প্রায় তিন বছর সেন্সরে আটকে ছিল সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকেও প্রত্যাহার করা হয়েছিল নাম। অবশেষে আলোর মুখ দেখল হানি ত্রেহানের এ চলচ্চিত্র।
শতলুজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। আরো আছেন কানওয়ালজিৎ সিং, অর্জুন রামপাল, সুবিন্দর ভিকি ও গীতিকার বিদ্যা ওহলিয়ান। মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের গল্প থেকে সিনেমাটি নির্মিত। ১৯৮০ ও ’৯০-এর দশকে পাঞ্জাবে খালিস্তানি আন্দোলন দমনের সময় নিখোঁজ হওয়া, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অবৈধ আটক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন খালরা। সে সময়ের পাঞ্জাবের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাই উঠে এসেছে শতলুজে।
সিনেমার চেয়ে এর মুক্তির ইতিহাসও কম নাটকীয় নয়। ২০২২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডে (সিবিএফসি) জমা দেয়ার পরই শুরু হয় সেন্সর জটিলতা। বোর্ড একের পর এক কাটছাঁটের নির্দেশ দেয়। ২০২৩ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রদর্শনী বাতিল করা হয়।
পরিচালক হানি ত্রেহান পরে জানান, প্রথমে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ২১টি কর্তন মেনে নেয়া হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, সিনেমার মূল নাম পরিবর্তন, ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ কথাটি বাদ দেয়া, এমনকি খালরার নাম বদলে দেয়া, ভারতীয় জাতীয় পতাকার দৃশ্য সরিয়ে ফেলা, ‘গুরবানি’র শব্দ মুছে দেয়া এবং ‘পাঞ্জাব পুলিশ’ শব্দ ব্যবহার না করার মতো একাধিক শর্তও আরোপ করা হয়। প্রতিবার নতুন সংস্করণ জমা দেয়ার পরও আরো কাটছাঁটের দাবি আসে। ফলে দীর্ঘ হতে থাকে অনিশ্চয়তা।
এ বিতর্ক একসময় বোম্বে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। যদিও পরে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। শেষ পর্যন্ত নির্মাতারা সিনেমার নাম পরিবর্তন করলেও পরিচালক দাবি করেছেন, দর্শক এখন যে ওটিটি সংস্করণ দেখছেন, সেটি কোনো কাটছাঁট বা আপস ছাড়াই নির্মাতাদের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র।
মুক্তির পর এক বার্তায় হানি ত্রেহান বলেন, ‘এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও প্রযোজকদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে। তারা কখনই আপস করা সংস্করণ মুক্তি দিতে রাজি ছিলেন না।’
শতলুজের মুক্তি তাই শুধু একটি সিনেমার মুক্তি নয়; এটি সৃজনশীল স্বাধীনতা, সেন্সরশিপ ও ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায়কে পর্দায় তুলে ধরার অধিকারের প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে থাকল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছবিটি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিল্পের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের সেন্সর নীতির সীমারেখা।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস