এরই মধ্যে তাদের প্রায় ৩০০টি প্রযোজনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তবে এ আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন কেবল খরচ কমানোর কৌশল নয়, বরং গল্প বলার পরিধিকে আরো বিস্তৃত ও আকর্ষণীয় করার মাধ্যম—এমনটাই মনে করেন নেটফ্লিক্সের কো-সিইও টেড সারান্দোস।
সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক অনন্ত গোয়েঙ্কার সঞ্চালনায় ‘এক্সপ্রেস আড্ডায়’ উপস্থিত হন তিনি। আড্ডায় সারান্দোস বলেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভারতীয় নির্মাতারাই এআই ব্যবহারে বেশি আগ্রহী। তার মতে, সীমিত বাজেটে মহাকাব্যিক দৃশ্যপট তৈরি থেকে শুরু করে ঝুঁকিপূর্ণ শটের মহড়া—এআইয়ের মাধ্যমে এমন উচ্চাভিলাষী গল্প পর্দায় আনার সুযোগ পাচ্ছেন ভারতীয় নির্মাতারা। এগুলো প্রচলিত বাজেটে সম্ভব হতো না।’ হিট কোরিয়ান সিরিজ ‘গ্লোরি’-র উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রি-ভিজুয়ালাইজেশন ও পোস্ট-প্রডাকশন এআই টুল ব্যবহার করে পরিচালকরা জটিল কিংবা কখনো ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের পরিকল্পনা ও নকশা করতে পারছেন। এতে দ্রুত ও নিরাপদে দৃশ্যধারণ সম্ভব হচ্ছে এবং টেকের সংখ্যাও কমছে।
তবে এআই ব্যবহারের মূল লক্ষ্য ব্যয় কমানো নয় বলে স্পষ্ট করেন সারান্দোস। তার ভাষায়, এআই শুধু খরচ কমানোর কাজে ব্যবহার হলে তা তেমন কোনো পরিবর্তন আনবে না। বরং এর মাধ্যমে এমন গল্প বলা উচিত, যা এ প্রযুক্তি ছাড়া নির্মাতারা পর্দায় আনতে পারতেন না।
চলচ্চিত্র নির্মাণে এআই ব্যবহারের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে পিকআপ শুট ও রিশুটের কথা উল্লেখ করেন সারান্দোস। তার দাবি, একটি টিভি সিরিজ বা সিনেমার মোট বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত এসব কাজে ব্যয় হয়। শুটিং শেষ হওয়ার পর কোনো গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য বাদ পড়ে গেলে সেট পুনর্নির্মাণ, অভিনয়শিল্পীদের ফিরিয়ে আনা এবং আবার শুটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ সমস্যার সমাধানে এখন ইন্টারপজিটিভের প্রযুক্তি বড় পরিসরে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে নেটফ্লিক্স। বেন অ্যাফ্লেক প্রতিষ্ঠিত এ এআই চলচ্চিত্র প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি মার্চে অধিগ্রহণ করে স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটি।
সারান্দোস জানান, ইন্টারপজিটিভের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো চলচ্চিত্রের নিজস্ব ফুটেজের তথ্য দিয়ে একটি বিশেষায়িত এআই মডেল তৈরি করা যায়। অর্থাৎ এটি সব সিনেমার ওপর প্রশিক্ষিত সাধারণ কোনো এআই নয়, বরং নির্দিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যই প্রশিক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে ভিজুয়াল ইফেক্টের মতো করে দ্রুত পিকআপ শট তৈরি করা সম্ভব। দর্শকের দেখার অভিজ্ঞতায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকেও প্রযুক্তিটিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
মার্কিন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথি অনুযায়ী, ইন্টারপজিটিভ অধিগ্রহণে নেটফ্লিক্সের ব্যয় হয়েছে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস