প্রান্তিক মানুষের গল্প বলে যেতে চান খন্দকার সুমন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এ সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে ‘সাঁতাও’।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এ সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে ‘সাঁতাও’। সেরা চলচ্চিত্র পরিচালকের পুরস্কারও পেয়েছেন সাঁতাও নির্মাতা খন্দকার সুমন। এছাড়া সেরা অভিনেত্রী ও সেরা শব্দগ্রাহকের পুরস্কারও গেছে সাঁতাওয়ের ঘরে। সব মিলিয়ে সিনেমাটি সফল। প্রান্তিক মানুষের জীবন নিয়ে নির্মিত এ সিনেমা। খন্দকার সুমন মূলত মানুষের গল্প বলেছেন। তিনি সবসময়ই প্রান্তিক মানুষের গল্প বলে যেতে চান।

চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সিনেমা নির্বাচিত হওয়াকেও প্রান্তিক মানুষের জয় মনে করেন নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘খবরটা যখন শুনি, তখন আমার মনে হলো যেসব মানুষের গল্প আমি দেখাতে চেয়েছি এ পুরস্কারের মাধ্যমে তাদেরই জয় হলো। চাকচিক্যের মধ্যে আমরা অল্প আলোয় থাকা মানুষকে দেখতে পাই না। এ পুরস্কারের মাধ্যমে তাদের প্রতি দৃষ্টি ফিরল। পাশাপাশি যে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা সিনেমা নির্মাণ করতে চান তাদেরও জয় হয়েছে।’

সাঁতাও মোট চার বিভাগে পুরস্কার পায়, এটাও একটা বড় বিষয়। অর্থাৎ পুরো টিমই স্বীকৃতি পেয়েছে। সাঁতাওয়ের টিমওয়ার্ক নিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে আমি এ টিম নিয়ে কাজ করছি। ওই বছর আমার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘‘পৌনঃপুনিক’’ মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটা বেশকিছু উৎসবে প্রদর্শিত হয়। টিমের প্রতি আমার তখনই আস্থা তৈরি হয়েছিল। আমার প্রতিও তাদের আস্থা তৈরি হয়। ফলে কাজটা সহজ হয়েছিল।’

কিন্তু স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার কাজের ব্যাপ্তি এক নয়। স্বাভাবিকভাবেই সাঁতাও নির্মাণের সময় আরো অনেকে যুক্ত হয়। সেক্ষেত্রেও নতুন সদস্যসহ পুরো টিমই নির্মাতাকে দারুণ সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে খন্দকার সুমন বলেন, ‘তখনো আমি স্বল্প পরিচিত। তার পরও আমার মতো একজন অর্বাচীন নির্মাতার সঙ্গে থাকার জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। একজন নির্মাতা হিসেবে তাদের সব ধরনের সুবিধা দেয়া সম্ভব হয়নি। আবাসন, খাবার সব ক্ষেত্রেই কিছু খামতি ছিল। এ নিয়ে আমার আক্ষেপও আছে। কিন্তু এসব তারা উপেক্ষা করেছে। আমার টিম ঠিকভাবেই কাজ করেছে। একদম প্রথম থেকে শেষ অবধি প্রত্যেকে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছে। তারই ফল এ পুরস্কার।’

সিনেমাটিতে অভিনয় করার জন্য আইনুন পুতুল সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। শব্দগ্রহণের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন সুজন মাহমুদ। সাঁতাওয়ের দলগত পরিশ্রমের প্রমাণ এ থেকেই পাওয়া যায়। খন্দকার সুমন তো সেরা নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছেনই। কিন্তু এ পুরস্কার পাওয়াকে বোঝা বা দায়িত্ব মনে করেন না তিনি।

খন্দকার সুমন বলেন, ‘একটা পুরস্কার পাওয়াকে আমি ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্ববোধের বোঝা মনে করি না। একটা পুরস্কার পাওয়া মানে আগে যে কাজ করেছি, তার জন্য পুরস্কার পেয়েছি। যে প্রতিষ্ঠান আমাকে পুরস্কার দিয়েছে তাদের জয়গান করা বা ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব হয়ে গেছে, এমনটা মনে করি না। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করি এবং করতে চাই। দায়বোধের কথা যদি আসে, সেটা আমার মধ্যে সবসময়ই থাকে। প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ হয়ে উঠতে চাই। সেটা পুরস্কার পেলেও করব, না পেলেও করব।’

এভাবেই কাজ করে যেতে চান খন্দকার সুমন। তিনি নতুন একটি সিনেমা নিয়ে এগোচ্ছেন। সিনেমাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এর চিত্রনাট্যের কাজ শেষ। আপাতত প্রযোজনা ও অর্থলগ্নির দিকে মন দিচ্ছে তার টিম। ফান্ড পাওয়া গেলেই সিনেমার প্রি-প্রডাকশনের কাজ শুরু করবেন বলে জানান খন্দকার সুমন।

আরও