২০১৩ সালে মুক্তি পায় রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত সিনেমা কানামাছি। অভিনয় করেন আবির চ্যাটার্জি, অঙ্কুশ হাজরা, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, রজতাভ দত্ত ও শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। সিনেমাটি একটি রাজনৈতিক থ্রিলার এবং এতে উঠে এসেছে রাজনীতি ও নির্বাচনী কৌশল।
সিনেমায় দেখা যায় নতুন একটি দল নিয়ে রাজনীতিতে আসে অভিমন্যু মুখার্জি। সে তরুণদের নিয়ে রাজনীতি করতে চায় এবং স্টেটের উন্নতির জন্য কাজ করতে চায়। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নানাভাবে বাধা দেয় বিরোধী পক্ষ। প্রবীণ রাজনীতিবিদ অগ্নিশ্বর দেব তাদের সবচেয়ে বড় বিরোধী। নানা অনৈতিক পন্থায় সে অভিমন্যুর বর্ণপরিচয় দলকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরাতে চায়। আর এই সব বিষয় উঠে আছে একটি বড় পত্রিকার ফটোসাংবাদিক আবীরের ক্যামেরায়। শেষমেষ বর্ণপরিচয়ের জয় হয়। কিন্তু আবীর জানতে পারে পুরো বিষয়টি ছিল অভিমন্যুর রাজনৈতিক খেলা। সেজন্য প্রয়োজনে অভিমন্যু সাহায্য নিয়েছে নকশালদেরও।
রাজ চক্রবর্তী সিনেমাটি নির্মাণ করলেও এটি মূলত তামিল সিনেমা ‘কো’র রিমেক। কো নির্মাণ করেন কেভি আনন্দ। কিন্তু রিমেক হলেও সিনেমাটি দেখিয়েছিল রাজনীতির নানা রূপ। সিনেমায় অভিমন্যু তার দলকে এগিয়ে নিতে সব রকম চেষ্টাই করে। তার প্রচারণার ধারা ছিল নতুন। সে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিল তরুণদের। গণমাধ্যমের কাছে নিজেকে পরিচিত করে তোলা, মানুষের মধ্যে নিজের ইমেজ তৈরি করার কাজটা সে এমনভাবে করেছিল যে নির্বাচনে তার জয় ছিল সুনিশ্চিত। নির্বাচন অর্থাৎ ভোট কাস্টিং, ব্যালট, ভোটকেন্দ্র বিষয়গুলোও সিনেমায় এসেছিল। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সিনেমাটিতে মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় জয়ের রাজনীতি।
ফাটাকেষ্ট সিনেমা থেকে
এই সিনেমা ছাড়াও টালিগঞ্জের আরো অনেক সিনেমায় নির্বাচন প্রসঙ্গ এসেছে। উল্লেখ করতে হয় ফাটাকেষ্টর নাম। মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত এ সিনেমায় একজন গুণ্ডা নির্বাচনে জয়লাভ করে। যদিও সে গুণ্ডা, সে কাজ করে রাজনীতিবিদদের চেয়ে বেশি। ‘রবিনহুড’ আর্কিটাইপের এ সিনেমা পশ্চিমবঙ্গে আগেও হয়েছে। তবে ফাটাকেষ্ট একটা সময় পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশেও দারুণ জনপ্রিয় ছিল। এমন আরো অনেক সিনেমাতেই এসেছে নির্বাচন প্রসঙ্গ। তবে এই দুটি সিনেমা নির্বাচন ও রাজনীতিকে একেবারে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ক্রান্তি সিনেমায় জিৎ। ছবি: আইএমডিবি
এছাড়াও উল্লেখ করার মতো আরেকটি সিনেমা ‘ক্রান্তি: দ্য রেভলুশন’। রিঙ্গো ব্যানার্জি পরিচালিত সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ছাত্র রাজনীতির চিত্র। সিনেমায় দেখা যায় দেবা (ঋষি কৌশিক) তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র নেতা কেননা তার ভাই বিষ্ণু (আশীষ বিদ্যার্থী) একজন বড় ডন এবং তাকে সমর্থন করে রাজনৈতিক নেতারা। কিন্তু দেবার একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে পড়ে জীতেন্দ্র ঘোষের (জিৎ) কারণে। সে প্রতিবাদ করে এবং নিয়ে আসে ক্রান্তি। সিনেমাটি আজও জীতের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স বলে মনে করেন অনেক দর্শক।