এ সপ্তাহান্তেই জানা যেতে পারে পরবর্তী জেমস বন্ড কে হচ্ছেন। সাধারণ দর্শক না জানলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্তত জানবেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণ ব্রিটিশ অভিনেতাদের মধ্যে কয়েকজনের চূড়ান্ত স্ক্রিন টেস্ট নেয়া হবে। নিশ্চিতভাবে তিনজন, তবে সংখ্যাটা পাঁচও হতে পারে।
বিষয়টি চূড়ান্ত হতে যে দীর্ঘ সময় লাগছে, তা বললেও কম বলা হয়। নো টাইম টু ডাই ছবির শেষে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ড্যানিয়েল ক্রেগের চরিত্রের মৃত্যুর পর কেটে গেছে পাঁচ বছর। এ সময়ে, এমনকি তারও আগে থেকে অসংখ্য অভিনেতার নাম এসেছে পরবর্তী বন্ড হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায়। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতা ও পর্দার আড়ালে করপোরেট দ্বন্দ্বের কারণে তাদের কেউ কেউ বয়সের বিবেচনায় চরিত্রটির জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছেন। যিনিই শেষ পর্যন্ত ০০৭-এর দায়িত্ব পান না কেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ৬৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতির পর তাকে এ ভূমিকায় দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনজন অভিনেতার স্ক্রিন টেস্ট নেয়ার কথা—ক্যালাম টার্নার, জশ ও’কনর ও জ্যাক লোডেন। তবে এ তালিকায় আরো কেউ থাকতে পারেন। কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, একজন অতিরিক্ত অভিনেতা স্ক্রিন টেস্টে অংশ নিতে পারেন, আবার কারো মতে সংখ্যাটা দুজনও হতে পারে। তবে জ্যাক ও’কনেল ও জ্যাকব এলর্দি এ দৌড়ে নেই বলে জানা গেছে। বিভিন্ন কারণে তারা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছেন।
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ক্রিন টেস্টে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে—স্টান্ট, ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি ও সংলাপ বলার দক্ষতা। আধুনিক জেমস বন্ডের ক্ষেত্রে তিনটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এসব বিষয় বিবেচনায় জ্যাক লোডেনকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রাখা যায়। কারণ স্লো হর্সেস সিরিজের প্রথম পর্বের প্রথম দৃশ্যটিকেই তার বন্ড চরিত্রের অডিশন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে তার ক্ষেত্রে একটি সমস্যা রয়েছে। বন্ডের মতো নির্মম ও সমাজ বিচ্ছিন্ন চরিত্রের তুলনায় লোডেনকে কিছুটা বেশি কোমল মনে হতে পারে।
অন্যদিকে ক্যালাম টার্নারকে তুলনামূলক আকর্ষণীয় বন্ড মনে হয়। ওয়ান নাইট অনলিতে তিনি সহ-অভিনেতার সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য রসায়ন তৈরি করতে পেরেছেন। তিনি সংগীতশিল্পী দুয়া লিপার স্বামী। টার্নার বন্ড হলে প্রথমেই নিহত হওয়া বন্ড-গার্লের চরিত্রে লিপাকে দেখা যেতে পারে এমন কথাও বলা হচ্ছে।
অনেকে জশ ও’কনরকেই চরিত্রটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করছেন। দ্য ক্রাউন সিরিজে তাকে দেখে বোঝা গেল টাক্সিডোতে তাকে বেশ মানায়। আবার ডিসক্লোজার ডে দেখলে বোঝা যায়, অবিশ্বাস্য সব সংলাপও তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে বলতে পারেন। স্টান্টের ক্ষেত্রেও তিনি ভালো করবেন বলে ধারণা করা যায়।
তবে এবারের বন্ডে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। সিনেমাটির পরিচালক দেনি ভিলনোভ। প্রযোজনা করবে অ্যামাজন এমজিএম। ফলে সবকিছুই এবার ভিন্ন রকম ও নতুন ধারায় হওয়ার কথা। থাকছে আরো কিছু প্রশ্ন। যেমন ভিলনভের ছবিতে প্রচলিত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের বদলে যদি আসন কাঁপিয়ে দেয়া বিকট শব্দের ব্যবহারই প্রাধান্য পায়, তাহলে কোন অভিনেতা নিজের কণ্ঠস্বরকে সে শব্দের মধ্যেও শ্রুতিগ্রাহ্য রাখতে পারবেন?
কোন অভিনেতা এমন একটি পার্শ্বচরিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অভিনয় করতে পারবেন, যাকে মূলত নিজের স্বতন্ত্র স্পিন-অফ সিরিজের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন মাধ্যমে একই চরিত্র ও গল্পকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়ানো যায়?
এ সবকিছু মিলিয়ে নতুন বন্ডের জন্য মিশন হবে আরো কঠিন। সে মিশন কার হাতে যাবে তা জানার অপেক্ষা আর অল্পদিনের।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান