মঞ্চনাটকের দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিতই মঞ্চস্থ হচ্ছে নাটক। আর বিশেষ দিন হলে তো কথাই নেই। হল ভর্তি থাকে দর্শকে। প্রতি সপ্তাহেই শিল্পকলা ও বেইলি রোডে কোনো না কোনো নাটক থাকে। আজও থাকছে দুটি নাটক। এর একটি হলো স্বপ্নদলের ‘ম্যাকবেথ’ ও প্রাচ্যনাটের ‘অচলায়তন’।
স্বপ্নদলের নাটকটি আসছে বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে। আজ ফরাসি শিল্পী ‘মাস্টার অব মাইম’ মার্সেল মার্সোর ১০১তম জন্মবার্ষিকী, একই সঙ্গে ‘বিশ্ব মূকাভিনয় দিবস ২০২৪’। দিবসটি যৌথভাবে পালন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশন। সে উপলক্ষেই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে মূকনাট্য ম্যাকবেথ। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের রচনা থেকে কাহিনী পুনর্বিন্যাস করেছেন জুয়েনা শবনম। গবেষণাগার পদ্ধতিতে ঐতিহ্যের ধারায় বাংলা মূকাভিনয়রীতিতে নির্মিত ম্যাকবেথের নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন।
ম্যাকবেথের কাহিনী কম-বেশি সবারই জানা। সারা বিশ্বে শেক্সপিয়রের রচনা নিয়ে মঞ্চ-চলচ্চিত্র-টেলিভিশনে নানামাত্রিক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার হয়। তবে ব্যবহারিক গবেষণার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মূকনাট্য বা মাইমোড্রামা হিসেবে মঞ্চে উপস্থাপন হিসেবে স্বপ্নদলের ম্যাকবেথই প্রথম। এতে অভিনয় করছেন জুয়েনা শবনম, হাসান, সুমাইয়া, নিশক, শিশির, শ্যামল, জেবু, অনিন্দ্য, অর্ক, মাসুদ, রুহুল, তুষার, হৃদয়, রকি প্রমুখ।
প্রযোজনাটির মঞ্চ-আলোক পরিকল্পনা করেছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ন, কোরিওগ্রাফি পরিকল্পনা করছেন হাসানুজ্জামান, পোশাকসামগ্রী পরিকল্পনা করেছেন জুয়েনা শবনম, হাসানুজ্জামান ও সুমাইয়া শিশির। সংগীত-আবহ পরিকল্পনা করেছেন শাখাওয়াত শ্যামল ও মিজাউল ইসলাম খান। প্রযোজনা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাখাওয়াত শ্যামল।
আজ ম্যাকবেথ মঞ্চস্থ হওয়ার পর বিভিন্ন দলের একক শিল্পীদের নকশা-মূকাভিনয় পরিবেশন হবে। উল্লেখ্য, মূকাভিনেতা ও মূকাভিনয়ের গুরু হিসেবে পরিচিত মার্সেল মার্সো ১৯২৩-এর ২২ মার্চ ফ্রান্সের স্টার্সবুর্গ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
আজ একই সময় আরো একটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। জাতীয় নাট্যশালার মূলমঞ্চে মঞ্চস্থ হবে অচলায়তন। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ও মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশন প্রণোদনায় প্রাচ্যনাটের ৪২তম প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অচলায়তন। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তত্ত্বনাটক, প্রতীকী নাটক নিয়ে সমালোচকদের অস্পষ্টতার অভিযোগ খণ্ডন করে প্রাচ্যনাট অচলায়তন মঞ্চায়নের প্রয়াস করে। অচলায়তন বিদ্যাপীঠকে তারা কল্পনা করে একটি বালিকা বা নারী শিক্ষাগৃহ হিসেবে। যুক্তি হলো, আমাদের মতো পশ্চাৎপদ ও ধর্মীয়-সামাজিক চিন্তায় অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নারী। নারীকে কুসংস্কার আর নানা বিধিনিষেধের মধ্যে আটকে রাখার নানা ষড়যন্ত্র বিদ্যমান এবং কখনো কখনো সে ষড়যন্ত্রে নারী নিজেও যেন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
এ বিদ্যায়তনের সব নিয়মকানুন এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে বাইরের পৃথিবীর আলো-বাতাস বা মুক্ত চিন্তা কোনোভাবেই কোনো বিদ্যার্থীর ভাবনায় মননে স্থান না পায়। এখানে কাজের গতি মন্থর ও যন্ত্রবৎ, যেন দম দেয়া পুতুল সবাই। ঠিক উল্টোচিত্র অচলায়তনের বাইরের জগৎ।–সেখানে কর্মমুখর সাধারণ মানুষ শোণপাংশু। তারা গতিশীল। কখনো জীবন গতির চেয়ে এক ধাপ এগোনো তাদের চলন। আর দর্ভক যারা, তারা কর্মে ও ধর্মে নিবেদিত।
দৃশ্যমান দুই বিপরীত গতির সম্মিলন ঘটানোর চেষ্টা করেছে প্রাচ্যনাট তাদের এ নাটকে। এ নাটকের চরিত্ররা গতকালের বা আজকের, হতে পারে আগামীর।
মূল অচলায়তনের উগ্রবাদী দুষ্ট চরিত্র মহাপঞ্চকই দায়িত্ব পায় পুরনো ভাঙা ভিতের ওপর নতুন যাত্রা শুরু করার। সে যেন ভিলেন থেকে নায়ক হয়ে ওঠে রবীন্দ্রনাথের কলমে। প্রাচ্যনাট তার বিপ্রতীপ অবস্থানে গেছে।
অচলায়তনের বিভিন্ন চরিত্র রূপায়ণ করছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সানজিদা প্রীতি, শাহানা রহমান সুমি, শাহেদ আলী, ফরহাদ হামিদ, জাহাঙ্গীর আলম, চেতনা রহমান ভাষা প্রমুখ। মঞ্চ ও আলোকসজ্জার দায়িত্বে আছেন মো. সাইফুল ইসলাম। নাটকের সংগীত ভাবনা ও প্রয়োগ করেছেন নীল কামরুল, কোরিওগ্রাফি স্নাতা শাহরিন ও পোশাক ব্যপস্থাপনা করেছেন আফসান আনোয়ার।