কয়েক বছর আগে সাফল্যের চূড়ায় ছিলেন ম্রুণাল ঠাকুর। এ বছর তার অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি এ বছর। তবে ম্রুণাল ঠাকুর মনে করেন, কোনো সিনেমার সাফল্য কেবল প্রেক্ষাগৃহে তার ব্যবসার নিরিখে বিচার করা যায় না। ম্রুণালের সর্বশেষ সিনেমা পূজা মেরি জান ওটিটিতে দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছে। তাই ম্রুণাল বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন মাধ্যম নয়, সিনেমার গল্পই গুরুত্বপূর্ণ।
সিনেমার সাফল্য, ব্যর্থতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ম্রুণাল বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিনেমা কোন মাধ্যমে মুক্তি পাচ্ছে তা এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো গল্প, বিষয়বস্তু, চরিত্র এবং পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি। এসবের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে চান।’
উদাহরণ হিসেবে লাপাতা লেডিজের কথা উল্লেখ করে ম্রুণাল বলেন, ‘ডিজিটাল প্লাটফর্মে মুক্তির পর কীভাবে একটি সিনেমা নতুন করে দর্শকদের প্রশংসা পেতে পারে, তা এ সিনেমা দেখিয়েছে। সিনেমাটি যখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল, তখন মানুষ এর কদর করেনি। কিন্তু ওটিটিতে আসার পরই সবাই বলতে শুরু করল, “অসাধারণ! আমরা এ সিনেমাটা কীভাবে মিস করলাম?” কিছু সিনেমা বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারে না। কিন্তু কোনো প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো নিয়ে বেশ আলোচনা হয়।’
বিপণন কৌশল এবং দর্শকদের বদলে যাওয়া পছন্দের বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি। ম্রুণালের ভাষায়, ‘এখন দর্শকদের পছন্দও বদলে গেছে। একটি সিনেমার বিপণন কীভাবে করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছুই এখন কিছুটা আলাদা হয়ে গেছে। আমিও বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করছি। বলা যায়, আমি এখন শেখার পর্যায়ে রয়েছি।’
সিনেমার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাকে বিচলিত করে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে ম্রুণাল বলেন, ‘আমি সবসময়ই এমন একজন মানুষ, যে অন্যের মতামত ও সমালোচনা থেকে শেখার চেষ্টা করে। তবে যারা নিজেদের প্রোফাইল ছবিটুকুও রাখেন না, তাদের নেতিবাচক মন্তব্য আমি গ্রহণ করতে চাই না। ব্যস, এতটুকুই।’
এদিকে পূজা মেরি জান তাকে অন্য ধরনের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। মৃণাল জানান, সিনেমাতে একতরফা সম্পর্কের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেক দর্শক। তারা এ বিষয়ে নিজেদের অনুভূতি জানিয়ে তার বাড়িতে হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন। অভিনেত্রী বলেন, ‘তারা পাতার পর পাতা চিঠি লিখেছেন। জানিয়েছেন, নানা দিক থেকে সিনেমাটির সঙ্গে তারা নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন।’
ভারতের বাইরেও তার অভিনীত সিনেমা দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে—এ বিষয়টিও মৃণালকে আনন্দিত করে। মৃণাল বলেন, ‘আমি এমন একটা সময়ে এ চলচ্চিত্রশিল্পে কাজ শুরু করতে পেরেছি, যখন আমার কাজ শুধু ভারতেই নয়, দেশের বাইরেও প্রশংসিত হচ্ছে। বিষয়টি আমাকে সত্যিই আনন্দিত করে।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস