলা যায়। এ সিনেমার পরিবেশের সঙ্গে র্যাপের তালটাই মানায় বলে আমার মনে হয়েছে।
সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাস, আখতারুজ্জামান আজাদ, আবু সায়ীদ, ইফাদ হাসান, চয়ন মন্ডল, এস এ জীবন, মেহেদী হাসান সোহানসহ অনেকে। পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটির প্রযোজনা, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও চিত্রগ্রহণের কাজও করেছেন আকাশ হক।
প্রেক্ষাগৃহসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হলেও এখনো অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছায়নি ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। চরকির মাধ্যমে এবার দেশ-বিদেশের আরো বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে সিনেমাটি পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৬ আগস্ট রাত ১২টা থেকে (২৭ আগস্ট) ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে সিনেমাটি দেখতে পারবেন দেশ-বিদেশের দর্শকরা।