যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র মেলানিয়া মুক্তি দেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি পারফরমিং আর্টস সেন্টারে বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এরপর শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রেক্ষাগৃহ মুক্তি দেয়া হয়। প্রায় ২৫টি দেশে প্রদর্শিত হচ্ছে এটি। তথ্যচিত্রে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের ২০ দিনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, এটি নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ৭৫ মিলিয়ন ডলার। তবে সমালোচকরা এটিকে বড় বাজেটের অহংকারধর্মী প্রকল্প এবং সম্ভাব্য ব্যর্থ বক্স অফিস হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন জানায়, অ্যামাজনের ব্যাপক প্রচারণার জোরে নির্মিত তথ্যচিত্রটির উদ্বোধনীর সপ্তাহেই প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি ৮ মিলিয়ন ডলারের মতো টিকিট বিক্রি করেছে। গত শনিবার বক্স অফিস বিশ্লেষকরা অনুমান করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আনুমানিক ৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার টিকিট বিক্রি হবে।
গবেষণা সংস্থা এন্টিলিজেন্স জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকার থিয়েটারগুলো মেলানিয়ার উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের মোট আয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ জোগাবে, যা নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বেশি। রিপাবলিকান অধ্যুষিত কাউন্টিগুলোও গড়ের চেয়ে বেশি অবদান রাখবে বলে জানায় সংস্থাটি। শীর্ষ রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডা, টেক্সাস ও অ্যারিজোনা।
অ্যামাজনের তথ্যমতে, দর্শকের ৭২ শতাংশ নারী এবং অধিকাংশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি। গত শুক্রবার ক্লিভল্যান্ডের সিনেমার্ক ভ্যালি ভিউতে মেলানিয়ার প্রদর্শনীতে কাছের একটি সিনিয়র সেন্টার থেকে বাসভর্তি দর্শক এসেছিলেন। প্রদর্শনী শেষে ৮০ বছর বয়সী গর্ডন উইলসন বলেন, ‘এটা একটা হালকা-পাতলা কাজ।’ দর্শকের কেউ কেউ তথ্যচিত্রটিকে ‘প্রপাগান্ডা’ বলে মন্তব্য করেন।
৬০ বছর বয়সী বব স্মিট শুক্রবার স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের আলামো ড্রাফথাউসে মেলানিয়া দেখেন। তিনি বলেন, ‘এখন আর খুব একটা সিনেমা হলে যান না, তবে তথাকথিত উদারপন্থী হলিউডকে বার্তা দিতেই টিকিট কেটেছি। আমি চাইছিলাম, এ ছবি হলিউডকে একেবারে ধাক্কা দিক।’ প্রদর্শনীর সময় ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের দৃশ্যে দর্শক করতালি দেয়। কেউ একজন চিৎকার করে বলে, ‘ট্রাম্প ২০২৮।’
তবে সমালোচকরা মিসেস ট্রাম্পের আত্মপ্রতিকৃতিমূলক ছবিটিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তথ্যচিত্রটির প্রযোজনা করেছেন তিনি নিজেই এবং সম্পাদনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও ছিল মেলানিয়ার হাতেই। হলিউড ট্রেড প্রকাশনা ভ্যারাইটির প্রধান সমালোচক ওয়েন গ্লাইবারম্যান লিখেছেন, ‘এটা এতটাই সাজানো-গোছানো ও পালিশ করা যে নির্লজ্জ ছদ্মবেশে আত্মপ্রচারমূলক ভিডিও পর্যায়েও ঠিক পৌঁছায় না।’
বক্স অফিসে শক্তিশালী সূচনার মাধ্যমে মেলানিয়া তথ্যচিত্র প্রমাণ করেছে যে নির্দিষ্ট শ্রেণীর দর্শকের মধ্যে এর চাহিদা ও রাজনৈতিক আবেদন রয়েছে। তবে বিপুল বাজেট, নির্মাতার আত্মপ্রচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমালোচকদের কঠোর প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে ছবিটি কেবল একটি তথ্যচিত্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কেরও অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে আর্থিক সাফল্য সত্ত্বেও মেলানিয়াকে ঘিরে প্রশ্ন ও বিতর্ক আপাতত থামছে না।