তবে ওডিসিকে ঘিরে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। কোনো একটি নয়, সিনেমার একাধিক উপাদান নিয়েই সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে মোটেও বিচলিত নন নোলান। তিনি মনে করেন, এসব সমালোচনা থাকবেই। তবে সিনেমা মুক্তির পর দর্শক আর সমালোচনা করবেন না।
দি ওডিসির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা এসেছে। ব্যবহৃত বর্মের নকশা, আধুনিক ইংরেজি সংলাপ এবং আমেরিকান উচ্চারণ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ইতিহাস-অনুরাগীদের একাংশ। এসব প্রসঙ্গে দ্য টেলিগ্রাফকে নোলান বলেন, ‘সমালোচনা গ্রহণ করা কাজেরই অংশ। কিন্তু সিনেমা দেখার আগেই যে আলোচনা শুরু হয়, সেগুলো শেষ পর্যন্ত গুরুত্বহীন। কারণ যারা এসব আলোচনা করছেন, তারা এখনো জানেনই না সিনেমাটি আসলে কেমন।’
নোলান জানিয়েছেন, দি ওডিসি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই তিনি জানতেন, এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। তবে মুক্তির আগের সমালোচনা উপেক্ষা করতে তিনি অভ্যস্ত।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জীবনের ১০ বছর ব্যাটম্যান নিয়ে কাজ করেছি। ব্যাটম্যান বিগিনস যখন নির্মাণ করি, সে সময় অবধি এ চরিত্র নিয়ে প্রায় ৬৫ বছর ধরে লেখক ও শিল্পীরা কাজ করেছেন। ফলে চরিত্রটি কী প্রতিনিধিত্ব করে, তা নিয়ে মানুষের অসংখ্য দৃঢ় ধারণা ছিল। সে ট্রিলজি নির্মাণের সময় আমি শিখেছি, এসব নিয়ে চিন্তা করলে চলবে না। মূল লেখাকে নিজের সামর্থ্য অনুসারে ব্যাখ্যা করাই নির্মাতার কাজ।’
বিশ্বের অন্যতম সেরা ও প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাতা এখন নোলান। ইনসোমনিয়া থেকে যে যাত্রা তিনি করেছেন, তা ওপেনহাইমার পর্যন্ত ধরে রেখেছেন। এর মধ্যে ‘ব্যাটম্যান’, ‘ইনটারস্টেলার’, ‘টেনেট’ সব সিনেমা নিয়েই কিছু না কিছু সমালোচনা মুক্তির আগে তৈরি হলেও পরে ঠিকই প্রশংসিত হয়। তার মতে, দর্শকের কল্পনার সঙ্গে তার নির্মাণ না মিললেও তার ও তার টিমের প্রচেষ্টাকে তারা ঠিকই সম্মান দিয়েছেন। কেননা তিনি আন্তরিকভাবে সিনেমা নির্মাণ করেছেন।
এদিকে দি ওডিসি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে সরব সমালোচকদের একজন ছিলেন ইলোন মাস্ক। গত ফেব্রুয়ারিতে খবর ছড়ায় যে লুপিতা নিয়ং’ও চলচ্চিত্রে হেলেন অব ট্রয় চরিত্রে অভিনয় করবেন। এরপর মাস্ক এক্সে লিখেছিলেন, ‘ক্রিস নোলান তার সততা হারিয়েছেন।’
ম্যাট ওয়ালশও এক্সে লুপিতা নিয়ং’ওকে উদ্দেশ করে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ‘পৃথিবীতে একজন মানুষও বিশ্বাস করেন না যে লুপিতা নিয়ং’ও ‘‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী’’। কিন্তু ক্রিস্টোফার নোলান জানেন, যদি তিনি এ চরিত্রে কোনো শ্বেতাঙ্গ অভিনেত্রীকে নিতেন, তাহলে তাকে বর্ণবাদী বলা হতো। নোলান প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ পরিচালক, কিন্তু তিনি ভীরু।’
এরপর মাস্ক দাবি করেন, নোলান পুরস্কারের আশায় দি ওডিসিতে চরিত্রগুলোর জাতিগত পরিচয় বদলে দিচ্ছেন।
চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত বর্মের নকশা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেন, সেগুলো দেখতে ব্যাটম্যানের আধুনিক ব্যাটস্যুটের মতো। এসব নিয়েও নোলান নানা সময় ব্যাখা দিয়েছেন। তবে তার সর্বশেষ দাবি হলো সিনেমা দেখলে দর্শকের আর বেশি অভিযোগ থাকবে না। এখন তাই ১৭ জুলাইয়ের অপেক্ষা। সেদিনই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে দি ওডিসি।
সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি