হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারামুক্তি পাননি যাহের আলভী

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও কারামুক্তি পাননি টিভি অভিনেতা যাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া। তার জামিন কার্যকর না হওয়ার পেছনে অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড (এওআর) ও কথিত স্থগিতাদেশের বিষয়টি সামনে এলেও, আপিল বিভাগ বা চেম্বার আদালতের কোনো লিখিত স্থগিতাদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে আছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

গত ২ আগস্ট বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ যাহের আলভীর জামিন মঞ্জুর করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এর আগে ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৪ জুন তদন্তের স্বার্থে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তারা জানান, এওআর সার্টিফিকেট ও কথিত স্থগিতাদেশের কারণে জামিন কার্যকর হয়নি। তবে কারাগারের জেলার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান জুয়েল স্বীকার করেন, আপিল বিভাগ থেকে স্থগিতাদেশের কোনো লিখিত কপি তারা পাননি। ভারপ্রাপ্ত কারা উপতত্ত্বাবধায়ক মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকীও স্থগিতাদেশের দাবি করলেও তার কপি দেখাতে পারেননি।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু এওআরের ভিত্তিতে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটকে রাখার সুযোগ নেই; লিখিত স্থগিতাদেশ ছাড়া আটক রাখা আইনসঙ্গত নয়। তবে কারা অধিদপ্তরের এআইজি মো. জান্নাত উল ফরহাদ দাবি করেন, এওআর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বন্দিকে আটক রাখার বিধান রয়েছে। তিনি জানান, যাহের আলভীর জামিন বাতিলের জন্য সরকার মিস কেস দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—জামিন বাতিলের উদ্যোগ এবং কার্যকর স্থগিতাদেশ কি একই বিষয়? লিখিত স্থগিতাদেশের কপি না মেলা পর্যন্ত তার কারাবন্দিত্বের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আরও