বিবাহিত জীবনের টানাপড়েন নিয়ে শুভ-পায়েলের ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’

রম-কম ও ড্রামা ঘরানার হ্যাপিলি ম্যারিডের গল্পে উঠে এসেছে ভালোবাসা ও বিবাহিত জীবনের নানা টানাপড়েন।

সম্পর্ক ও বিবাহিত জীবনের নানা স্তরের অনুভূতি নিয়ে নির্মিত ওয়েব ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। জাহিদ প্রীতম নির্মিত সিনেমাটিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। আগামীকাল চরকিতে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। গত সোমবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে এর প্রিমিয়ার।

রম-কম ও ড্রামা ঘরানার হ্যাপিলি ম্যারিডের গল্পে উঠে এসেছে ভালোবাসা ও বিবাহিত জীবনের নানা টানাপড়েন। সিনেমাটির গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন জাহিদ প্রীতম। নিজের অভিজ্ঞতাও গল্পের ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি। জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘আমার বিয়ে হয়েছে দেড় বছর হলো। ধীরে ধীরে সম্পর্কের নানা স্তর বুঝতে পারছি। প্রেমের সময়ের চার-পাঁচ ঘণ্টার যোগাযোগ যখন ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকার সম্পর্কে পরিণত হয়, তখন জীবনে কী কী পরিবর্তন আসে, সেটিও বুঝতে পারছি। আমার বন্ধুরা বলেছিল, বিয়ের পর বুঝবি, তখন আর প্রেমের গল্প বলতে ইচ্ছা করবে না। কিন্তু আমার সেটা হয়নি, বরং আরো স্নিগ্ধ হয়েছে। আমি বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখছি।’

গল্পের ভাবনা প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, দর্শককে বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি এমন একটি গল্প বলতে হবে, যেখানে সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসবে। সেখান থেকেই এ গল্পের শুরু। আমি চেষ্টা করেছি, গল্পে অতিরিক্ত জটিল কিছু না করতে। বিবাহিত জীবনে একে অন্যের সঙ্গে বোঝাপড়াই আসলে সুখী থাকার অন্যতম বিষয়। ছোট ছোট সন্দেহ, ছোট ছোট সিদ্ধান্ত আমাদের আলাদা করে দেয়। তাই সেটা না করে ভালোবাসার মানুষের যত্ন নিন, তাকে প্রতিদিন ভালোবাসুন।’

হ্যাপিলি ম্যারিডে আরিফিন শুভর সঙ্গে প্রথমবার কাজ করেছেন জাহিদ প্রীতম। এর আগে কেয়া পায়েলের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। দুই অভিনয়শিল্পীকে চরিত্রের জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে বলে জানান নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘কেয়া পায়েলের সঙ্গে আমার এর আগে কাজ হলেও আরিফিন শুভ ভাইয়ের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। তিনি খুবই সহযোগিতাপরায়ণ। অন্যদিকে কেয়া পায়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় এবং অনামিকা চরিত্রটিও এমন। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, সিনেমার এ দুই চরিত্রের জন্য খুবই ভালো কাস্টিং হয়েছে।’

দীর্ঘদিন পর দেশের ওটিটিতে আরিফিন শুভকে নতুন কোনো কনটেন্টে দেখা যাবে। প্রতিটি কাজকেই নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন তিনি। দর্শককে হ্যাপিলি ম্যারিড দেখার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন শুভ।

অন্যদিকে এ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করেছেন কেয়া পায়েল। অভিজ্ঞতাটিকে ভালো সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। গল্প, নির্মাতা জাহিদ প্রীতম, সহশিল্পী আরিফিন শুভ ও চরকি-ছবিয়ালের মতো সংশ্লিষ্টদের কারণে কাজটি তার জন্য বিশেষ বলে জানান অভিনেত্রী।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘সময়োপযোগী ও নতুন ধরনের কাজের ধারাবাহিকতায় হ্যাপিলি ম্যারিডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্লাটফর্মটি। মানুষ চারপাশের নানা বিষয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে অনেক সময় নিজের সময় ও জীবন উপভোগ করতে ভুলে যায়। সিনেমাটি দর্শককে কিছুটা হলেও নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে।’

সিনেমাটির সহপ্রযোজক ছবিয়াল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রযোজক নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন, ‘প্রিমিয়ার শোয়ে দর্শকের যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তাতে মনে হচ্ছে সিনেমাটি অন্যদেরও ভালো লাগবে এবং তারা নিজেদের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে।’

হ্যাপিলি ম্যারিডে আরো অভিনয় করেছেন সালাউদ্দিন লাভলু, তুষার খান, দীপা খন্দকার, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, উম্মে জামিলাতুন নাঈমা, পারভেজ সুমন ও টুইংক ক্যারল। এটি মিনিস্ট্রি অব লাভ (এমওএল) প্রজেক্টের সপ্তম সিনেমা। এর আগে এ প্রকল্পের আওতায় ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ ও ‘ডিমলাইট’ মুক্তি পেয়েছে।

চরকিতে আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কনটেন্ট ‘উনিশ২০’ (২০২৩)। অন্যদিকে হ্যাপিলি ম্যারিড নির্মাতা জাহিদ প্রীতমের দ্বিতীয় ফিল্ম। তার নির্মিত প্রথম ফিল্ম ‘ঘুমপরী’।

আরও