হলিউডে জানুয়ারি-জুন

সিনেমা শুধু টিকেই নেই, বরং ধীরে ধীরে নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

দীর্ঘদিন পর হলিউডে আবারো প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। বক্স অফিসে আয় বেড়েছে। আর সেই সাফল্য শুধু পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ভর নয়। মৌলিক গল্প, স্বাধীন চলচ্চিত্র, হরর, কনসার্ট ফিল্ম থেকে শুরু করে বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা— বিভিন্ন ধারার ছবিই দর্শকদের মন জয় করেছে

বছরের মাত্র অর্ধেক শেষ হয়েছে। তাই ২০২৬ সাল চলচ্চিত্রের জন্য কেমন ছিল— সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সময় আসেনি। তবে প্রথম ছয় মাসের চিত্র বলছে, দীর্ঘদিন পর হলিউডে আবারো প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। বক্স অফিসে আয় বেড়েছে। আর সেই সাফল্য শুধু পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ভর নয়। মৌলিক গল্প, স্বাধীন চলচ্চিত্র, হরর, কনসার্ট ফিল্ম থেকে শুরু করে বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা— বিভিন্ন ধারার ছবিই দর্শকদের মন জয় করেছে।

জানুয়ারি-জুন এ ছয় মাস নিয়ে মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটির প্রধান চলচ্চিত্র সমালোচক ওয়েন গ্লেইবারম্যান ও গাই লজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা ২ ও টয় স্টোরি ৫-এর মতো জনপ্রিয় সিক্যুয়েলের পাশাপাশি ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো মৌলিক হরর চলচ্চিত্রও বক্স অফিসে চমক দেখিয়েছে। আবার কনসার্ট ফিল্ম ‘এপিক: এলভিস প্রিসলি ইন কনসার্ট’ ও ‘বিলি আইলিশ: হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট’ এবং ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ও ‘মাইকেল’-এর মতো বড় বাজেটের ছবিও দর্শক আগ্রহ ধরে রেখেছে।

একই সঙ্গে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রের শক্তিশালী উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব কারণেই ভ্যারাইটির প্রধান দুই চলচ্চিত্র সমালোচক মনে করছেন, সিনেমা শিল্প শুধু টিকে নেই, বরং ধীরে ধীরে নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এবার দেখা যাক তাদের বাছাই করা সিনেমাগুলো—

ব্লু হেরন

কানাডীয় নির্মাতা সোফি রমভারির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ব্লু হেরন’। এক হাঙ্গেরীয় অভিবাসী পরিবারের সংগ্রামের গল্প এটি। ১৯৯০-এর দশকে কানাডায় নতুন জীবন শুরু করতে যায় তারা। কিন্তু মানসিক অসুস্থতায় ভোগা বড় ছেলেকে কেন্দ্র করে পরিবারে তৈরি হয় সংকট, তা ছোট বোনের দৃষ্টিতে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্মৃতিকে কল্পনা ও তথ্যচিত্রধর্মী উপস্থাপনার সঙ্গে মিশিয়ে নির্মিত ছবিটি বছরের অন্যতম আবেগঘন কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এপিক: এলভিস প্রিসলি ইন কনসার্ট

সংরক্ষিত ও নতুনভাবে পুনরুদ্ধার করা ফুটেজ ব্যবহার করেিএলভিস প্রিসলির লাস ভেগাসের পরিবেশনাগুলোকে নতুন রূপে হাজির করেছেন পরিচালক বাজ লুরম্যান। এটি শুধু কনসার্ট ফিল্ম নয়— বরং কিংবদন্তি এ শিল্পীর মঞ্চজাদুকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার অসাধারণ প্রয়াস।

দ্য ইনভাইট

অলিভিয়া ওয়াইল্ড পরিচালিত এ কমেডি-ড্রামা আবর্তিত হয়েছে এক দম্পতির নৈশভোজ ঘিরে। যেখানে সম্পর্ক, আকাঙ্ক্ষা ও বিবাহিত জীবনের জটিলতা ওঠে আসে। সেথ রোজেন, অলিভিয়া ওয়াইল্ড, পেনেলোপে ক্রুজ ও এডওয়ার্ড নর্টনের অভিনয়ে ছবিটি হাস্যরসের পাশাপাশি মানবসম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোও তুলে ধরেছে।

ইজ গড ইজ

নাট্যকার অ্যালেশিয়া হ্যারিস পরিচালিত সিনেমা ‘ইজ গড ইজ’। গল্পে দুই যমজ বোন তাদের নির্যাতক বাবার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে বের হয়। শক্তিশালী অভিনয়, তীক্ষ্ণ সংলাপ ও ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর কারণে ছবিটি স্বাধীন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

অবসেশন

১০ লাখ ডলারেরও কম বাজেটে নির্মিত কারি বার্কারের হরর চলচ্চিত্রটি ২০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে বছরের সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে। একতরফা প্রেম, বিষাক্ত সম্পর্ক, অনলাইন সংস্কৃতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে হরর কাহিনির সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করায় ছবিটি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।

আওয়ার হিরো, বালথাজার

অস্কার বয়সনের ব্যঙ্গধর্মী এ ড্রামায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম আবেগ প্রদর্শনে অভ্যস্ত এক তরুণের গল্প বলা হয়েছে। অনলাইন সংস্কৃতি কীভাবে তরুণদের মানসিক জগৎ ও পরিচয়কে প্রভাবিত করছে, সেটিই ছবিটির মূল বিষয়।

পাওয়ার ব্যালাড

জন কার্নির সংগীতনির্ভর সিনেমাটিতে পল রাড অভিনয় করেছেন এমন এক শিল্পীর চরিত্রে, যার লেখা গান চুরি করে অন্য একজন তারকা হয়ে ওঠে। সংগীত জগতের প্রতিযোগিতা, সৃজনশীলতার মালিকানা ও ব্যক্তিগত স্বপ্নভঙ্গের গল্পকে আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

রোজ অব নেভাডা

মার্ক জেনকিনের এ বিজ্ঞান কল্পকাহিনিতে দুই জেলের রহস্যময় সময়ভ্রমণের গল্প রয়েছে। ১৬ মিলিমিটার ফিল্মে ধারণ করা ছবিটি ভিজ্যুয়াল সৌন্দর্য ও অভিনব কাহিনির জন্য সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সাইলেন্ট ফ্রেন্ড

হাঙ্গেরীয় নির্মাতা ইলডিকো এনিয়েদির চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি গিংকো গাছ ও শতবর্ষজুড়ে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক। একই সঙ্গে টনি লিয়াংয়ের সংযত ও শক্তিশালী অভিনয় ছবিটিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

টয় স্টোরি ৫

প্রযুক্তিনির্ভর খেলনার যুগে কল্পনাশক্তি ও শৈশবের গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যানটন। সমালোচকদের মতে, এটি শুধু সফল সিক্যুয়েল নয়, বরং পুরো ‘টয় স্টোরি’ সিরিজের অন্যতম সেরা অধ্যায়।

ওয়েন গ্লেইবারম্যান ও গাই লজের মতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ প্রমাণ করেছে যে দর্শক শুধু পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজিই নয়, ভালো গল্প ও নতুন ভাবনার চলচ্চিত্রও দেখতে আগ্রহী। স্বাধীন সিনেমা, মৌলিক চিত্রনাট্য এবং সৃজনশীল নির্মাণ যদি একই ধারা বজায় রাখতে পারে, তাহলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আরো সমৃদ্ধ সময় অপেক্ষা করছে।

আরও