দর্শকের হলে যাওয়ার ইচ্ছা আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে

দর্শকপ্রিয় অভিনেতা রওনক হাসান। ছোট পর্দার পাশাপাশি তিনি বড় পর্দায় অভিনয় করেও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন।

দর্শকপ্রিয় অভিনেতা রওনক হাসান। ছোট পর্দার পাশাপাশি তিনি বড় পর্দায় অভিনয় করেও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত বানবাসি মানুষের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘‌নয়া মানুষ’। এ সিনেমা ও নিজের বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

৬ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে নয়া মানুষ, সিনেমাটি নিয়ে দর্শক সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

যারা সিনেমাটি দেখেছেন, তারা খুবই ভালো বলছেন। অনেকে আমাকে বললেন, সিনেমাটি দেখে কেঁদেছেন। এমন ইমোশনাল রিঅ্যাকশন পাচ্ছি।

এ সিনেমায় নতুন চরিত্রে অভিনয় করার অনুভূতি কেমন ছিল ?

আমি খুব বিস্মিত হই যে এ রকম বানবাসি একজন প্রান্তিক মানুষ ও তার জীবনবোধ, চিন্তাভাবনা আমাকে খুবই আলোড়িত করেছে।

এ সিনেমায় আপনি যুক্ত হলেন কীভাবে?

আমাকে একদিন এ সিনেমার পরিচালক সোহেল ফোন করে বলে, ‘ভাই আমি একটা সিনেমা বানাতে চাই।’ তারপর একদিন আমরা একসঙ্গে বসি। তখন সে গল্পটা শেয়ার করল। এরপর স্ক্রিপ্ট পড়লাম, পরে আমরা শুটিংয়ে গেলাম।

সিনেমাটি কতগুলো হলে মুক্তি পেয়েছে?

সাতটি হলে মুক্তি পেয়েছে।

এত অল্প বাজেট নিয়ে শুরু করে কীভাবে সিনেমাটি শেষ করা সম্ভব হলো?

নান্দনিক থিয়েটারের কয়েকজন মিলে কিছু টাকা দিয়ে এ সিনেমার শুটিং করেন। পরে যখন শেষ করতে পারছেন না, বারবার আটকে যাচ্ছে, ধার-কর্য করছেন, তখন শেষ মুহূর্তে জি সিরিজ এসে জয়েন করে এবং তারা হেল্প করে। পরিশেষে অনেক কষ্ট করে সিনেমাটি শেষ করা হয়।

এত অল্প বাজেটের সিনেমায় আপনি কী দেখে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন?

আমার কাছে সিনেমার গল্প ও ছেলেটার (নির্মাতা) চেষ্টাটা ভালো লেগেছে। সে সিনেমা পাগল একটা মানুষ। আমি বেশ কয়েক জায়গায় বলেছিও সে একটা বদ্ধ উন্মাদ। একটা মানুষ সিনেমাকে এ রকম ভালোবাসতে পারে, এটা আমাকে খুব প্রলুব্ধ করে তার প্রতি। আমি তার চোখে-মুখে দেখতে পাচ্ছিলাম, সে যেকোনো মূল্যে এ সিনেমা বানাতে চায়। সে আমাকে এত টাকা অফার করতে পারছে না, কিন্তু তার আগ্রহ দেখে মনে হয়েছে সিনেমাটি করি। কারণ আমি নিজেও সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখি। আমি গত পাঁচ বছর একটা সিনেমা বানানোর স্বপ্ন নিয়ে ঘুরছি। এখনো গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আমার তার স্বপ্নটা দেখে মনে হলো, ওকে ফাইন, লেটস গো, চল কী হয় দেখি।

সিনেমাটির গল্প এত ভালো হলে লগ্নিকারক কেন পাওয়া গেল না?

সত্যিকারার্থে বাংলাদেশে শিল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক এসবে আসলে আমরা সাপোর্ট খুব বেশি পাই না। তার পরও অনেক সংগ্রাম করে আমাদের কাজগুলো করতে হয়। এছাড়া ফর্মুলা সিনেমার বাইরে মানুষ অর্থলগ্নি করতে চায় না।

এ সময় সিনেমাটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হলো কেন?

এই মুহূর্তে সময় খারাপ। এ সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার কারণ হলো পরিস্থিতি খারাপ হলেও যুদ্ধটা চালিয়ে যেতে হবে। সিনেমা তো মুক্তি দিতে হবে, না হলে তো সিনেমার চর্চাটাই বন্ধ হয়ে যাবে। দর্শকের হলে যাওয়ার ইচ্ছা আগ্রহ এগুলো তো আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো গল্প মানুষের কাছে পৌঁছানোর।

আগামীতে আপনার নতুন কাজ কী কী আসছে?

আকরাম খানের চলচ্চিত্র ‘নকশী কাঁথার জমিন’ মুক্তির অপেক্ষায়। মুক্তির অপেক্ষায় আছে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ‘‌যাপিত জীবন’। এছাড়া আছে শরাফ আহমেদ জীবনের ‘‌চক্কর ৩০২’, এ তিন সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়। আরো একটি সিনেমা আছে, এখনো সেটির ডাবিং বাকি।

আরও