ডিজনির বহুল আলোচিত লাইভ-অ্যাকশন ‘মোয়ানা’ প্রত্যাশা অনুযায়ী দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে হতাশাজনক আয় করায় ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এতে ডিজনির দীর্ঘদিনের সফল লাইভ-অ্যাকশন রিমেক কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৬ সালের অ্যানিমেটেড ‘মোয়ানা’ মুক্তির মাত্র এক দশক এবং অ্যানিমেটেড সিক্যুয়েল ‘মোয়ানা টু’-এর দুই বছরের মধ্যেই লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণ এনেছে ডিজনি। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে মাত্র ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী মোট ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অথচ নির্মাণ ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার, বিপণনে আরো প্রায় ১২ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।
সিনে বাণিজ্য বিশ্লেষক জেফ বক বলেন, দর্শক যদি রিমেককে নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন, তবেই তা সফল হয়। কিন্তু ‘মোয়ানা’র ক্ষেত্রে অনেকেই এটিকে মূল ছবির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখেছেন। দর্শক ‘মোয়ানা থ্রি’ দেখতে চেয়েছিল, প্রথম ছবির আরেকটি সংস্করণ নয়।
গত এক দশকে সিন্ডারেলা, দ্য লায়ন কিং, আলাদিন, মুলান, ডাম্বো, দ্য লিটল মারমেইড ও বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট-সহ নিজেদের জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড ছবিগুলোর লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণ তৈরি করেছে ডিজনি। নতুন গল্পের অভাবে এখন তুলনামূলক সাম্প্রতিক ছবিগুলোকেও রিমেক শুরু করেছে স্টুডিওটি।
তবে সব রিমেক ব্যর্থ হয়নি। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া লাইভ-অ্যাকশন ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’, যা ২০০২ সালের অ্যানিমেটেড ছবির রূপান্তর, বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা রিমেকে নয়; বরং কোন ছবিকে কখন নতুন করে আনা হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্র্যাঞ্চাইজি রিসার্চ প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাঞ্চাইজরিই-এর প্রধান ডেভিড এ গ্রস বলেন, একটি অ্যানিমেটেড ছবিকে ক্লাসিক হয়ে উঠতে সময় লাগে। শুধু জনপ্রিয় হলেই সেটিকে দ্রুত রিমেক করা উচিত নয়।
২০১৬ সালের অ্যানিমেটেড ‘মোয়ানা’ এখনো ডিজনি প্লাসের সবচেয়ে বেশি দেখা চলচ্চিত্র। আর ‘মোয়ানা টু’ বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিল। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তা লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণে প্রতিফলিত হয়নি। উদ্বোধনী আয় ২০২৫ সালের ব্যর্থ ছবি ‘স্নো হোয়াইট’-এর কাছাকাছি ছিল।
সমালোচকরা ‘মোয়ানা’কে মূল ছবির প্রায় দৃশ্য-অনুসরণকারী রিমেক বলে আখ্যা দিলেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক ইতিবাচক। সিনেমাস্কোর জরিপে ছবিটি ‘এ-’ গ্রেড পেয়েছে। ডিজনির আশা, ইতিবাচক মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে ছবিটি দীর্ঘমেয়াদে ভালো আয় করতে পারবে।
তবে সামনে রয়েছে কঠিন প্রতিযোগিতা। ডিজনি-পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ফাইভ’, ইউনিভার্সালের ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টার্স’এবং ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ছবিটির আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘মোয়ানা টু’ মুক্তির এত অল্প সময়ের মধ্যেই একই গল্পকে লাইভ-অ্যাকশনে ফিরিয়ে আনা বড় ভুল হতে পারে। ডেভিড গ্রসের হিসাব অনুযায়ী, ডিজনি সাধারণত একটি অ্যানিমেটেড ছবির লাইভ-অ্যাকশন রিমেক বানাতে গড়ে ২৭ বছর অপেক্ষা করে। সেই ব্যবধানই ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’, ‘দ্য লায়ন কিং’ ও ‘আলাদিন’-এর মতো ছবিকে বিলিয়ন ডলারের সাফল্য এনে দিয়েছিল।
অন্যদিকে খুব বেশি দেরি করলেও সমস্যা হয়। ‘স্নো হোয়াইট’ ও ‘ডাম্বো’র মতো পুরোনো গল্পগুলো আগের মতো সাংস্কৃতিক আবেদন ধরে রাখতে পারেনি।
বর্তমানে ডিজনির লাইভ-অ্যাকশন ‘ট্যাঙ্গলড’ নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এর সিক্যুয়েল এবং ‘সিন্ডারেলা’ ও ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’-এর কিছু চরিত্রকে ঘিরে স্পিন-অফ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রায় ৬০ কোটি ডলার আয় না করলে ‘মোয়ানা’ প্রেক্ষাগৃহ থেকেই মুনাফায় ফিরতে পারবে না। ‘স্নো হোয়াইট’-এর মতো ফল হলে ছবিটির প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক লোকসান ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে।
তবে ডিজনির জন্য ‘মোয়ানা’ শুধু সিনেমা নয়। ২০১৬ সাল থেকে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ২ কোটি ২০ লাখের বেশি খেলনা বিক্রি হয়েছে, ৪০টিরও বেশি ডিজনি পার্কে এর আকর্ষণ যুক্ত হয়েছে এবং ছবির গানগুলো ২৬ বিলিয়নের বেশিবার স্ট্রিম হয়েছে। তাই বক্স অফিসে হতাশা থাকলেও ‘মোয়ানা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা এখানেই থামছে না। তৃতীয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের কাজও চলছে বলে জানা গেছে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে