পাল্টা জবাব অভিনেতার

প্যারামাউন্ট নিয়ে মন্তব্য করায় মার্ক রাফালোকে ‘অ্যান্টিসেমেটিক’ আখ্যা

মার্ক রাফালো লেখেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড, কোনো সামরিক প্রযুক্তি চুক্তি কিংবা তা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সমালোচনা করা ইহুদি জনগণের সমালোচনা করার মতো বিষয় নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় আলোচনাকে অসৎভাবে ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে

হলিউডের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্টের একীভূতকরণ নিয়ে কড়া মন্তব্য করায় অভিনেতা মার্ক রাফালোকে ‘অ্যান্টিসেমেটিক’ বা ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাফালো। একীভূতকরণে সুবিধাভোগী উদ্যোক্তা ডেভিড ও ল্যারি এলিসনকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ও অমানবিক কিছু শক্তিকে শক্তিশালী করার’ জন্য অভিযুক্ত করেছেন তিনি। খবর ভ্যারাইটির।

গত শনিবার সকালে এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাফালো লেখেন, ‘আমি ইহুদিবিদ্বেষী—এমন অভিযোগ ভয়াবহ এবং চরম অসৎ।’

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড, কোনো সামরিক প্রযুক্তি চুক্তি কিংবা তা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সমালোচনা করা ইহুদি জনগণের সমালোচনা করার মতো বিষয় নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় আলোচনাকে অসৎভাবে ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।’

রাফালো আরো বলেন, তার অবস্থান নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে এসেছে এবং একে কখনোই ইহুদি জনগণের প্রতি বিদ্বেষ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ইহুদি বন্ধু, সহকর্মী ও প্রিয়জনেরা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবারসদস্যের মতো ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন প্যারামাউন্টের বোর্ড সদস্য সাফরা ক্যাটজের একটি ভিডিও ক্লিপও পোস্ট করেন রাফালো। সেখানে ক্যাটজ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সহায়তায় ওরাকলের ব্যবহৃত ‘অত্যন্ত ভীতিকর প্রযুক্তি’ নিয়ে কথা বলেন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর এসব প্রযুক্তি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করেছে বলে রাফালো উল্লেখ করেন।

রাফালো ল্যারি এলিসনকে ‘চিরাচরিত ধাঁচের এক অলিগার্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের একীভূতকরণ হলে এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই একীভূতকরণের মানুষের ওপর এবং পুরো দেশের ওপর বাস্তব প্রভাব রয়েছে। এলিসন পরিবারকে খতিয়ে দেখা, বিশেষ করে ডাটা, নজরদারি প্রযুক্তি ও সরকারি চুক্তিনির্ভর ওরাকলের ব্যবসা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হুমকি এবং হাজারো পরিবারের জীবিকা হারানোর আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ন্যায্য ও প্রয়োজনীয়।’

রাফালোর দাবি, ১১১ বিলিয়ন ডলারের এ চুক্তির মাধ্যমে একটি পরিবার সিএনএন, এইচবিও ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাবে। এর পেছনে আংশিকভাবে বিদেশী অর্থায়ন রয়েছে, যার সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব কতটা—তা জনসমক্ষে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে রাফালোর পোস্টের পর প্যারামাউন্টের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধের ক্ষেত্রে ‘ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য বা প্রচলিত ইহুদিবিদ্বেষী ইঙ্গিত’ ব্যবহার করায় তারা উদ্বিগ্ন। প্রতিষ্ঠানটি আরো বলেছে, কোনো করপোরেট লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘গণহত্যা’ ও ‘বর্ণবাদী পৃথকীকরণ’ (অ্যাপারথেইড) শব্দ ব্যবহার করা শুধু ভুলই নয়, এসব শব্দের মাধ্যমে বোঝানো মানুষের প্রকৃত দুর্ভোগকেও এতে খাটো করা হয়।

আরও